নারীঃকোথায় নিরাপদ

পুরো সমাজ কাঠামোটায় নারীর বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে।এখানে একটা নারী বাজার দরের “মাল”।সে সদ্য জাত শিশুই হোক আর কবরে শয়ান নারীই হোক।প্রত্যেকের পরিচয় এসে শেষ হয় মাংসপিন্ড দ্বারা গঠিত যৌনাঙ্গে।তার পরিচয় শুধুই যৌনাঙ্গে।

একজন শিশু যখন বেড়ে ওঠে তখন তাকে সমাজ আলাদা করতে থাকে তার নিজ স্বার্থেই।যদি এই সমাজে নারীরা সামনে এগিয়ে আসে,তাহলে যে এদের ভালোমানুষি ঢোপে টিকবে না তা তারা ভালই বোঝে আপনার আমার থেকে।তাই তো নানা রকমের ব্যবস্থা এখানে সাজানো হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন,নারীর নিরাপত্তা,নারী স্বাধীনতা,নারীর অধিকার ইত্যাদি।এসব বলে শেষ করা যাবে না।

আর সব কিছুই করা হয় নারীর আসল যে পরিচয় তাকে আড়াল করার লক্ষ্য থেকেই।তার যে মস্তিষ্কজাত ক্ষমতা তাকে উল্টো দিকে নিয়ে যাওয়ায় মুখ্য ব্যাপার এখানে।পুঁজিবাদের আসল ধর্মই হল নারীকে উল্টো দিকে নিয়ে যাওয়া।কারণ আমাদের মত দেশে এবং তথাকথিত উন্নত দেশেও নারীর একই অবস্থা।নারীর কাছে উন্নত পুঁজিবাদ আর অনুন্নত পুঁজিবাদ একই বিষয়।
সে যেমন ঘরেও নিরাপদ নয় আবার তেমন বাহিরে যেতে পারলেই নিরাপদ নয়।
এতক্ষণ ধরে এত এত কথা বলার একটাই কারণ।তা কি বলতে পারেন???
কারণ আমি চাই না এখানে আমার বোন শুধুই বোন হয়ে থাকবে।আমি চাই সে মানুষ হবে।
স্রেফ মানুষ।

আমার থেকে আলাদা কিছু নয়।
আমার প্রেমিকা শুধুই মানুষ হয়ে আমার সহযোদ্ধা হিসেবে থাকবে।

আমি জানি এসব আশা এই সমাজ পূরণ করতে পারে না।কারণ এই সমাজই পুরুষকে পুরুষ আর নারীকে নারী বানিয়েছে।যতদিন না এই সমাজ পরিবর্তন হচ্ছে ততদিন এখানে আপসোস করে বা মন খারাপ করে থেকে কোন লাভ নেই।বরং সমাজের আমূল রূপান্তরে অংশ নেয়াই এখানে প্রধান প্রতিবাদ।

প্রতিবাদের মিছিলেই কেবল একমাত্র নিরাপদ হতে পারে নারী।

সেখানেই সে মানুষ।

মানুষের মুক্তির মিছিলে
সে যতই বুলেটের আঘাতে
রক্তে রঞ্জিত হোক না কেন
সেখানেই সে নিরাপদ।

[গত বছর লেখা এই দিনে(১০-০৫-২০১৬)।আজো প্রাসঙ্গিক।]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

73 − 68 =