ধর্ষণ ও বাংলাদেশ

?itok=eHRVJPal” width=”500″ />

ধর্ষনের কথা শুনলে চোখের সামনে ভেসে আসে একটি বর্বর পুরুষের হায়েনার মতো চেহেরা আর গরম খুন্তিতে ক্ষত-বিক্ষত একটি নারীমুখ আর ধ্বংস হয়ে যাওয়া সভ্যতা। তাই হয়তো ধর্ষনের একটি মামলায় জাস্টিস উইন্ডেয়ার বলেছিলেন “ধর্ষণ হল সবচেয়ে নৃশংস অপরাধ,একটি অপরাধ এত ভয়ানক যে প্রত্যেক দেশপ্রেমিক নাগরিক এই বলে কুণ্ঠিতববোধ করবে যে এটি আমাদের সভ্যতার প্রতি চরম অসম্মান।”

দিনের পর দিন সভ্যতার মুখে কালিমা লেপন করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। পূর্নিমা থেকে তনু, তনু থেকে বনানীর হোটেলে ধর্ষিত হওয়া দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী আমাদের সভ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে প্রতিনিয়ত। পুরুষত্বকে করছে ঘৃনার বস্তু। করবেই বা না কেনো? এদেশে আনাচে কানাচে পাড়া মহল্লায় দেদারসে বিক্রি হয় যৌন শক্তি বর্ধক ঔষুধ। আমরা বাঙ্গালিরা যে কতোটা বিকৃত মস্তিষ্কের তা বাংলাদেশের বর্তমান সমাজ ব্যাবস্থা লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়।

জাতিসংঘ বছর কয়েক আগে বাংলাদেশের পুরুষদের উপর একটি জরিপ চালায়। ঐ জরিপে নারীদের উপর বাংলাদেশি পুরুষদের নির্যাতন এবং নিপীড়ন নিয়ে পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা হয়।

ঐ জরিপ টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলের ১৪% ও শহরাঞ্চলে ৯% পুরুষ তাদের জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে যৌন সম্পর্ক করার জন্য নারীর উপর অবৈধ বল প্রয়োগ করেছে। এদের মধ্যে ৪৭.৪% পুরুষই একের অধিক বল প্রয়োগ করে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। শারীরিক নিপীড়নের স্বীকার হওয়া ৪০% বয়স ১৯ বছরের নিচে। আর উদ্বেগজনক কথাটা হচ্ছে নারীদের শারীরিকভাবে শোষন করা এইসব পুরুষদের মধ্যে ৬১.২% পুরুষ নিজেদের তাদের কৃতকর্মের জন্য অপরাধবোধ করেন না। আর মেয়েদের শোষন করা ৯৫.১% পুরুষরা তাদের অপরাধের জন্য শাস্তির মুখোমুখি হয়নি।এই একটি জরিপ বুঝিয়ে দেয় আমাদের বাঙ্গালি পুরুষের মানসিকতা।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুসারে জানুয়ারি ২০১৭ থেকে মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৯৩ জন নারী ধর্ষনের স্বীকার হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন একজন করে। অনেকেই বলতে পারে বাংলাদেশ তো দক্ষিন আফ্রিকার (প্রতি মিনিটে ১ জন) তুলনায় অনেক ভালো। কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত (প্রতি দশ মিনিটে ১ জন) থেকে অনেক ভালো। কিন্তু জনসংখ্যার ভিত্তিতে তুলনা করে দেখেন সংখ্যাটা অনেক বেশি। ভারতের কথা যখন চলেই আসলো একটা ধর্ষন মামলার রায়ের কথা বলতে চাই। ভারতের বিখ্যাত ও লজ্জাজনক একটি ধর্ষন মামলা হলো “অঞ্জনা মিশ্রা রেপ কেস”। ঐ রেপ কেসে পরোক্ষভাবে এবং প্রত্যক্ষভাবে যথাক্রমে অভিযুক্ত হয়েছিলেন উড়িষ্যার মূখ্যমন্ত্রী ও এডভোকেট জেনারেল। ঐ মামলায় আদালত এডভোকেট জেনারেল ইন্দ্রজিৎ রায় কে তিনবছরের কারাদন্ড দেয়! আর বাংলাদেশে ঘরে বসে থাকা বনানীর তিন ধর্ষককে পুলিশ গ্রেফতারই করতে পারছেনা!

আমাদের আইনি কাঠামো, বিচার ব্যাবস্থা দিন দিন ঠুনকো হয়ে যাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ব্যাক্তি স্বার্থ নিয়ে ব্যাস্ত, সরকার ক্ষমতা রক্ষায় ব্যাস্ত। আর বিচারকগনতো স্বাধীনভাবে ক্ষমতার প্রয়োগ করতেই পারছেন না (প্রধান বিচারপতি)। সবার ক্ষমতার দ্বন্ধে পিষ্ট হচ্ছে সাধারন মানুষ,বিশেষ করে নারী। ২০১৩ সালের কেয়ার বাংলাদেশের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী নারীর প্রতি সংহিসতার অর্থনৈতিক মূল্য জিডিপির ২.১০%!

প্রতিটা ধর্ষনের পর কথা উঠে নারীর পোষাক নিয়ে চলাফেরা নিয়ে। কিন্তু পোষাক যে ধর্ষনের নিয়ামক নয় সেটা কিন্তু সত্য। ধর্ষনের প্রধান নিয়ামক নারীকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। রাস্তা দিয়ে একটা স্লিভলেস শর্টস আর থ্রি কোয়াটার প্যান্ট পড়ে হাটতেই পারে। তাকে দেখে পুরুষের কামভাব জাগতেই পারে কিন্তু তাই বলে আপনি তাকে ছিড়ে খাবেন তা তো না।

পূর্নিমা, তনু আর বনানীর ছাত্রীরা শুধু প্রচারিত হওয়া ঘটনা।
কিন্তু কতো মেয়ে যে প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে তা আমরা কেউই সঠিক জানিনা। পাকিস্তান থেকে যখন আমরা স্বাধীন হচ্ছিলাম তখনো আমাদের নারীরা ধর্ষিত হয়েছে আজ স্বাধীন বাংলাদেশেও নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে! এভাবেই এভাবেই কি প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হবে বাংলাদেশ???

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

70 − = 64