জঙ্গীবাদের বিশ্বায়ণ ও বাংলাদেশে এর অবস্থান

আর্যাবর্তের অতিপ্রাচীন ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় রাজারা রাজ্য শাসণ করেছেন, আর রাজাদের শাসন ও নিয়ন্ত্রণ করতো ধর্মীয় পুরোহিত বা ধর্মীয় নেতারা। আর্যাবর্ত তথা ভারতের বাইরেও একই ধরনের ইতিহাস দেখতে পাওয়া যাবে। বিজ্ঞানী ল্যাভশিয়ে, দার্শনিক সক্রেটিস এদেরকে হত্যা করা হয়েছিল ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের দ্বারা রাজাকে প্ররোচিত করে রাজ আদেশে। আবার ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের প্রভাবে অনেক সৃষ্টিশীল কাজ হয়েছে – যা অশ্বীকার করার সুযোগ থাকে না। সুতরাং ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তথা তাদের দ্বারা পরিচালিত উপাসনালয়ের ভূমিকা তথা মানুষের মনস্ত্ব নিয়ন্ত্রন করা ক্ষমতা অপরিসীম।


জঙ্গীবাদের বিশ্বায়ণ ও বাংলাদেশে এর অবস্থান

১ মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী খুন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথাঃ
চ্যানেল আইয়ের ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্হাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে নিজ বাসায় দুবৃত্তরা জবাই করে হত্যা করেছে জঙ্গী দূর্বৃত্তরা। তিনি একজন জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব ছিলেন । অনেকের মত আমারও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় ইসলামী অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় উপস্থাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী সত্যিকারে আর বেঁচে নেই এবং তিনি একজন ধার্মিক ইসলামী চিন্তাবিদ হয়েও স্বাভাবিক মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করে যেতে পারলেন না বরং কোন জঙ্গী গোষ্টির হাতের শানিত অস্রে জবাই হলেন।

মাওলানা নূরুল ইসরাম ফারুকী যখন খুন হলেন এর ঠিক এক বছর আগে (২০১৩) পবিত্র রমযান মাসে ঢাকার গোপীবাগে একই কায়দায় নিজ বাসায় কথিত একজন পীরকে তাঁর ৬জন মুরীদ সহ জবাই করে হত্যা করা। পত্রিকা সূত্রে জানা যায় ঐপীর সাহেব একসময় নিজেকে ঈমাম মেহেদী বলে দাবী করতেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগ এজন্য যে তিনি ও তাঁর মুরীদরা নামায আদায় করা সহ ইসলাম ধর্মীয় রীতি নীতি নিজের মতো করে পালন করতেন, যা অন্যান্যদের সাথে মিল ছিল না। এর কারণে বাংলাদেশে বেশীর ভাগ মুসলিম জনগোষ্টি তথা মূল ভাবধারার ইসলামী বিশ্বাসীদের নিকট হারাম বা বাতিল বলে বিবেচিত ছিল । পত্রপত্রিকা সূত্রে জানা যায় মূলতঃ একারনেই গোপীবাগের পীর সাহের তার মুরীদ সমতে খুন হয়।

ইসলাম ধর্মে কি আছে কি নেই, এতর্কে যাওয়া একজন অমুসলিমের কাছে বাচালতা মাত্র। তবে সকলে এটুকু বুঝতে অক্ষম নয় যে, এক বছর আগে গোপীবাগের হত্যাকান্ডের ধরন আর চ্যালেন আই এর ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্হাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীর হত্যাকান্ড একই সূত্রে গাঁথা ছিল। অর্থাৎ পবিত্র রমযান মাসে গোপীবাগে মুরীদ সহ পীরের হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে কথিত পীরের নিজস্ব ধর্মাচার যাদের নিকট পছন্দ হয়নি তাদের দ্বারা। অন্যদিকে মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী একজন প্রথিতযশা এবং অত্যন্ত পরিচিত মিড়িয়া ব্যক্তিত্ব হয়েও ইসলাম ধর্ম বিষয়ে তাঁর চিন্তা ও দর্শন অন্যদেরকে আহত করেছে বলেই এমন ঘটতে পারে বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। অর্থাৎ উভয়ে গোপীবাগের ২০১৩ সালের মুরীদ সহ কথিত পীর সাহেবের হত্যাকান্ড ও মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী উভয়ে নিজেরা নিজেদেরকে মুসুলমান এবং ইসলামী ভাবধারার মানুষ বা চিন্তাবিদ মনে করলেও কিংবা তাঁদের যথেষ্ট পরিচিত ও মুরীদ থাকা সত্বেও খুনীদের নিকট খুন হওয়া দু’জনই মুসুলমান মনে হয়নি, বরং ওরা ছিল মুসুমালও ইসলামে জন্য ক্ষতিকর।

আন্তর্জাতিক মিড়িয়া কিংবা আমাদের দেশীয় মিড়িয়া মোটামুটি প্রতিদিনই বাংলাদেশের জঙ্গীবাদের বিভিন্ন খরব প্রকাশিত হয় । ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান সহ প্রায় ১০০ ভাগ মুসলিম দেশে শিয়া-সুন্নি-কুর্দি সহ নানা সমস্যা লেগেই আছে – তা বহু যুগ আগে থেকে। এককথায় বলা যায় সারাবিশ্বে এখন এক ভয়ংকর জ্বরে কাঁপছে, আর সেটি হলো ধর্মের নামে মানুষ খুন বা জঙ্গীবাদ। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার আফগানিস্তান, পাকিস্তান কোথায় নেই এর ভযংকর খাবা। খোদ ব্রিটেন সহ ইউরোপিয় দেশগুলো, বিশ্ব মোড়ল আমেরিকাও জঙ্গীবাদের ভয়ে কাঁপছে। কেননা ব্রিটেনসহ ইউরোপীয় কিছু দেশ, ও আমেরিকা থেকেও তাদের যুবকরা নিজ দেশের আয়েশী জীবন ও প্রাচুর্য্য পেছনে ফেলে কিসের নেশায় মত্ত হয়ে সিরিয়া ও ইরাকে পাড়ি জমিয়েছে আইসিস এ যোগদেবার জন্য ? কিশের নেশায় এরা তাদের স্বদেশী সাংবাদিক, কিংবা যো্দ্ধার গলা কেটে হত্যা করছিল? এর সঠিক কারণ সম্ভবতঃ ঐসব উন্নত বিশ্বের সমাজ বিজ্ঞানীদের কাছেও নেই। একারণেই চীন সহ কিছু অমুসলিম দেশ তাদের নিজ দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ঠেকাতে আগাম কিছু পরিকল্পনাসহ প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করে রেখেছে। যেমন – এঙ্গোলা, চায়না একটি বিশেষ ধর্মে সার্বিক কার্যক্রম ইতিমধ্যে আইন করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে যারা মনে করেন ইসলাম ধর্মীয় উগ্র ধারনার জঙ্গীবাদের বিশ্বায়নে সুফীবাদের দেশ বাংলাদেশে এর অস্থিত্ব নেই কিংবা পিছিয়ে – এমন ধারনা করা সম্পূর্ণ ভুল। যদি পিছিয়েই থাকবে তবে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে মাঝে মাঝে ইরাক ও সিয়িরায় সুন্নী জঙ্গীদের আদলে জবাই করে হত্যার সংবাদ মাধ্যমে দেখতে হয় কেন? যদি পিছনে থাকে তাহলে প্রায় প্রতিদিনই আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে বাংলাদেশে অমুসলিমদের বাড়ী স্থাপনায় হামলা, বসত বাড়ী থেকে উচ্ছেদ, অগ্নি সংযোগের সংবাদ পেতে হয় কেন?

