পানশি বিল

পাটগাছের বুক পর্যন্ত পানি। পানশি বিল থৈ থৈ করছে বর্ষার পানিতে। বিলের এক ধারে লোকজন ধান পাট চাষ করে। অন্যপাশে বড় বড় কয়েকটা পুকুর। বর্ষার পানিতে ফসলি জমি পুকুর সব একাকার হয়ে যায়। এখন পাটের সময়। প্রতিটা পাটের মাথা ঘোমটা পরা বৌয়ের মতো হেলেদুলে নাচছে। ঝিরিঝিরি বাতাসে কাপছে ছোট ঢেউগুলো।

সেদিনও ছিল ঠিক এমনি পরিবেশ। দ্বিতীয় নাইওরে নব বিবাহিত কিশোরী বৌকে নিয়ে বাড়িতে ফিরছিল চাদ মিয়া। এই বিলের মাঝখান দিয়েই। ছোট্ট নৌকাটাতে শুধুই তারা দুইজন। বৌ নাকি সাতার জানে না। এই কথা শুনে চাদ মিয়ার সে কি হাসি। বৌ তো লজ্জায় মাথা নিচু করে বসেছিল। কি জানি; কি মনে করে চাদ মিয়া নৌকাটাতে ঝাকুনি দিতে লাগলো। বৌ ভয়ে তার বুকে এসে লুকিয়ে গেলো। আর কি যে লজ্জা পেয়েছিল মেয়েটা। এই কথা নিয়ে সে কতবার যে বৌকে খেপিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। চাদ মিয়ার ঠোঁটে অজান্তে মুচকি হাসি ফুটে উঠলো।

“বাজান, ও বাজান। অই বড়শিটাতে মাছ আটকাইছে মনে হয়। দ্যাহো পানিতে কি তুলকালাম শুরু হইছে।” এগারো বছরের ছেলের কথায় বাস্তবে ফিরে আসে চাদ মিয়া। একটু দূরে ব্যাং গেথে দেয়া বড়শির দিকে তাকায়। পাটখেতের ফাকে পানির আলোড়ন দেখেই বুঝতে পারে এটা বোয়াল মাছ। হাতে ধরে থাকা বৈঠা কেপে ওঠে। বাবা ছেলে নৌকার পিঠে চেপে পাটখেতের আল ধরে সামনে এগিয়ে যায়। চকচক করে ওঠে দুইজোড়া চোখ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “পানশি বিল

  1. বর্ণনায় সাবলীলতা আছে, কিন্তু
    বর্ণনায় সাবলীলতা আছে, কিন্তু কোন ম্যাসেজ বা থিম পাইলাম না!!
    কি বলতে চাইলেন?

  2. দীর্ঘ চার বছর পর আবার গল্প
    দীর্ঘ চার বছর পর আবার গল্প লেখার অপচেষ্টা। অণুগল্পটাতে আমি বিলটাকে শুধু বোঝাতে চেয়েছি। তেমন কোন মেসেজ নাই। ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

    1. অনুগল্প হিসেবে বাজিমাত
      অনুগল্প হিসেবে বাজিমাত করেছেন… :পার্টি: :পার্টি:

      কিন্তু গল্প মৃত যদি পাঠকের মনে কোন প্রেরণা না দিতে পারে!!
      আশা করি আপানার লিখনিতে ভাল কিছু পাব, আগামীতে!!

  3. ইস্টিশনে স্বাগতম।
    আপনার

    ইস্টিশনে স্বাগতম। :গোলাপ:
    আপনার বর্ণনা ভঙ্গি চমৎকার। ইচ্ছে করলে আপনি অনেক ভাল গল্পকার হতে পারবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

84 − = 76