প্রবাসের অখ্যাত গল্প



মাকে সাথে করে ঢাকা’র রাস্তাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, মনের মাঝে দুঃখের চাইতে আনন্দ হচ্ছে বেশী, কারণ ঐ একটাই, দীর্ঘদিনের চেষ্টা, তদবির, কষ্ট আর পরিশ্রমের পর আজ সত্যি আমি ইউরোপ চলে যাচ্ছি | পাশ থেকে মা বিড়বিড় করে কি সব বলেই যাচ্ছেন যার মাথা মুণ্ডু আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না –নিয়মিত চিঠি দিবি, আমাদের কথা সব সময় শান্ত মনে চিন্তা করবি, ও-হে ধর্ম কর্মকে একেবারেই ফেলে দিস না যেন , হালাল খাবার পাওয়া না গেলে বাজার থকে মুরগী কিনে নিজেই জবাই করে রান্না করে নিবি, একাধারে বলেই যাচ্ছেন আর আমি ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছি , একের পর এক স্বপ্ন রচনা করে যাচ্ছি, বেশ শিহরণ লাগছে বটে নিজেকে আধুনিক ভাবতে কার না ভাল লাগে | পেছনে চলে যাচ্ছে আমার ঢাকা, বুট জোড়া কি ফেলে দেয়া হবে, ফেলে দিলেই বা দোষ কি আমিতো ইউরোপে গিয়ে পুমা বা এডিডাস কিনে ফেলবো , রাস্তা দিয়ে হেটে যাবার সময় স্বর্ণকেশী সুন্দরী মেয়েদের কি ভাবে হাই হেলো বলবো আমিতো সেই চিন্তাতেই মশগুল, অথচ ইউরোপে এই স্বর্ণকেশীদের টেলিভিশনের পর্দায় কতই না দেখেছি এখন তারা সশরীরে আমার সামনেই এসে দাঁড়াবে, পাশাপাশি হাত ধরেই না হয় হেটে যাবো | ইংরেজি বলতে আমার তেমন অসুবিধা ছোট বেলা থেকেই ছিল না, বাবা মা সেই ছোট বেলা থেকেই ইংরেজি মিডিয়ামে পড়িয়েছেন | মার কাছে আমার এই একান্ত ইউরোপীয় অনুভূতিগুলো যেন প্রকাশ হয়ে না পরে তাই আমিও মাকে –হে, ও আচ্ছা, ঠিক বলেছ, মনে থাকবে – চিন্তা করোনা টুপি আর পাঞ্জাবিটা ব্যাগের নীচে ভাজ করাই আছে, এই সব ছন্নছাড়া উত্তর দিয়ে মাকে আসস্থ করার চেষ্টা করছি |

ড্রাইভার কে তাড়া দিলাম – একটু দেখেশুনে তাড়াতাড়ি চলো, বোর্ডিং পাস নিতে লম্বা লাইন হবে | মা উত্তর দিলেন –এতো তাড়াহুড়া কিসের হাতে তো আড়াই ঘণ্টা বাকী | আমি মাকে কি করে বোঝাই আমি যে ইউরোপ যাচ্ছি, আমার যে জীবনের অনেক স্বপ্নকে সার্থক করতে তাড়াহুড়া তো একটু থাকবেই, মনটাকে শক্ত করে বসে আছি | আমার ভাই, বোন বিভিন্ন ব্রান্ডের কাপড়, কসমেটিক্স এর লিস্ট আগে থেকেই আমার পকেটে ঢুকিয়ে দিয়েছে , ছোট বেলা থেকেই ভাইটি আমার খির্স্তান ডিওরের শার্ট, কার্টিয়ার পারফিউম ব্যবহার করে কাজেই তার ফর্দটা একটু ভারী বৈকি, বোনের সেই একটাই কথা -বিদেশী ঘরে তুলেছ কি মরেছ , ঝেটিয়ে বিদায় করবো | গাড়ী এয়ারপোর্ট পর্যন্ত তখনও পৌঁছায়নি, আসে পাশের মানুষদের ইতিমধ্যে আমার বেশ কালো কালো আর ময়লা মনে হচ্ছে, ঢাকা কি আসলেই খুব অপরিচ্ছন্ন ! ভাববই বা না কেন আমি তো এ দেশ ছেড়ে প্লেনে চড়ে ইউরোপ চলে যাচ্ছি |