জঙ্গীবাদ বলতে যা বুঝায় তাহলো অন্য মতাদর্শকে সমূলে নিমূল করা এবং নিজের মতো করে মতাদর্শকে জোর করে বাস্তবায়ন করার প্রচেষ্টাকে বুঝায়। বাংলাদেশে মতাদর্শ চাপিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা নেই কিংবা ধর্মীয় জঙ্গীবাদের অবস্থান নেই এটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। দেশের সমাজ বিজ্ঞানী ও মনস্তত্বত্ববিদরা একবাক্যে স্বীকার করবেন যে বাংলাদেশ শুধুমাত্র জঙ্গীবাদের ঝুঁকিতে নয়, বরঞ্চ এখানে ধর্মের নামে জঙ্গীবাদ চলছে সম্পূর্ণ নতুন মডেলে নতুন মোড়কে। এখানকার জঙ্গীবাদের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। এরফলে মূলতঃ এমন কোন দিন নেই যেদিন খবর পাওয়া যাবে না দেশের কোন না কোন অঞ্চলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তথা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্নেধ ফৌজদারী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে না এবং এসব গুলি সবই ঘটছে উগ্রধর্মীয় মতবাদের কারণে। যদিও প্রতিদিনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এসব ঘটনাকে দেশের রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ ধর্মীয় জঙ্গীবাদ না বলে বিছিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা বলে উঠিয়ে দেয় মাত্র।
চলবে…..চিত্রগুপ্ত, ২৯.৮.১৪ইং

২ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী অপরাধ ও ধর্মীয় মতাদর্শ প্রচারে সাংগঠনিক কার্যক্রম
অনলাইন নিউজ সূত্রে জানতে পারলাম কিছুদিন আগে রাজধানীর রেডিসন হোটেলের লহরী হলে বাংলাদেশ সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত ‘জঙ্গিবাদের হুমকি: বাংলাদেশের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা উঠে এসেছে বাংলাদেশ হরকাতুল জিহাদ, হিজবুত তাহরীর, জামাতুল মুজাহিদিনসহ বাংলাদেশে মোট ৪০টির মত জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। জঙ্গিবাদের কারণে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ২২ হাজার ৭শ’ জনের মৃত্যু হয়েছে, হিন্দুদের ৩০০টি মন্দির ৫০০টি বাড়ি এবং ২০০ দোকান ভাংচুর করেছে তারা। সভায় আলোচকরা বলেছেন – জঙ্গিবাদ দেশের মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে। জঙ্গিবাদ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তথাকথিত জিহাদ ও খিলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ধর্মের নামে ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের মতো ইসলামী দেশগুলোতে জঙ্গিবাদ চলছে। জঙ্গীবাদ র্শীর্ষক এ আলোচনার সূত্র ধরে যে কেহ হয়তো বলবেন বাংলাদেশ বাংলাদেশই, এটা কখনোই, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরাক কিংবা সিরিয়ার মতো হবে না কিংবা হবার সম্ভাবনা নেই। কিংবা ঐরকম হতে যাবে কেন? কথাটা সত্যি এজন্য যে ঐসব দেশের জঙ্গীবাদের রুপ আর বাংলাদেশের জঙ্গীবাদের রুপ সম্পূর্ণ আলাদা। তবে এক না হলে সকল ক্ষেত্রের জঙ্গীবাদের উৎস, যোগসূত্র এরং এর পরিনাম কিন্তু একই হয় ।

২০১২ সালের ২৮শে ফ্রেরুয়ারী মাওলানার সাঈদী রায় ঘোষিত হবার পরবর্তী যে তান্ডব হয়েছে, কিংবা ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমানার অজুহাতে রামু সহ সমগ্র দক্ষিন চট্রগ্রামে সর্বস্তরের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর যে তান্ডব হয়েছে, কিংবা গেলো জানুয়ারীতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোরের মালোপাড়া, রংপুর দিনাজপুরে যা হয়েছে- এসব ঘটনা গুলিকে আমাদের দেশের সবকটি রাজনৈতিক দল, সরকার, ও মডারেট সুশীল সমাজ তাদের বক্তৃতা বিবৃতিতে ধর্মীয় জঙ্গীবাদের অংশ হিসাবে ঘটনা গুলি বিবেচনায় না এনে বরং কখনো দেখেছে রাজনৈতিক ঘটনার ঘাত প্রতিঘাত হিসাবে, আবার কখনো বা ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের বিপরীতে মৃদু প্রতিক্রিয়া হিসাবে।

২০১৩ সালের মে মাসে হঠাৎ করে আত্মপ্রকাশ করে হেফাজত-ই-ইসলাম নামে অরাজনৈতেক ধর্মীয় সংঘটনের। ঘটনা প্রবাহে যতটুকু অনুধাবন করা গেছে, প্রথমে সরকার সংগঠিত এ শক্তিকে নিজেদের আওতায় এনে বিরোধী জোটের একই ধাঁচের শক্তির বিপক্ষে কাজে লাগাতে চেষ্টা করেছে। একই দৌড়ে জাতীয়পাটির এরশাদ ও তার দল রাস্তা রাস্তা হেফাজতকে পানি খাইয়ে দোয়া চেয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় জোটের নেতারা রীতিমত হেফাজতের মঞ্চে উঠে বসেছে। ক্ষমতাশীন সরকার ততক্ষণ পর্যন্ত হেফাজতকে ধর্মীয় উগ্র জঙ্গীবাদী শক্তি মনে করেনি, যতক্ষণ পর্যণ্ত চেষ্টা করেছে ঐশক্তিকে তাদের নিজেদের অনুকুলে ব্যবহারের সুযোগ আছে। আমরা ধরে নিতে পারি, ক্ষমতাশীন আওয়ামী সরকারের যখনি মনে হয়েছে বিরোধী জোট রীতিমতো হেফাজতের মঞ্চ দখল নিয়েছে বা করেছে এবং হেফাজত-ই-ইসলাম তার আসল চেহারা প্রদর্শন করে রীতিমত তালিবানী কায়দায় তান্ডব করে সব কিছু লন্ড ভন্ড করে দিচেছ এবং সরকারের জন্য হুমকীর কারন হয়েছে তখনই হেফাজতকে জঙ্গীবাদী শক্তি মনে করে রোগীর টিউমার অপারেশনের মতো ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে।

আসলে বাংলাদেশের ধর্মীয় জঙ্গীবাদ আন্তর্জাতিক জঙ্গীবাদের অংশ যেমন ঠিক, তেমনি এটির লালিত পালিত হচ্ছে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির উপর। আর বাংলাদেশে ধর্মীয় জঙ্গীবাদের সুতিকার প্রতিস্ঠান গুলি্ই হলো বহু মাধ্যম ব্যবস্থায়। যেমনঃ-
(১) ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,
(২) ধর্মীয় উপাসনালয়,
(৩) এনজিও, ও পরিশেষে
(৪) রাজনৈতিক দল গুলির মৌনতা এবং সহযোগীতা ।
……..চিত্রগুপ্ত, ৩০/০৮/২০১৪

৩ বাংলাদেশের প্রচার মাধ্যমে এসংক্রা্ন্ত আলোচনা
বাংলাদেশে সরকারী কিংবা বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল গুলোতে প্রতিদিনই টক শো নামের গুরুগম্ভীর আলোচনা অনুষ্ঠান দেখা যায়। গত ১৭ অগাষ্ট ২০১৪ইং এর পরের কোন একদিন বেসরকারী চ্যালেন মাচরাঙ্গা টেলিভিশনে “মুসলিম বিশ্বে জঙ্গীবাদ, বাংলাদেশের অবস্থান” নামক শিরোনামে টক করা হয়েছে। ঐঅনুষ্ঠনে ইংরেজী দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন এর সিনিয়র সাংবাদিক জুলফিকার আলী মানিক, ও ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটির রেজিষ্টার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমডোর (অবঃ) ইসফাক ইলাহী আলোচনায় অংশ গ্রহন করেছিলেন। এযাবতকালে যত টকশো আমি দেখেছি, আমার দেখা এটি সর্বাধিক সত্য কথন সমৃদ্ধ, প্রানবন্ত, বস্তুনিষ্ঠ ও গুরুত্ত পূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠান মনে হল। ঐঅনুষ্ঠানে এক অতিথী বলেছেন বাংলাদেশের এঅঞ্চলে সাম্প্রদায়িক আক্রমন হয়েছিল ১৯৪৭ সালে ও ১৯৬২ সালে। ঐ সময় মুসলিম করতো এমন গুটি কয়েক কট্টর আর বিহারীরা হিন্দুদের আগ্রমন করতো। অনেক প্রতিবেশী মুসুলমান তখন বিপদাপন্ন হিন্দুদের রক্ষায় এগিয়ে আসতো। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও দেশের বহু স্থানে পাকিস্তানী মিলিটারী আর এদেশী রাজাকারদের হাত থেকে হিন্দুদের রক্ষা করতে প্রতিবেশী মুসুলমানরা ভুমিকা রেখেছে। অথচ স্বাধীনতা পরবর্তী অসাম্প্রদায়িক(!) বাংলাদেশে প্রতিবেশীরাই হিন্দু বাড়ী আক্রমন করার খবর আসছে এবং এর গুলো বাংলাদেশের ধর্মীয় কারণেই সংঘঠিত হয়- যেগুলিকে ধর্মীয় জঙ্গীবাদের অংশ না ভাবার কোন কারণ থাকে না। …চিত্রগুপ্ত, ০১/০৯/২০১৪

