একরাতের মধ্যে ভূমি পুত্র থেকে ভূমিহীন! ইতিহাসের পেছনের ইতিহাস কতটুকু জানার চেষ্টা করি আমরা..?

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে প্রচলিত ভূমি আইন “সরকারী অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন-১৯৫০” এর মাধ্যমে নব্য পাকিস্তানী সরকার একরাতের মধ্যে পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদেরকে থেকে তাদের মালিকানা ভূমি গুলো কেড়ে নেয়। এবং সেই থেকে ধারাবাহিককতা থেকে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্হানের উভয় অংশে চলে কিভাবে রাষ্ট্রীয় আইন প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্য ধর্মীয় দর্শনের ভিত্তিতে চিহ্নিত হওয়া একটি গোষ্টিকে (হিন্দু সম্প্রদায়) রুগ্ন করা যায়। অবশ্য সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের পর স্বাধীন বাংলাদেশের কোন সরকার সেধারার ব্যতয় ঘটিয়েছে বলা যাবে না, বরং ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পর জিয়া, এরশাদ, বেগম জিয়া এমন কি বর্তমান সরকারের মধ্যেও এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায় না।


একরাতের মধ্যে ভূমি পুত্র থেকে ভূমিহীন!
ইতিহাসের পেছনের ইতিহাস কতটুকু জানার চেষ্টা করি আমরা..?

কোট: “১৯৪২ এর হিসেবে আমাদের এই পূর্ববঙ্গে মোট হিন্দু ছিলো প্রায় ৩০%, কিন্তু দেশের মোট সম্পদের ৮০% ছিলো হিন্দুদের হাতে। বর্তমান পশ্চিম পাকিস্তানের অবস্থাও ছিলো এই রকম, সেখানে ২০% হিন্দুর হাতে ছিলো প্রায় ৭০% সম্পদ।”

আনকোট: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে প্রচলিত ভূমি আইন “সরকারী অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন-১৯৫০” এর মাধ্যমে নব্য পাকিস্তানী সরকার একরাতের মধ্যে পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদেরকে থেকে তাদের মালিকানা ভূমি গুলো কেড়ে নেয়। এবং সেই থেকে ধারাবাহিককতা থেকে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্হানের উভয় অংশে চলে কিভাবে রাষ্ট্রীয় আইন প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্য ধর্মীয় দর্শনের ভিত্তিতে চিহ্নিত হওয়া একটি গোষ্টিকে (হিন্দু সম্প্রদায়) রুগ্ন করা যায়। অবশ্য সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের পর স্বাধীন বাংলাদেশের কোন সরকার সেধারার ব্যতয় ঘটিয়েছে বলা যাবে না, বরং ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পর জিয়া, এরশাদ, বেগম জিয়া এমন কি বর্তমান সরকারের মধ্যেও এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায় না।

আরো একটা বিষয় দূভাগ্যজনক ভাবে লক্ষনীয় যে, বৃটিশ শাসনামল থেকে পাকিস্তানের সময়কাল পর্যন্ত এদেশে শিক্ষা ব্যবস্হায় তথা শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিল হিন্দু পন্ডিতরা। ধর্মের ভিত্তিতে আবাস স্হল তথা পাকিস্তান সৃষ্টির ধারণা যারা লালন করতেন এবং পাকিস্তান সৃষ্টির পর পাকিস্তান শাসন ব্যবস্হার কেন্দ্র বিন্দুতে যেসব বঙ্গীয় ও পাকি মুসলিমলীগীয় নেতারা ছিলেন, এসব ব্যক্তিবর্গের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় এমনকি উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত লাভ করেছিল অমুসলিম শিক্ষা গুরুদের কাছ থেকে এবং এরা যে সব বড় বড় শিক্ষায়তন পড়েছেন ঐগুলির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন অমুসলিম হিন্দু – যারা ধর্মবর্নের উর্ধ্বে উঠে একটি শিক্ষিত জাতি গঠনের চিন্তা করতেন। অথচ উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ঐসব নেতারা গুরু দক্ষিনা দিয়েছেন হিন্দু পন্ডিতদের বাড়ী থেকে উচ্ছেদের মধ্যে দিয়ে এবং যেসব হিন্দু জমিদাররা বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছিল – তাদেরকে নিঃস্ব করা হয়েছিল রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন-১৯৫০ উপহার দিয়ে। কি বিচিত্র আমরা! প্রজন্মের পর প্রজন্ম ইতিহাস বিমুখতা আমাদের। বিষয়গুলো নিয়ে আমরা একদম চিন্তা করি না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

41 − = 37