প্রসঙ্গঃ প্রভাবশালীর পুত্রদের দ্বারা বনানীর হোটেলে ছাত্রী ধর্ষণ

/ALTERNATES/w300/Safat.jpg” width=”500″ />

ধরেন, আপনি ইউনাইটেড স্টেটস অফ নিউক্যালির মুভি চাটগাইয়া সাবটাইটেল সহকারে উপভোগ করতে গেলেন, কিন্তু আপনি জন্ম থাইকা শুইনা বড় হইছেন প্রমিত বাংলা। আলটিমেটলি প্রায় হিব্রু ক্যাটাগরির ভাষায় যা শুনবেন, অঙ্গভঙ্গিতে যা দেখবেন, সাবটাইটেলে যা পড়বেন, সবকিছু যোগ কইরা আপনি বুঝবেন অর্শ্বডিম্ব, ১৮০ ডিগ্রী বিপরীত কিছু।

ধরেন, আপনি ইউনাইটেড স্টেটস অফ নিউক্যালির মুভি চাটগাইয়া সাবটাইটেল সহকারে উপভোগ করতে গেলেন, কিন্তু আপনি জন্ম থাইকা শুইনা বড় হইছেন প্রমিত বাংলা। আলটিমেটলি প্রায় হিব্রু ক্যাটাগরির ভাষায় যা শুনবেন, অঙ্গভঙ্গিতে যা দেখবেন, সাবটাইটেলে যা পড়বেন, সবকিছু যোগ কইরা আপনি বুঝবেন অর্শ্বডিম্ব, ১৮০ ডিগ্রী বিপরীত কিছু।

/ALTERNATES/w300/Safat.jpg” width=”500″ />

আজকের প্রসঙ্গ, আপন জুয়েলার্সের মালিকের পোলার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। আমার লিস্টের বেশিরভাগই সাফাত আহমেদকে পারলে পুতে ফেলে, আবার কেউ কেউ সন্দিহান, কয়েকজন দেখি সমঝোতাতেই সবকিছু হইছে বলে সাফাই গাইতেছেন। দুইদিন পর ফেসবুকে ঢুকে একটু আউলাইয়াই গেলাম। এই ব্যাপারে প্রথম স্ট্যাটাস দেখলাম একজন বিখ্যাত সাহিত্যিকের, উনার স্ট্যাটাস পড়ে মনে হইলো কিছু একটা হইছে আপন জুয়েলার্সের মালিক আর পোলারে নিয়া, যা সমঝোতার মাধ্যমে যৌনতা সম্পর্কিত। আমার মনে হইছিল সমঝোতাতেই যদি হয়, তাইলে দোষ কই? পরে মানুষের মুহূর্মুহু স্ট্যাটাস প্রতিক্রিয়ায় আরও বিভ্রান্ত হইয়া নিজেই সার্চ মাইরা দেখতে গেলাম পছন্দের বাংলা ট্রিবিউনে।

যাক সেই কথা, দেশে বাক-স্বাধীনতা বিদ্যমান, ক্ষমতা আর অর্থের প্রভাব চলেই না, আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত যা রক্ষায় মহান পুলিশ বাহিনী সদাতৎপর। আর এইসব সম্পর্কে আপনি আবারও নতুন কইরা নিশ্চিত হইতে পারেন কালকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভ্যাব্য বক্তব্যের পর, যদি এই ইস্যুতে আরও তুলকালাম হয় তবে তিনি বক্তব্য দিবেনই, কিংবা আলুপত্রিকার রিপোর্টের পর। কী নিয়া বক্তব্য কিংবা কীসের রিপোর্ট তা নিশ্চয়ই বলা লাগবে না। গত দুইদিনের হটটপিক এই আমিন জুয়েলার্সের মালিকের পোলা সাফাত আহমেদের কথিত কীর্তি নিয়া। অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে দোষী ট্যাগ দেয়াটা উচিত না। কিন্তু এইদেশে অন্তত মেয়েরা প্রভাবশালী কারো বিরুদ্ধে নিজের সম্মানহানির আশংকা জানবার পরেও এমন মামলা করবে না। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হইলো আলুপত্রিকার নীরবতা। যখনই ফেসবুক কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় বইয়া যাওয়ার পরেও আলু পত্রিকা মোটামুটি নীরব থাকে, তখন ধইরাই নেয়া যায় ঘটনা সত্যি এবং বেশ বড় রকমেরই কেলেংকারী। তনুর ধর্ষণ এবং হত্যার মত নানা ঘটনা এর প্রমাণ। আলু পত্রিকা এখনও এই ব্যাপারে মোটামুটি নীরব। টিভি মিডিয়াও এসব নিয়ে সেইভাবে নিউজ করবে না মনে হয় সারাদেশের মানুষ জানবার আগে, ব্যবসা বড় ব্যাপার তাদের জন্য, মুখরোচক হইলে রিপোর্টে যাবে, ঘন্টায় ঘন্টায় আপডেট আসবে।