৪ ধর্মীয় জঙ্গীবাদ সৃষ্টির প্রথম সুতিকার প্রতিস্ঠান হিসাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি্র অবদান বা ভূমিকাঃ
এক সময় ছিলো ভারতবর্ষের শিশু শিক্ষা কাযক্রম শুরু হতো গুরুগৃহ তথা টোল প্রথা হতে। ১৯৪৭ পরবর্তী আস্তে আস্তে হিন্দুদের টোল প্রথা বিলুপ্ত ঘটে এবং তস্থলে ইসলাম আগমন পরবর্তী হিন্দুদের টোলের আদলে মক্তব প্রথার চালু হয়। মূলতঃ ধর্মীয় শিক্ষার ভিত্তিটা দরিদ্র পরিবারের জন্য মক্তব কিংবা আর্থিক সামথ্য/বিত্তবারদের বাসায় হুজুর এসে আলিমপারা অক্ষর জ্ঞান দেবার মাধ্যমে শিক্ষা শুরু হয়। এর পরপরই আছে মাদ্রাসা, তাও ইফতেদায়ী, কওমী নানা ধরনের। এসব মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। সেই সাথে সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে একশত নম্বরের ধর্মীয় শিক্ষা, যা প্রাথমিক হতে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত । উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় হতে পোষ্ট গ্রাজুয়েশন পযৃন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য আছে আলাদা বিভাগ। আছে ধর্ম ভিত্তিক ইতিহাস। যেখানে শুধু ধর্ম বা গোষ্টি ভিত্তিক চিন্তার কারণে লুটেরা দূশ্যদের বীর হিসাবে উত্থাপন করা হয়েছে আবার একই কারনে শৌয্য বীর্যবান বীরদের হীন, ভীরু, কাপুরুষ হিসাবে উত্থাপন করা হয়েছে। মূলতঃ আমাদের শিক্ষাথীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এভাবে শিখে এসেছে। শুধু বাংলাদেশের এঅঞ্চলেই বিগত ৫ দশকের অধিককাল এ ধারা অব্যাহত আছে এবং এরাই আবার পরম্পরা ধারা বজায় রেখে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, গবেষনায় অংশ গ্রহন করে একই ধারার অব্যাহত রেখে প্রজম্নের পর প্রজন্ম সৃষ্টি করেছে। একারণেই এখন আর শুধু মাদ্রাসায় আরবী, ফার্সী পড়ুয়া হুজুরাই বিধর্মী, কাফিরদের বিনাশের ধারনা মাথায় রাখেন না। বরং দেশের সর্বোচ্ছ বিদ্যাপীট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, চুয়েট, সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর বিদ্যাপীটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জঙ্গী সংশ্লিষ্ঠতা খবর পাওয়া যায়। এবং যারা জঙ্গীপনা জড়িত নয় – ধর্মীয় বিধান মেনে জীবন ধারণ মেনে চলার অভ্যাস করেন- এরা কম বেশী হিন্দু তথা অমুসলিম বিদ্বেষী হন। মূলতঃ এসব কারনেই মেধার ভিত্তিতে স্কলারশীপ নিয়ে ইংল্যান্ড আমেরিকার মুক্ত পরিবেশে অবস্থান করে এবং মুক্তপরিবেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হয়েও জঙ্গী সংশ্লিষ্ঠায় জড়িয়ে পড়ে এবং প্রবাসে গ্রেফতার হয়।

মাত্রগর্ভ হতে কেহ জঙ্গী বা উগ্রবাদী হিসাবে জন্ম গ্রহন করে না। ধর্ম শিক্ষা বা নীতি শিক্ষার নামে মক্তব, গৃহে নিয়োগকৃত হুজুর, বহু নামের মাদ্রাসা, সাধারণ শিক্ষার সাথে ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্মীয় বিষয় গুলি যদি মানুষে মানুষে বিভেদ করতে শেখানো হয়, যদি শেখায় ধর্মের নামে নিজেকে উৎসর্গ করা, কিংবা ধর্মের নামে ভিন্ন মতবাদের কাউকে আঘাত করা অন্যায় নয়, বরং মরার পর বেহেস্ত লাভের উপায় হয় এবং স্ব-বিশ্বাসের ভিত্তির অংশ হিসাবে একজন শিশু যদি তার শিক্ষা কার্যক্রম শুরু পর থেকে এটি ধারাবাহিক ভাবে শিখতে থাকে – তাহলে পরিনত বয়সে কর্মক্ষম যুবকের কাছে এর ভয়াবহ পরিনাম ছাড়া অন্য কিছু প্রত্যাশা করা অবান্তর মাত্র।

মুসলিম দেশের মক্তবে পড়ুয়া শিশুটি জানে কাফির কাকে বলে, তেমনি মাধ্যমিক পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থী জানতে পারে কাফির নামে ভিন্ন মতাবলম্বীদের সাথে কিরুপ ব্যবহার করতে হবে, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বা শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে সমাজ কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে অবদান রাখতে তখন সমস্যাটা আরো চরম আকার ধারণ করতে বাধ্য। এসময় শুধু অমুসলিমরাই কাফির, মুসরিক বা পৌত্যলিক হন না, বরং তিনি যে চিন্তা বা দর্শন ধারণ ও লালন করে, অন্যের দ্বারা এর ব্যতয় ঘটলে বেদাত কিংবা শেরেকী কিংবা বাতিল ইত্যাদি শব্দে ধর্মের নামে ফতোয়া দিতে কুষ্ঠা বোধ করেন না। এরফলে যা হবার তাই হয়। ব্যাপারটা সংক্ষেপে বলতে গেল বলতে হবে একটি শিশু সমবয়েসী প্রতিবেশী হিন্দু শিশুদের প্রতি আধো আধো ভাষায় ইন্দু নাস্তিক দিয়ে মনস্ত্বত্বাতিক বিভাজনের যাত্রা শুরু করে, আর অতিসম্প্রতি খুন হওয়া চ্যানেল আইয়ের ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্হাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী কিংবা ২০১৩ সালের গোপীবাগের ঈমাম মেহেদী দাবীদারের গলা কেটে সুসম্পন্ন করে। ……চিত্রগুপ্ত, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪।

৫ ধর্মীয় জঙ্গীবাদ সৃষ্টিতে উপাসনালয়ের ভূমিকা বা অবদানঃ-
আর্যাবর্তের অতিপ্রাচীন ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় রাজারা রাজ্য শাসণ করেছেন, আর রাজাদের শাসন ও নিয়ন্ত্রণ করতো ধর্মীয় পুরোহিত বা ধর্মীয় নেতারা। আর্যাবর্ত তথা ভারতের বাইরেও একই ধরনের ইতিহাস দেখতে পাওয়া যাবে। বিজ্ঞানী ল্যাভশিয়ে, দার্শনিক সক্রেটিস এদেরকে হত্যা করা হয়েছিল ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের দ্বারা রাজাকে প্ররোচিত করে রাজ আদেশে। আবার ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের প্রভাবে অনেক সৃষ্টিশীল কাজ হয়েছে – যা অশ্বীকার করার সুযোগ থাকে না। সুতরাং ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তথা তাদের দ্বারা পরিচালিত উপাশনালয়ের ভূমিকা তথা মানুষের মনস্ত্ব নিয়ন্ত্রন করা ক্ষমতা অপরিসীম।

কিছুদিন আগের এক তথ্যসূত্রে জানতে পারলাম বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা ৩ লক্ষের অধিক। এরমধ্যে ঢাকা শহরে মসজিদের সংখ্যা বেশী। তবে বাংলাদেশের আয়তনের সাথে মোট মসজিদের সংখ্যার সংখ্যানুপাত করলে দেখা যাবে গড়ে প্রতি আধা বর্গকিলোমিটার দূরত্বে একটি করে মসজিদের অবস্থান। প্রায় প্রত্যেকটা মসজিদের কম বেশী সাউন্ট সিস্টেম সংযোজন করা আছে বিধায় আধাকিলোমিটার দূরত্বে এক মসজিদের আযানের শব্দ অন্য মসজিদের অবস্থান ভেদ করতে অসুবিধে হয় না। একারণে আযানের সময় এখন আর কবির ভাষায় “সুমধুর আযানের ধ্বনি” হিসাবে শোনা যায় না, বরং আযানের সময় নানা দিক থেকে একই ধরনের শব্দের যাতাযাতি একধরনে শব্দজট বিরুক্তির কারণ হয়ে উঠে। আযানের শব্দজটে এখন আর প্রান ব্যকুল হয় না, বরং শব্দজটে অসুস্থরোগীরা কানে হাত ছাপা দেয়। আবার ধমনি নাচে না, বরং সাধারণ, নিরীহ গোছের মানুষটা ভীত সন্ততষ্ঠ হয়ে উঠে। যদিও কবি কায়োকোবাদের কবিতায় পড়েছিলাম “কে ঐ শোনালো মোরে আযাদের ধ্বনি, ব্যকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনি”।

