ধর্ষণের দায়

আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষ নারীকে ভিন্ন প্রজাতি,ভোগ্যপণ্য কিংবা শস্য ক্ষেত্র হিসেবে দেখি। ছোটবেলা থেকেই মেয়ে কিংবা নারীদের মানুষের বাইরে অন্য কিছু মনে করি। এটা ধর্মগ্রন্থ যেমন শেখায় তেমনি পারিবারিক ভাবেই শিখি। ছেলে মেয়েদের শিখাই না সবাই মানুষ। ছেলেকে বড় মাছের পিচ টা দিয়ে ওদের শিখিয়ে দেই বৈষম্য। শুধু তাই নয় ডান হাত কিংবা ডান পা কে সৌভাগ্য আর বাম হাত কিংবা পা কে অপয়া কিংবা মন্দ হিসেবে শেখানো হয় ছোট বেলা থেকেই। আর যুবতী নারী মানেই মধু এ শিক্ষা পারিপার্শ্বিকভাবে পেয়ে থাকি। তার মানে খাদ্য দ্রব্য। খাবার খোলা থাকলেই খেতে হবে এটা কেমন কথা? কাউকে যদি পোশাকের ব্যাপারে আপনি নিষেধাজ্ঞা কিংবা আইন করে দেন যে,তোমার এই ধরনের পোশাক পরতে হবে তাহলে আপনি তাকে করায়ত্ত কিংবা জোরপূর্বক চাপিয়ে দিলেন।জোরপূর্বক তার অনুমতি না নিয়ে এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যেমন শারিরীক ভাবে মিলনে বাধ্য করলে যেমন ধর্ষণ হয় ঠিক তেমনিভাবে কাউকে পোশাক নির্ধারণ করে দেওয়া টা ও আমি নির্যাতন হিসেবে ধরি। কে কি পরবে এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। কাউকে উলঙ্গ দেখলে যদি নেকড়ে বাঘের মত ঝাপিয়ে পড়তে হয় তাহলে নিজের মা, বোনের প্রতি ও ওইভাবে হায়েনা গুলোর ঝাপিয়ে পড়া উচিত। তখন ঠিকই বোঝে এটা করা ঠিক নয়। এজন্যই আগে শেখাতে হবে সবাই মানুষ আর নারী মানেই সেক্স যন্ত্র নয়। শিক্ষা টা পারিবারিক ভাবে দেওয়া জরুরি। তবে এটা করলেই যে ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে সেটা বলছি না। ধর্ষণের পরিমাণ আগে ছিলো, সেই অনুপাতে কমেছে এখনকার পৃথিবীতে, তবে সেটা যে সমূলে নির্মূল হবে সেটা নয়। এটা থাকবে। আর হ্যাঁ নারী পুরুষের শারিরীক সম্পর্ক এটা প্রকৃতির একটা স্বাভাবিক নিয়ম, এটার জন্যই পৃথিবীতে এতো মানুষ, এটা পৃথিবী ধ্বংসের আগ মূহূর্ত পর্যন্ত ও থাকবে। নারীর প্রতি পুরুষের কিংবা পুরুষের প্রতি নারীর টান থাকবেই। তার মানে এই নয় নারী মানেই পন্য। শেখানো হয় পিরিয়ড কিংবা বীর্যপাত মানেই লজ্জা। আরে ভাই এইগুলো মানব শরীরের একটা প্রক্রিয়া। বয়সে আসে আবার বয়সে শেষ হয়ে যায়। আর সানি লিয়নদের পুরুষেরা ই বানিয়েছে। সুতরাং ধর্ষণের জন্য নারী নয় পুরুষকে ই শতভাগ দায়ী বলে মনে করি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 2 =