আপন জুয়েলার্সের মালিকের পোলা আর তার সহচরদের কি কিছু হবে? হইলেও কতটা হবে, কতদিনে হবে সেই প্রশ্ন করবো না, সদুত্তর খোঁজার ঝক্কিতে ঈশ্বরও অপারগতা প্রকাশ করবেন হয়তো। টিপিকাল কিছু দৃশ্য পার হইয়াই এই ঘটনার প্রচার ঘটছে, যেমন হুমকিধামকি, পুলিশের মামলা না নেয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। ভিডিও ধারণ করা হইছে বলে নাকি ভিকটিমরা এতদিন নিশ্চুপ ছিল, বিশ্বাসযোগ্য কথা। আজকালকার ধর্ষকেরা চালাক হয়ে গেছে, লেফট রাইট ক্লিয়ার রাখার মোক্ষম উপায় ভিডিও ধারণ, যা ফাঁস হওয়ার ভয়ে পরে সাধারণত কেউ মুখ খুলে না। আবার ধর্ষকেরা চাইলে পরেও তার ভয় দেখাইয়া ফায়দা নিতে পারে। আর এই ভিডিও নিয়া আতংক এই উপমহাদেশের নারীদের মধ্যে অতিরিক্ত বেশি। মানুষের তীর্যক দৃষ্টি আর কথা সামলানো ভয়াবহ অভিজ্ঞতাই হবার কথা। এই উপমহাদেশের নারীরা এখনও কিম কার্দাশিয়ান না যে ভিডিও ফাঁস হইলে তার জন্য মামলা কইরা টাকা আদায় করবে। যেই ট্রমার ভিতর দিয়ে যাবে তার ধাক্কা সামলানো তাদের সারাজীবনেও হবে না। সে যতই প্রগতিশীল, শিক্ষিতই হোক না কেন, এই উপমহাদেশের নারীদের জিনে আলাদা কিছু আছে যেইটার কারণে তারা শারীরিক শুদ্ধতাকে অন্যরকম দাম দেয়। এ এক আজব ট্যাবু, ভাঙতেও মন চায়, ভাইঙ্গা ধরা খাইলে জীবন যায়। এমনকি বোরখা পরিধানকারী আরব নারীরাও এইসকল ট্যাবু মুক্ত। ধর্ষিতা নারী কিংবা একের অধিক বিয়ে করা নারীর আবার বিয়ে আগে বিবাহিত ছিল এই ধোঁয়া তুইলা আটকায় বলে জানা নাই। কয়দিন আগে দেখলাম আইএস এর হাতে আটকা পড়া এক আলজেরিয়ান নারী ২ বছরে তিনজন আইএস সদস্যকে বিয়ে করছেন। এরমধ্যে একজনকে তার ভালোমানুষ বলেও মনে হইছে। আমাদের দেশের কোন নারী ওই অভিজ্ঞতা নিয়া দেশে ফিরলে তার কী হইতো আন্দাজ করবার দুঃসাহস করলাম না। অভিনেত্রী প্রভাকে এই ব্যাপারে আমি সম্মান করি। উনি যা সামলাইছেন তা এইদেশের অনেক মুক্তমনা, নারীবাদি অগ্নিকন্যাও পারতো না।

আপন জুয়েলার্সের মালিকদের একজন যা বলছেন তা প্রমাণ করে কিছু তো হইছিলই। উন্নত নৈতিক শিক্ষা দিছেন উনি তার সন্তানদের। এই ব্যাপারে আমি কিছু বলব না, আমার পোস্ট উনারা পড়েন না। আসামীদের একজনের পিতা বলছেন ডিএনএ টেস্টে আলামত না পাওয়া গেলে মানহানির মামলা করবেন উনি, ব্যারিস্টার নিয়োগ দিচ্ছেন। আমি জানিনা কতদিন পর্যন্ত ডিএনএ আলামত থাকে এইরকম ঘটনায়। আলামত যাতে নষ্ট না হয় এইজন্য ধর্ষণের ঘটোনায় দ্রুত মেডিকেল পরীক্ষা আর আলামত সংরক্ষণ করা হয়। আর এই মেয়েদুটা মুখ খুলছে বহুদিন পর। আমি মামলায় হারবারই সম্ভাবনা দেখি বেশি। এইকথাও থাক, পরের ব্যাপার পরে, বেশিরভাগ মানুষই অবশ্য এইটা নিয়া সরব না যে ধর্ষকদের আরেকজন প্রভাবশালী এক নেতার পোলা। এই দুই মেয়েকে নাকি ইনভাইটও করে তাদের আরেক বন্ধু। বন্ধু যাদের বলে, সেই বন্ধুরা আসলে বন্ধু হয় কতদিনে আজকালকার পোলাপানের কিংবা এই বন্ধুত্বের গ্রুমিং প্রসেসটা কেমন তাও জানবার ইচ্ছা।

যাইহোক, এই ব্যাপারে ঝড় চলবেই, কারণ এই ঘটনার সকল চরিত্রের গ্লামার ভ্যালু আছে। ভিকটিমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, আসামীরা প্রভাবশালীর পোলা, মানুষ দাম বেশি দিবেই। কিন্তু কয়দিন আগে যে মেয়ে আর পিতা মৃত্যুকে বেছে নিলেন সেটা আমার কাছে বেশি হৃদয়বিদারক। এটা সেই অবস্থারই প্রমাণ দেয় যে, অশুভ ব্যাপারগুলা কেবল উচ্চবিত্ত বা অর্থবানদের মধ্যেই না, সমাজের সকল স্তরেই ছড়ানো। প্রতিটা সন্তানের বাবামায়ের নজরে থেকে, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে বেড়ে ওঠা জরুরী। কিন্তু বাবা-মার সময় কোথায়, নিজেরাই ঠিক আছেন নাকি কে জানে। জন্মের পর একটা শিশু কাদামাটির মত, তাকে যেভাবে ইচ্ছা গড়া যায়। পৃথিবীর সসবটুকু ভাল তাকে শেখানো সম্ভব যা তার স্বভাবগত খারাপ দিকগুলোকে দমিয়ে রাখতে পারে। কি করা উচিত, কার সাথে চলা উচিত সবকিছুর সিদ্ধান্ত আরও পরিণত হতে পারে। হয়না বা হচ্ছে না এই দোষ বাবামায়ের উপরেও যায়। অবস্থা মনে হয় খুব বেশি ভালোর দিকে যাচ্ছেনা আজকাল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 8