সেই সাতচল্লিশের দাঙ্গা বলুন, কিংবা স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বলুন,, ৯২ সালের বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার প্রতিক্রিয়া বলুন, কিংবা ২০০১ এর চারদলী জোটের নির্বাচনের মাধ্যমে সোনার বাংলা দখলের বিজয়োল্লাস বলুন, সাঈদী সাহেবের রায় ঘোষিত হবার পর জামাত-শিবিরের বিক্ষোভ(!) বলুন, বা সাঈদী সাহেবেকে চাঁদে দেখা গেছে আধ্যাত্বিক আনন্দ প্রকাশ বলুন, নিকট অতীতে হেফাজতে ইসলামের ইসলাম রক্ষায় মতিঝিলের লক্ষ গণজমায়েত বলুন কিংবা হেফাজতি তান্ডবে সরকার উচ্ছেদের প্রানান্ত প্রচষ্টা বলুন – প্রায় সর্বক্ষেত্রে আযানের সেই আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়েই শুরু করা হয়। এছাড়াও ইউটিউবে ইরাক কিংবা সিরিয়ায় আইসিস কর্তৃক ভিন্ন মতাবলম্বীদের গলা কাটার দৃশ্যেই আল্লাহু আকবর আযানের ধ্বনি ব্যবহার হচ্ছে। বোকো হারাম তিনশত খ্রিষ্টান মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে বিক্রয় করার কথা সংবাদ মাধ্যমে জানলাম –সেখানেও আল্লাহুআকবর দিয়ে করা হয়েছে। এসকল কারণে কবি কায়োকোবাদের আযানে ধ্বনি এখন আর সুমধুর ধ্বনি নয়, বরং শব্দজটের পাশাপাশি কখনো কখনো মানুষের মাঝে আতংক কিঙবা ভীতিকর ধবনি হিসাবে অবস্থান সৃস্টি করছে।

এপর্বে আমার লেখার প্রতিপাদ্য বিষয় আযানের মাধ্যমে শব্দজট কিংবা সুমধুর বা ভীতিকর ধ্বনি সৃষ্টির বিষয়ে নয়, বরং জঙ্গীবাদ সৃষ্টিতে ধর্মীয় উপাশনালয়ে ভূমিকা নিয়ে।

আমরা জানি প্রতিটি ধর্মের ভিন্ন ভিন্ন উপাসনালয় আছে এবং এসব উপাসনালয়ে স্ব স্ব ধর্মের অনুসারীরা প্রার্থনার উদ্দেশ্যে যেয়ে থাকেন। তবে অন্য সব ধর্মালম্বীদের চাইতে ইসলাম ধর্মাবল্বীরা তাদের উপাসনালয়ে একটু বেশী যাতায়াত করেন। কেননা প্রতিদিন ৫ বার নামায আদায় করার মতো বাধ্যতামূলক বিধান অন্য ধর্মাবলম্বীরদের মধ্যে পাওযা যাবে না। একারণে আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থায় ভাল কিংবা মন্দ প্রভাব এঅবস্থান থেকেই বেশী পড়তে বাধ্য। কেননা আল্লাহর সন্তুষ্ঠি লাভের জন্য প্রতিদিন সাধারণ মুসলিমরা মসজিদের নামায আদায় করতে যায় । এবং সে প্রার্থনালয়ে আল্লাহর নামে যে বানী ঈমাম সাহেব সমবেত মানুষের উদ্দেশ্যে বলবেন এবং তা ধারাবাহিক ভাবে শোনার পর সমবেত মানুষ গুলোর উপর এর মনস্তত্বাত্বিক প্রভাব পড়তে বাধ্য। এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র মুসলিম প্রধান দেশ গুলোর জন্য প্রযোজ্য। সুতরাং এ প্রার্থণা গৃহে নামাজের পর মসজিদে মসজিদের ঈমাম সাহেব কর্তৃক যে খুদবা পাঠ করা হয়, কিংবা এসব ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যবস্থাপনায় বাৎরিক কিংবা বিশেষ দিনে যে সকল ওয়াজ মাহফিল, জলসা জুলুস হয় এর সরাসরি প্রভাব সমাজের সকল স্তরে পড়তে বাধ্য এবং সেটি ইতিবাচক হোক বা নেতিবাচক হোক।

বাংলাদেশ সহ ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, কিংবা মধ্যপ্রচ্যের দেশ গুলোতে যে সকল প্রকার জঙ্গীপনা বা জঙ্গীপনার সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষ গুলো নাম সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে এরা সকলেই কিংবা তাদের আধ্যাত্বিক গুরু ধর্মীয প্রার্থনালয়ের প্রধান ব্যক্তিত্বরাই। সুতরাং যদি দেশের জঙ্গীবাদ ভবিষ্যতের জন্য রোধ করতে হয়, তাহলে সকল প্রার্থনালয়ের প্রধানদের চিন্তা চেতনার পরিবর্তন আনতে হবে। সম্ভবতঃ এটি নানা কারণেই সম্ভব নয় বিধায় আমাদের যাত্রা এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে। (চলবে)…… চিত্রগুপ্ত, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪।

৬ এনজিও এর মাধ্যমে ধর্মীয় মতবাদের বিপনন ও ধর্মান্তরকরণঃ
তিন অক্ষরের একটি শব্দ এনজিও। এশব্দটির সাথে কম বেশী দেশের সকল আপামর মানুষ পরিচিত। নন গর্ভমেন্ট অগানাইজেশন (এনজিও) গরীব দেশ গুলোতে দরিদ্র জনগোষ্টির জীবনমান তথা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করে । এনজিও গুলো সাধারণতঃ উন্নত তথা ধনী দেশ থেকে অর্থ সাহায্য এনে শূণ্য হার সুদে আবার কখনো নামমাত্র সুদে গরীব জনগোষ্টির মাঝে অর্থ ঋণ সাহায্য দিয়ে দেশের অজ পাড়াগায়ে কাজ করছে – এগুলোই আমরা বেশী জানি। কিন্তু জানি না, শষ্যের মধ্যে ভুত আছে – এমন প্রচলিত প্রবচনের মতো এনজিও গুলো ধর্মান্তর ও জঙ্গীবাদ সৃষ্টিতে ব্যাপক ভুমিকা রেখেছে দশকের পর দশক। ধর্মান্তর ও জঙ্গীবাদ এগুলো দুধরেনের কাজে দুটি ধর্মের এনজিও আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করেছে। অতি সংক্ষেপিত লেখায় তথ্য উপাত্ত উল্লেখ করে লেখাটিকে অধিক সমৃদ্ধ ও বিশ্বাসযোগ্য করা এমূহুর্তে সম্ভব নয়। তবে অতি সংক্ষিপ্ত ধারনা দিয়ে পাঠকের মনে এবিষয়ে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস করি।

আজ থেকে দুই কিংবা তিন দশক আগেও আমাদের দেশের পাহাডিয়া অঞ্চলে আদিবাসীদের আলাদা আলাদা নিজস্ব ভাষা, কৃষ্টি ও তাদের স্ব স্ব ধর্মাচার ছিলো। এসব আদিবাসীরা সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা নামে পরিচিত হলেও সবাই পাহাডিয়া অঞ্চলে বসবাস করতো। তিন দশক আগের পাহাডিয়া আদিবাসীর সংখ্যা, ওদের ধর্মাচার, কৃষ্টি এখন আর দেখতে পাওয়া যাবে না। কারণ নিরাপত্তার জন্য এরা দলে দলে খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে আত্ম-সামাজিক উন্নয়নে কর্মরত এনজিও গুলোর কল্যানে। মানবতার সেবার নামে কাজটি খৃষ্টান পাদ্রীরা অত্যন্ত সর্তকতার সাথে সম্পাদন করেছেন। এমন আদিবাসী পরিবার আছে যদের পরিবারের যে সংখ্যক মানুষ ধর্মান্তরিত খৃষ্টান হয়েছে শুধু ঐসদস্যরা মানবতার নামে আর্থিক সাহায্য পেয়ে জীবন মান উন্নত করতে পেরেছে। বরীন বর্মন নামে নটরডাম কলেজে পড়ুয়া একছাত্রকে আমি জানতাম সেই নব্বই দশকে যে কিনা উত্তরবঙ্গের এক আদিবাসী পরিবারের সন্তান, সে ঐএলাকার চার্চের ফাদারের সুপারিশের ভিত্তিতে নটরডামে কাজের বিনিময়ে ভতি ও পড়ার সুযোগ হয়েছিল শুধু ধর্মান্তরিত হবার সুবাধে। আলাপচারিতায় জেনেছিলাম রবীনবর্মনের গ্রামে শুধু তার পরিবারের বরীন ও তার মা ধর্মান্তরিত হয়েছিল ক্ষুদার তাড়না। রবীনের বাবা এর অনেক পরে অনেকটা বাধ্য হয়েছেন একই পথ অনুসরণ করতে। আর আর্তমানবতার সেবার নামে এধরনের সাম্প্রদায়িক গোষ্ট ভিত্তিক কাজটি কিছু পশ্চিমা এনজিও ধারাবাহিক ভাবে করেছে, আর আমাদের রাষ্ট্র সেটি নিরবে সয়ে গেছে বলা চলে।

