চোখ

বড়ই অদ্ভুত এই শহর ঢাকা
আমরা যারা মফস্বলের তাদের জন্যে তো বটেই
আর,অন্য সবার জন্যেও বটে।
এই শহরেই বাসে বাসে বসে- ঝুলে ছুটতে হয়–
আমাকে আরো অন্যকেও।হঠাৎ সিট পেয়ে
গেলে তো লটারী বিজয়ের সৌভাগ্য।
আরো কিছু সমস্যা আছে আমরা যারা মফস্বলী
নিঃসংকোচে বসতে পারি না সিট ফাঁকা পেলও কোনোও
নারী যাত্রীর পাশে।পোশাকে-আশাকে যারা
নিজেদের স্তন আর নিতম্ব সর্বস্ব প্রাণি হিসেবে জাহির
করতে চায়;তাদের পাশে তো নয়ই, মার্জিত রুচিশীল
পোশাকধারী, বয়স্কা, এদের নিতম্ব ঘেঁষে বসাটাও যেন
সংকোচের। কিন্তু উপায় থাকে না তখন,যখন
আপনার পাশের সিট ফাঁকা — ধপাস করে বসে
পড়বে যখন কোনো নারী।কবিতা বলতে গিয়ে
কী সব আজেবাজে বলছি বলুন তো!আসল
কথা বলা যাক,শুনুন তাহলে,
প্রিয় নারীর ভালোবাসা হারাবার পরে,
আমি আর কোনোও নারীর চোখে চোখ রাখি নি;
কেননা যদি ভালো লেগে যায়;আবার তা থেকে
যদি ভালোবাসার ব্যামো ধরে।তাই এতোদিন
শুধু বিরহী বিহঙ্গের ন্যায় দৃষ্টির
বাগানে ফুটিয়েছি রূপোলী ফুল– গন্ধ-বর্ণহীন।
কিন্তু আজ বাসে আমার পাশে একজন
পূর্ণগুণ্ঠনে ঢাকা দেহে চোখ মেলে চেয়ে
বসে রইলো আমার পাশে।তার দেহে
নেই কোনো আঁটোসাঁটো বোরখা।
যা আছে তাকে নিতান্ত মার্জিত
বোরখায় বলে।আজ আমি সে তর্কে যাবো না
সে বোরখা নিজ-ইচ্ছায় পড়েছে নাকি
আরবিক মোড়কে নিজকে ঢাকতে বাধ্য
করেছে তার পরিবার।কিন্তু,আহা ঐ
দুটি মায়াবী চোখ,যাতে এতো আবেদন
তা থাকলে কবি হয়ে উঠবেই যে কোনো
সৌন্দর্যপ্রিয় মানুষ, হউক সে নারী বা পুরুষ।
আমি আমার প্রিয় মানবীকে ঢেকে
খুলে তন্নতন্ন করে অনুভব করেছি
তবুও এতো ফুল ফোটেনি আমার হৃদয় বাগানে।
আজ এমন কী হলো!ঐ দু’টি কালো চোখ
আমার হৃদয় কোটরে প্রান-ভ্রমরা বনে
গেল যেন।আহা,কোন উপমায়, কোন
কবিতায়,কোনো সরল গদ্যে সে কথা বলা
যায়– বারংবার। কিন্তু আমি চোখ ফিরিয়ে
নিয়েছি,কারণ ভয়- ভয়- ভয়— পাছে মন নষ্ট হয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

24 + = 29