আমাদের দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালিত হয় ধর্মের ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ট এমন একটি গোষ্টির দ্বারা । এরাই কেহ বা আলীগ, কেহবা বিএনপি আবার কেহবা জামাত। খ্রিস্টান মিশনারী সম্প্রদায় অবহেলিত আর অর্র্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়কে ছলেবলে ধর্মান্তরিত করিয়ে দলভারী করবে, আর রাষ্ট্রযন্ত্রের পরিচালক সংখ্যাগরিষ্ট ধর্মান্ধ গোষ্টি বসে থাকবে এটা কাম্য হতে পারে না। এজন্য সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ভিত্তিক এনজিও এবং তাদের সহযোগী সংঘঠন গুলো আত্ম-সামাজিক উন্নয়নের নামে খ্রিস্টান মিশনারীদের মতো শুধু বন আর পাহাডিয়া অঞ্চলে কাজ করেছে না। বরং এরা পাহাডিয়া অঞ্চলের পাশাপাশি সমতল এলাকা অর্থনৈতিক ভাবে দরিদ্র মুসলিম জনগোষ্টিকে নিয়েই কাজ করেছে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে উদ্দেশ্যে। এদের কারনেই দূর্গম পাহাড়িয়া অঞ্চলেও মহিলা ও পূরুষের জন্য আলাদা আলাদা আবাসিক/অনাবাসিক মাদ্রাসা দেখা যায়। একই সাথে মক্তব, সুউ্চ্চ মিনার সহ মসজিদের সগৌরবে অবস্থানতো আছেই। কেহই প্রশ্ন করে না, দূর্গম পাড়াডিয়া অঞ্চলে সংখ্যা গরিষ্ট আদিবাসীদের এলাকায় গুটি কয়েক মুসলিম সেটেলারের জন্য এতো ব্যয়বহুল ব্যবস্থা কেন? এগুলো পরিচালনার ব্যয় কোথা থেকে আসে? উদ্দেশ্যই বা কী? সরকারের কোন মহল এসব প্রশ্ন করার কিংবা নিয়ন্ত্রণ করার চিন্তাও করে না। শুধু মাঝে মাঝে ওদের টনক নড়ে যখন কালেভদ্রে পত্রপত্রিকায় জঙ্গীবাদের আশংকা করিয়ে দুএকটি নিউজ কভার করা করা হয় তখন। অবশ্য প্রতিমূহুর্ত এর মাসুল গুনতে হয় স্থানীয় আদিবাসী মানুষ গুলোকে, যাদের কান্না শোনার মতো ইচ্ছা ও সময় কোনটাই রাষ্ট্রযন্ত্রের নেই। কেননা রাষ্ট্রযন্ত্রও ইসলামী ভাবধারার উন্নয়নের কথা বলে। দেশের প্রধান নির্বাহীয় মদিনা সনদের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার বক্তব্য দেয়। আর এনজিও গুলোতো দেশের প্রধান নির্বাহীর মনোবাসনাকে বাস্তবায়নের সাহায্য করছে মাত্র। এরফলে আদিবাসী অঞ্চলে সেটেলারদের জন্য মাদ্রাসা, মক্তব্য, ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মানের নামে ও ধর্মীয় উগ্রতা দিয়ে আদিবাসীদের গায়ে প্রতিমূর্হুর্তে অনিরাপদ ক্ষত সৃষ্টি করে চলেছে, এবং একই সাথে খ্রিষ্টান মিশনারীরা সেই ক্ষতে মলম লাগিয়ে ওদেরকে প্রভু যীশুর নামে দলে দলে ধর্মান্তরিতকরণ ধারা অব্যাহত রেখেছে। পরস্পর এদুটি ধারা বহমান থাকার কারণে বাংলাদেশের আদিবাসীরা একদিন ইতিহাসের অংশ হয়ে জাদুঘরে আশ্রয় নেবে – একথা বললে একদমই অত্যুক্তি হবে না, ।

মুসলিম এ্ইডের এনজিও দূর্গম পাহাডিয়া অঞ্চলের পর সমতল এলাকায় ও কাজ করে জোরালো ভাবে। বিশেষ করে দরিদ্রপীড়িত অঞ্চলের মানুষ গুলো ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্বেও ইসলামে ঈমান ইসলামী আকিদা বৃদ্ধি ও এলেম দেয়ার নামে কাজ করে। মূলতঃ ধর্মের নামে গোষ্টি ভিত্তিক ধ্যান ধারণা সুদৃঢ় করনই হলো মূল লক্ষ্য, যা প্রয়োজনের সময় অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে পারে। যেমনটি ২০০১ সালে বিএনপি জামাতজোট সরকারের সময় হঠাৎ করেই জেএমবি নামীয় সংঘঠনের জন্ম ও এর চমৎকারিত্ব মুগ্ধ(!) হবার মত ঘটনা, আবার ২০১৩ সালে ঢাকার মতিঝিলে হেফাজতী তান্ডবে ভয়াবহতায় আৎকে উঠেছিলাম। বাংলাদেশে মূলতঃ নব্বই দশকে এনজিও সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং তখন থেকে অধিকাংশ এনজিও উত্তরবঙ্গে দরিদ্র পীড়িত এলাকায় বেশী কাজ করেছিল। উত্তরবঙ্গের ঐসব এলাকায় মানুষের দারিদ্রতা কতটুকু দূর করতে পেরেছে সে পরিসংখ্যা বের করা বড় কঠিন হলেও সারাদেশে একযোগে বোমা ফাটিয়ে জেএমবি’র মত সংঘঠনের আত্মপ্রকাশের মাধ্যে জানান দিয়েছে এক্ষেত্রে এনজিও গুলো কাজ করেছে।

আগেই বলা হয়েছে বাংলাদেশে প্রায় তিন লক্ষের অধিক মসজিদ আছে। আজকাল অজপাড়া গাঁয়েও সুরম্য মসজিদের সগৌরবে অবস্থান। এসব গ্রাম গ্রামাঞ্চলের এসব সমজিদের অধিকাংশ কুয়েত ও কাতার ভিত্তিক মসজিদ মিশন হতে বিশেষ শর্তে অনুদান গ্রহন করে নির্মির্ত হয়েছে। আপাততঃ দৃষ্টিতে মসজিদ নির্মান, এতীমখানা, মক্তব, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ধর্মীয় অনুশাসন আর নৈতিক শিক্ষা বৃদ্ধিকরণের উদ্দেশ্য মনে হলেও এর পেছনের মূল কারণ বুঝার জন্য জেএমবি কর্তৃক সারাদেশে বোমা ফাটিয়ে অস্তিত্বের জানান দেয়ার মতো সংঘঠনের ধারাবাহিক কার্যক্রম ও ফলাফলের দিকে তাকালে এনজিওদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্পষ্ঠ ধারণা করা যায়। পত্রিকা ও বিভিন্ন মাধ্যমে অনেকেই ধারণা প্রকাশ করতে দেখা যায়, এসব এনজিও বোমাবাজ জেএমবির মতো সারাদেশে ইতোমধ্যে বহু সংঘঠনের জন্ম দিয়েছে, যেগুলোর মূল লক্ষ্যই হলো ১০০ ভাগ দ্বীনি হুকুমত ও আল্লাহ আইন কায়েম করা, যা দেশের সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার মূল ভাবনা সাথে সম্পূর্ণ সাংঘষিক।(চলবে)…… চিত্রগুপ্ত, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪।

৭ জঙ্গীবাদে উদ্ভুদ্ধকারণে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি-
শুরুতেই আগে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশের ধর্মীয় জঙ্গীবাদ আন্তর্জাতিক জঙ্গীবাদের অংশ এবং এটি লালিত পালিত হচ্ছে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির উপর। যেগুলি হলো (১) ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, (২) ধর্মীয় উপাসনালয়, (৩) এনজিও, ও পরিশেষে (৪) রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শ।

ইতোপূর্বে তিন বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়েছে। এখন বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের লালন, পালন, প্রচার ও প্রসারে রাজনৈতিক দল তথা রাজনৈতিক যোগসুত্রতার উপর আলোকপাত করার চেস্টা করবো। আমি অতিসংক্ষেপে বিষযটির উপর আলোকপাত করলেও সম্ভবতঃ পরপর দুই অথবা তিনদিনটি ফেবু পোষ্ট করতে হবে। কেননা ফেবু বন্ধুরা একসাথে অনেক লেখা পড়তে অভ্যস্ত নয়।

ধর্মীয় জঙ্গীবাদের রাজনীতির অংশীদারিত্ব তথা অংশ গ্রহন এক দিনের নয়। যদি এর পেছনেদিকে তাকাতে হয় তাহলে অবশ্যই স্বাধীন বাংলাদেশ হবার পূবে অখন্ড ভারতের উনবিংশ শতকের মধ্যভাগের ইতিহাসে যেতে হয়। । আমি চেষ্টা করবো সে ইতিহাস অতি সংক্ষেপে তুলে ধরতে-

“অখন্ড ভারত হতে ইংরজদের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছে এবং যেসব জায়গায় এসব শহীদদের নাম ফলক ও স্মৃতি চিহ্ন আছে, যদি কেহ উপমহাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঐসব জায়গায় খোঁজ করেন. তবে ঐসব শহীদদের তালিকায় শহীদ মুসলিম স্বদেশীদের নাম খুঁজে পাওয়া ভার হবে। আমার কথার সত্যতার যাছাইয়ে জন্য ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর ও ঢাকার সেগুনবাগিছায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ইংরেজী বিরোধী নিহত শহীদদের নাম ফলক গুলির দিকে তাকালে সত্যতা মিলবে। মূলতঃ ইংরেজী বিরোধী আন্দোলনের শেষ ভাগে ধর্মের ভিত্তি জাতিসত্বা ও আলাদা রাষ্ট্র ব্যবস্হা দাবী তুলে রাজনীতির লাইমলাইটে এসেছেন পাকিস্তানের জিন্নাহ সাহেব। এর বাইরে ইংরেজী বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনে জিন্নাহ সাহেবে সাংঘঠিনিক কোন অবদান খুজে পাওয়া যাবে না। তবে দ্বিজাতি তত্বের প্রণেতা জিন্নাহকে সামনে রেখে দেশ বিভাগের ঐকাজ দারুনভাবে এগিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশেরই দুই কৃতিসন্তান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও এ কে ফজলুল হক। অবশ্য স্বাধীন বাংলাদেশে মাধ্যমিক শ্রেনীর পাঠ্যে শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় এ.কে ফজলুল হক হলেন বাংলার বাঘ। কিন্ত আজকের এসময়ে আমার মনে হয়েছে তিনি সত্যিই ভয়ংকর হিংস্র বাঘ ছিলেন এবং তা ছিলেন শুধু মাত্র হিন্দু সম্প্রদায় ও ভারতবর্ষের হিন্দু জমিদারদের জন্য।

পাকিস্তানের জিন্নাহ সম্ভবতঃ প্রথম বিলাত ফেরত মুসলিম ব্যারিষ্টার, তাকে সামনে রেখেই বাংলার এ ভুখন্ডের মুসলিম নেতারা দেশ বিভাগের দাবীকে গতিশীল করেছেন। মুসলিম ও হিন্দু এদুটির ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাগের বিষয়টি যদি ঐসময়ের ইংরেজরা গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনমত যাচাইয়ের জন্য ভোটাভুটির আয়োজন করতো, তাহলে জিন্নাহ সাহেবের বহুল আলোচিত দ্বিজাতি তত্ত্ব মাঠে মারা যেতো। কেননা অখন্ড ভারতে মুসুলমানরা সংখ্যা গরিষ্ট ছিলো না, তাছাড়া ঔ সময়ের ভারতবর্ষে সমগ্র মুসুলিম সমাজ এটি চাননি। জিন্নাহ সাহেব এটি বোঝার জন্য অতটা কুঠিল ছিলেন না ( যদিও তিনি প্রথম দিকে এতটা কুঠিল ছিলেন না), যতটা বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় তাকে তুলে ধরা হয়েছে। বিলাত থেকে ফেরত আসার পর তিনি আইন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার পরপরই শুধু তাকে কেন্দ্র করে নতুন দাবী ও রাজনীতির মেরু করন হয়েছিল এবং এসবই তিনি সময়ের চক্রে যোগদান করেছেন মাত্র। তিনি যে এক্ষেত্রে কতটা উদাসীন ছিলেন এর প্রকৃষ্ট উদাহরন হলো ঐসময়ে তার বিধর্মী ও অসম বয়েসী বিবাহ। মাত্র চৌদ্দ বয়র বয়েসী মেয়ের প্রেমে পড়ে মেয়েটি আঠার বছর হওয়া পর্যন্ত প্রায় চার বছর অপেক্ষা করা এবং শেষে বিবাহ এসব ঘটনা কোন ব্যস্ত রাজনীতিবিদের ব্যক্তির জীবনে ঘটার মতো নয়, অথচ জিন্নার জীবনে ঘটেছে। সুতরাং একটি ঘটনাই জিন্নাহ সাহের রাজনৈতিক বেখায়ালী পড়ার প্রকৃষ্ট উদাহরন। এখানে প্রশ্ন আসে ইংরেজী বিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের সময় জিন্নাহ সাহেবের প্রেম প্রেম খেলার সময় মুসলিম রাজনীতি কারা নিয়ন্ত্রন করতো? হ্যা ঠিক। বিশেষ কেহ বা একাধিক ছিলেন যারা জিন্নাহ সাহেবের কাজ গুলোকে জিন্নাহ সাহেবের নামেই এগিয়ে নিয়েছেন এবং সেই দুজন মানুষই হলেন শহীদ সোহরাওযার্দী ও একে ফজলুল হক। এদুজন ও সহযোগীরা জানতেন জিন্নাহকে সামনে রেখে দ্বিজাতিতত্বের যে দাবী তথা মুসুলমান ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা ভুখন্ড সেটি গনতান্ত্রিক উপায়ে আদায় করা সম্ভব নয়। কেননা ঔসময় হিন্দু মুসুলমান সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ এর বিপক্ষে ছিলো। তাই দ্বিজাতিত্বের যৌক্তিকতা প্রমানের জন্য এমন কিছু করা দরকার যাতে দ্বিজাতি তত্ত্ সঠিক ভাবতে শেষে এবং ইংরেজরা বুঝতে পারে হিন্দু মুসুলমান এক থাকতে পারে না। একারণেই মূলতঃ পরিকল্পিত ভাবে ১৯৪৬ সালে কলকাতা, নোয়াখালী সহ অখন্ড ভারতে হিন্দু-মুসুলমান দাঙ্গা লাগিয়ে নিরীহ মানুষের রক্তপাত করা হয়েছে। ভারতবর্ষের অজস্র নিরীহ মানুষের রক্তপাতের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন হিন্দু-মুসুলমান একসাথে থাকার মত নয়। সুতরাং মুসুলমানের জন্য আলাদা ভুখন্ড চাই। মূলতঃ এভাবে দুটি দেশের জন্ম হয় এবং বাংলাদেশ ভুখন্ডে যেহেতু হিন্দুরা অনিরাপদ সুতরাং এটি পাকিস্তানের অংশে পড়বে এবং এভাবে হয়েছে। চলবে…… চিত্রগুপ্ত, ১৩.৯.১৪

৮ সাম্প্রদায়িক সংহিংসতার স্মৃতিচারণ-

“নোয়াখালীর কাছেই আমাদের বাড়ী। বয়েসটা কতই বা হবে তখন, ৪ কিংবা ৫ বছর। সময় ১৯৪২-১৯৪৪ সাল। দেখেছি হিন্দুবাড়ী গুলিতে লাগানো আগুনের ধোঁয়ার কুন্ডলী পাঁকিয়ে আকাশটাকে অন্ধকার করে ফেলতে। কত কত লাশ পড়ে থাকতে। আমাদের বাড়ীর পাশ দিয়ে নদী চলে গেছে, সে নদীতে ছোট বড় নৌকায় করে হিন্দু নারীরা, উদোম গায়ে পূরুষ, হাফ প্যান্ট পরা কিংবা ন্যাংটা শিশু সহ ভয়ার্ত কিছু মানুষ পালাতে। এর মধ্য থেকে আমাদের গাঁয়ের অনেককে দেখেছি নৌকার অসহায় গুলিকে আক্রমন করতে। আক্রান্ত মানুষ গুলোর সাথে অনেক শিশু ছিলো কারো কারো বয়েস সে সময়ে আমারই মতো হবে। আমি আমার কাকার হাত ধরে মাঝে মাঝে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে এসব বীভষ্মতা প্রত্যক্ষ করেছি। কেন হচ্ছে কিছু বুঝতে না পারলে মনে মনে প্রশ্ন করেছি এসব কেন হচ্ছে। শিশু বয়েসে কাকাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম “কাকা এসব কেন হচ্ছে ? তোমরা বাধা দিচ্ছো না কেন?” পরে অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমার কাকা বাঁধা দিয়েছেন। এসবের উদ্দেশ্য ছিলো হিন্দু নিমূল করা।” ——- এ কথাগুলি প্রখ্যাত চিত্র শিল্পী হাসেম খানের স্মৃতিচারন থেকে নেয়া। গত জুলাই ২০১৩ইং মাসের কোন একদিন সকাল বেলায় এনটিভি’র স্বাক্ষাৎকার মূলক শোতে দেশ বিভক্তির পূর্বে সম্প্রদায়িক দাঙ্গার স্মৃতিচারণ মূলক ঘটনার যে মৌখিক বর্ণনায় দিয়েছিলেন, তারই বক্তব্যের অনুকরনে লেখা।

শিল্পী হাসেম খানের বর্ননায় উপরোক্ত দৃশ্যের ঘটনা গুলো এদেশের মানুষ গুলোই ঘটিয়েছে এবং সেটা ঐ সময়ের মুসলিমলীগের নেতাদের রাজনৈতিক ইসারায় সংঘঠিত হয়েছে, যাদের নিয়ন্ত্রন করেছে এদেশী মুসলিম নেতারা। আর এসব নেতারা ছিলেন একে ফজলূল হক, সোহরাওয়াদী এবং আরো অনেকই যাদের নাম আপনারা খুজে নেবেন আশা করি। এরপর ১৯৪৭ দেশ ভাগ হয়ে পাকিস্তান নামক দেশটা উদ্ধার করলো এবং এর মাত্র একবছরের মধ্যে ১৯৪৮ সালে মুসলিমলীগের ভাঙ্গন ধরে এবং যেটি পর্যায় ক্রমে প্রথমে আওয়ামী মুসলিমলীগ, যুক্তফ্রন্ট ও পরে অসাম্প্রদায়িক আওয়ামীলীগ হয় – এক্ষেত্রের ভূমিকায় এ সেই এদেশী নেতারা। চলবে…… চিত্রগুপ্ত, ১৫.৯.১৪

৯ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ লিখিত ‘বাংলাদেশ: ইমারজেন্সি অ্যান্ড দ্য আফটারম্যাথ’

জঙ্গীবাদের বিশ্বায়ন ও বাংলাদেশে এর অবস্থান নিয়ে আমি যখন লিখছি এবং বাংলাদেশের জঙ্গীবাদের রাজনীতি ও রাজনৈতিক সর্ম্পকের ইতিবৃত্ত সংক্ষিপ্তাকারে টানার চেষ্টা করছি, ঠিক সে সময় অনলাইন নিউজে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ লিখিত ‘বাংলাদেশ: ইমারজেন্সি অ্যান্ড দ্য আফটারম্যাথ’ শীর্ষক বইয়ে মোড়ক উন্মোচন সংক্রান্ত সংবাদটি নজরে এসেছে। বইটির এক স্থানে মওদুদ লিখেছেন, ‘ওই সময় খালেদা একজন রাজনৈতিক নেতার চেয়ে বেশি একজন মা হয়ে উঠেছিলেন। ২০০৭-০৮ সালের জরুরি অবস্থার সময় খালেদা জিয়া শুধু তার দুই ছেলের মুক্তি নিয়েই চিন্তা করেছেন।’ পাশাপাশি গ্রন্থটিতে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করার বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)। সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারান্তরীন অবস্থায় বইটি রচনা করেন বলে জানান মওদুদ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সম্প্রতি প্রকাশিত বইয়ে জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক বিষয়ে উল্লেখ করেছেন – যা নিয়ে এখন দলে বির্তক চলছে।

যুদ্ধাপরাধীদের একের পর এক রায়ের পর পর বিএনপির পরীক্ষিত মিত্র জামায়াত ও শিবির সারাদেশে মধ্যযুগীয় তাণ্ডবলীলা চালিয়েছিল। এবিষয়ে বিএনপির নীরবতায় সাধারণ মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল। ২০১৩ সালের আটাশে ফেব্রুযারী মাওলানা সাঈদীর রায়ের পর দেশে যে তান্ডব হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়া সময়ে সম্ভবতঃ সিঙ্গাপুরে তার ছেলের সাথে ছিলেন। তিনি মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা ফিরে জামাতি প্রক্রিয়ায় নোয়াখালীর মাইজদী, দত্তেরহাট, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর সহ দেশের হিনদু বাড়ী, স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ হয়েছিল এবং ব্রাম্মণবাড়ীয়া, সিলেট সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুলিশের উপর হামলা ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মেরে ফেলা সহ জঘন্য ফৌজদারী অপরাধ সংঘঠিত হয়েছিল, তিনি এসকল অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। বরং জঙ্গীপনা করতে গিয়ে ঐসময়ে পুলিশের গুলিতে যারা নিহত ও আহত হয়েছেন খালেদা জিয়া তাদের পক্ষে শুধু কথা বলেছেন এবং জঙ্গীপনাকারীদের তিনি মুসুলমান ও তাদের বিরুদ্ধে পুলিশী অভিযানকে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসাবে দেখাতে চেয়েছেন।

হেফাজতের ২০১৩ সালের ৫ মের সমাবেশটি ছিল বিএনপির জোটের জন্য আশা ও উদ্দিপনার দিন। সারা বিশ্বব্যাপী হেফাজতের জঙ্গীপনা ও তাণ্ডবলীলা দেখে দেশের বেশীর ভাগ মানুষ আতংকিত ছিলো কিন্তু বিএনপি ও তার জোট, এবং এরশাদের জাতীয়পার্টি এটিকে মুসলিম রেনেসার জাগরণ হিসাবে দেখেছেন বলেই পতিত এরশাদ রাস্তায় রাস্তায় পানি খাইয়েছেন, বিএনপি শীর্ষ স্থানীয় নেতারা মঞ্চে উঠে বসেছেন এবং বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা বাসীকে মতিঝিলে জমায়েত হওয়া দেশের কওমী মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছিলেন।

এখানে উল্লেখ না করে পারা যায় না, যদি ৫ই মে হেফাজত সফল হতো, তাহলে বিজয়ী হেফাজত ও সমর্থকরা ইরাক ও সিরিয়ায় আইসিস এর মতো উৎসব পালন করতো। আর এতে বলি শুধু সংখ্যালঘু হিন্দুরা হতো না, বরং আওয়ামীলীগের হাজার হাজার নেতা কর্মী বলি হতো – যা বিএনপি ও জামাতের অজানা ছিলো বলে মনে হয় না। চলবে…. চিত্রগুপ্ত, ১৫.০৯.২০১৪ইং

১০ সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের মুসলিমলীগের নেতাদের রাতারাতি অসাম্প্রদায়িত হওয়াঃ
ইতিহাস যারা পড়ান কিংবা পড়েন – এপর্যন্ত কারো মুখে এমন প্রশ্ন আমি অন্ততঃ ব্যক্তিগত ভাবে শুনতে পাইনি পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র একবছরে (1947 to 1948) মাথায় পূর্ব পাকিস্তানের কট্টর সাম্প্রদায়িক মুসলিমলীগীয় নেতারা কী করে কিংবা কোন যাদুর বলে রাতারাতি অসাম্প্রদায়িক বনে গিয়ে মুসলিমলীগ থেকে বেরিয়ে গেলেন? অনায়াসে সবাই বলে বেড়াবে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকদের বৈষম্যে কারণে এমন হয়েছে। এটা সরল উক্তি, কিন্তু আসলে কি তাই? কেননা নিজেদের সাম্প্রদায়িক চরিত্র বদলাতে এবং পশ্চিম পাকিস্তানিদের বৈষম্য বুঝতে যে সময়ের দরকার ছিলো – তা কী পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র একবছরের কম সময় যথেস্ট ছিলো? এমন ধরনের প্রশ্নের উত্তরতো দূরের কথা আমি প্রশ্ন আজ পযন্ত কারো কাছ থেকে পাইনি। বাংলার বাঘ এ.কে ফজলুল হক, শেরেবাংলা প্রমুখরা প্রস্তাবিত মুসলিম দেশের ক্ষমতায় আরোহনের জন্য দ্বিজাতিতত্বের ধারণা নিয়ে রক্তের হোলি খেলেছিলেন – পাকিস্তান সৃষ্টির পর মুসলিমলীগের বাঙ্গালী নেতারা সেই ক্ষমতা স্বাদ আস্বাদন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। মূলতঃ একারনে ভোল পালটানো এবং নতুন তত্ব বাঙ্গালী বনাম অবাঙ্গালী তত্ব। যদি ১৯৪৭ পাকিস্তানের ক্ষমতার স্বাদ সমান সমান পেতো তাহলে হয়তো চিত্রটা উল্টো হতে পারতো দুঃখের বিষয় দেশবিভাগ পরবর্তী কথিত অসাম্প্রদায়িকতা যে নতুন তত্ত্ব তথা বাঙ্গালী বনাম অবাঙ্গালী তত্ব ঘোষিত হয়েছিল এর রক্তাক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে বাংলাদেশের হিন্দুদের। অতিসংক্ষেপে উদাহরন হিসাবে বলা যায়, ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধরা যুদ্ধ করেছে অসাম্প্রদায়িক দেশের জন্ম ও সৃষ্টির জন্য আর পাকিস্তানীরা মানুষ হত্যা করেছে ইসলাম রক্ষার জন্য। শুধু আজকের প্রবীনরাই বলতে পারবেন – পাকিস্তানীরা যেখানেই সার্চ করেছে, সেখানে বলেছে মুক্তি কাঁহা, মালাউন কাঁহা শব্দ গুলি ব্যবহার করেছে। ওদের কাছে মুক্তি মানে মালাউন আর মালাউন মানে মুক্তি। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে ওরা মুসুলমান মেরেছে তবে সেটা মুসুলমান মনে করে নয়, হিন্দু মনে করে। পাকিদের ধারনা ছিলো এদেশ অবশিষ্ঠ হিন্দুরাই ধর্মের ভিত্তিতে পাওয়া পেয়ারে পাকিস্তান টুকরো করতে চাচেছ।

এদেশের স্বাধীন বাংলাদেশ পূর্ববর্তী মুসলীমলীগ হতে বেরিয়ে আসা আওয়ামীলীগ নেতাদের মনে কি ছিলো আর কি ছিলো না – এর চাইতে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো বাংলাদেশ স্বাধীন হতে এদেশের স্বাধীনতাকামী আপামর বাঙ্গালীকে অনেক রক্ত দিতে হয়েছে- এটা আমরা সকলে জানি। কিন্তু কোন বাংলাদেশ রচনা জন্য যুদ্ধ করেছিলেন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা? এমন প্রশ্ন যদি করা হয় তাহলে এখনো জীবিত আছেন এমন মুক্তিযোদ্ধারা নিশ্চয় বলবেন – মদিনা সনদের ভিত্তিতে দেশ্ পরিচালনা কিংবা আজকের ডিজিটাল ইসলামী বাংলাদেশ রচনার জন্য ওরা সেদিন যুদ্ধ করেনি। তাদের স্বপ্নে ছিলো ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যহীন সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের। মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে স্বাধীন করে যেখানে শেষ করেছেন, আর রাজনীতিবিধরা সেখান থেকে ক্ষমতা আরোহন করে রাজনীতিতে ধর্মের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন। মূলতঃ গলদটা রাজনীতিবিদদের মধ্যে – যাদের রক্তে ধর্মের ভিত্তিতে গোষ্টী ভিত্তিক ভাবনা আর ক্ষমতার সবোচ্চ আসনে থাকার বাসনা । এধরনের রাজনীতিবিদরা যতই মুখে অসাম্প্রদয়িকতা বুলি ফুটান না কেন, কাজকর্মে সাম্প্রাদায়িকতা স্বাক্ষর এরাই রাখবেন এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ রাজনীতিতেও তাই হয়েছে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরন স্বয়ং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই। কেননা তিনি যদি সম্প্রদায়গত চিন্তার উর্দ্ধে উঠতে পারতেন, তাহলে তিনি পাকিস্তানী কারাগার হতে মুক্তি পেয়ে মুসলিম বিশ্বের বড় সংঘঠন ওআইসি’র সম্মেলনে পাকিস্তান যেতেন না, তিনি যদি সম্প্রদায়গত চিন্তার উর্দ্ধে উঠতেন তাহলে তিনি একদিকে বিধস্ত ঢাকার রমনা কালী মন্দির পুননির্মানে হিন্দু সম্প্রদায়কে যেমন নিরুত্তাসাহিত করেছেন যতখানি, তারচেয়ে বেশী সহোৎসাহে তিনি ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, মসজিদ সংস্কার করেছেন, তিনি যদি সাম্প্রদায়িতার উর্দ্ধে উঠতেন তাহলে দেশে ধর্মীয় শিক্ষা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের পরিবার কেন্দ্রিকতার বাইরে গিয়ে মাদ্রাসা বোর্ড করতেন না। এভাবে স্বাধীন বাংলাদেশে কথিত অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধজ্জাধারী মানুষে গোষ্টি ভিত্তিক সাম্প্রদায়িক কাজের ভুরি ভুরি উদাহরন আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিঠিযে আছে। চলবে…. চিত্রগুপ্ত, ২১.০৯.২০১৪ইং

১১ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জঙ্গীবাদের বাংলাদেশের জঙ্গীর সম্পৃক্ততা-
সম্ভবতঃ গত পরশু (২৫.০৯.২০১৪) বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি মিড়িয়ার মৃদু কাভারেজ ছিলো ঢাকার পুরানা পণ্টন হতে ইসলামী জঙ্গী আইএস এর বাংলাদেশী এজেন্ড ধরা পড়েছে। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায় ধৃত লোকটার সাথে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংঘঠন জেএমবি সম্পর্ক আছে এবং যে কিনা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে লোক সংগ্রহ করে সিরিয়া পাঠানোর চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশের জঙ্গীদের সাথে আন্তর্জাতিক সর্ম্পক নতুন কোন বিষয় নয়। যদ্দূর মনে পড়ে আশির দশকে রৈরুত ও ফিলিস্তিন যুদ্ধে বাংলাদেশ হতে ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে লোক রিক্রুট করে পাঠানো হতো। আজকের দিনে মতো সে সময় টেলিভিশন দেখার সহজ লভ্যতা ছিলো না। তবে ঐসময়ে বিটিভি সংবাদ মাধ্যমে বৈরুতে বোমা হামলার দৃশ্য বিদেশী সিএনএন এর বরাতে দেখানো হতো। যদিও আমি ছোট ছিলাম তথাপি আমার চেনা জানা ঐ সময়ের এক যুবককে মধ্য প্রাচ্যে চাকুরী দেবার নাম করে রৈরুত যুদ্ধে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল। যিনি পরবর্তীতে প্রথমে প্রতিপক্ষ সৈন্যদের হাতে ধরা পড়া এবং পরে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে অবৈধ ভাবে ইরানে আশ্রয় শেষে ‍১৯৮৮ সালে দেশে ফেরেন। এঘটনা থেকে বুঝতে অসুবিধে হয় না –এদেশের অনেক যুবক ইচ্চে করে হোক আর প্রতারনা শিকার হোক আশি দশকে ফিলিস্তিন যুদেধ গেছেন এবং অনেকে সে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরেছে এবং এদের অনেকে হয়ত এখনো বেঁচে আছেন।

আফগানিস্তানে সোভিয়েত সমর্থিত সরকারকে উৎখাতে লড়াইয়ে কিংবা তালিবানী শাসন কায়েম করতে হাজার হাজার যুবক এদেশ থেকে যাবার অভিয়োগ ছিলো । কিন্তু বাংলাদেশের ঐ সময়ের সরকার ও ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দল তা ভিত্তিহীন বলে সম্পূর্ণভাবে উডিয়ে দিয়েছিল। শুধু আফগানিস্তানের যুদ্ধে বাংলাদেশীদের অংশ গ্রহন নয় – খোদ কাশ্মীর জঙ্গীদের সাথে যুদ্ধে যোগ দিয়ে অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছে অনেকে– এগুলো যে শুধু অভিযোগ ছিলো না তা পরবতী সময়ে শায়ক আব্দুর রহমান, বাংলাভাই, জেএমবি হরকতুল জিহাদ সহ নানা ইসলামী গোষ্টি নাম প্রকাশ তৎপরতা বৃদ্ধি ও পশ্চিমাদের চাপে কিছু কিছু দলের কার্যক্রম নাম মাত্র বন্ধ করার ঘোষনা দিয়ে বেগম জিয়া প্রমান করেছিল যে বাংলাদেশ হতে বিদেশে বিভুইয়ে ইসলামী ভ্রাতত্ববোধের ভিত্তিতে যুদ্ধে যোগদান প্রচারণা এক্কেবারে প্রপাগাঙ্গা নয় বাস্তবতা। মূলতঃ বাংলাদেশ ইসলামী জঙ্গীবাদের সাথে আন্তর্জাতিক যোগসূত্রতা দীর্ঘ দিনের, তবে বেগম জিয়ার শাসনামল গুলোতে এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। বেগম খালেদা জিয়া নিজেই আকুষ্ঠ গিলে আছেন বোতল বোতল ধর্ম। সেকারণেই বেগম জিয়ার প্রতিটি শাসনামলে বাংলাদেশী হিন্দুরা ভয়াবহ অবস্থায় পড়তে হয়েছিল। …..চিত্রগুপ্ত, ২৭.৯.২০১৪।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

41 − = 38