হওয়াই-ফাইভ-ও, সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান টিভি সিরিয়াল গুলো সেই ছোটবেলা থেকেই মনের মাঝে বেশ প্রভাব বিস্তার করেছে, জন ওয়েনের ভঙ্গিমায় হাটার চেষ্টা করেছি বহুবার, আচ্ছা আমি তো চার্লস বেনসনের মত গরগর করে ইংরেজি বলতে পারবো, পারবনা কেন, বিদেশীদের সাথে তো কতই কথা বলেছি, কথা বলার সময় আমেরিকান টান দিতে আমার মোটেই বেগ পেতে হতো না | বোর্ডিং পাস হাতে নিয়ে দৃষ্টির আড়ালে চলে যাওয়া মা’র চোখের পানি হয়তো আমার মনে পরে না, আমার চোখে তো পানি মানায় না, ইউরোপে চলে আসা কোন যাত্রীর চোখের পানি বড্ড বেমানান, আমি কেন কাঁদতে যাবো , মা আমার আস্তে আস্তে কাঁচ ঘেরা বারান্দার আড়াল হয়ে যাচ্ছেন আর আমি এখন আসলেই ব্রিটিশ এয়ার ওয়েজের যাত্রী রূপে ইমিগ্রেশন পার হয়ে ঢাকাকে ভুলে যাবো | লাউঞ্জে ঢুকেই পকেটে থাকা একটা সিগারেট বের করেই পাশে সিগারেট হাতে সাদা ভদ্রলোকের কাছে প্রশ্ন করলাম –ডু উ হেভ অ লাইটার প্লিজ , যদিও আসে পাশে বেশ কিছু বাঙালী ভদ্রলোক সিগারেট ফুক ছিলেন তবুও সেই সাদা ভদ্রলোকের কাছেই লাইটার চেয়ে বসলাম , আমি তো ইউরোপ যাচ্ছি ইংরেজিতেই কথা বলতে হবে তা বাঙালী বাবুদের সাথে কিসের কথা |

অশান্ত মনটাকে কেন যেন কিছুতেই বাগে আনতে পারছিনা, প্লেনের দরজা পর্যন্ত পৌঁছতেই হুহু করে মনটা কান্নার সাগর ভেসে যাচ্ছে, ছোট বোন আর ভাইটির চেহারা চোখের সামনে ভেসে উঠছে, আসলেই এই আমি আজ ইউরোপের পথে পাড়ি দিচ্ছি যদি আর কখনও দেখা না হয়, বাবাকে মনে হয় খুব বেশী মনে পরছে, সকালে বাবা ঘুম থেকে উঠেই আদর করে বিছানার পাশে এসেই আমাকে ডেকে তুলতেন খেলার মাঠে বাবার সাথে এক সাথেই যেতাম সেই ভোর সকালে, বুট জোড়া বাবাই গুছিয়ে দিতেন, বাবার মনে আমাকে নিয়ে এক অন্তহীন স্বপ্ন, ছেলেকে তাঁর চাইতেও একজন বড় খেলোয়াড় হিসাবে তৈরি করবেন, অনুশীলন চলতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এভাবেই আমার জীবনটাকে নিজের ইচ্ছেমত ওলট পালট করে দিয়ে আমার বাবা যিনি কিনা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ বন্ধু আজ কিনা তাকেই ছেড়ে দিয়ে ইউরোপের পথে পাড়ি দিচ্ছি, নিজেকে খুব স্বার্থপর মনে হচ্ছে, ইচ্ছে হচ্ছে এই মুহূর্তে বাবার বিছানার পাশে গিয়ে হাজির হই, বাবাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে মাঠে নিয়ে যাই, চীৎকার করে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে বাবা তোমার স্বপ্নকে সার্থক করতেই আমার জন্ম, এলোমেলো মনটাকে কিছুতেই শান্ত করতে পারছি না |

-হয়াট উড ইউ লাইক টু ড্রিং স্যার, স্বর্ণকেশী বিমান বলার প্রশ্নে অশান্ত মনটা কেমন যেন বিগলিত হয়ে গেল, সত্যিই তো আমাকে আধুনিক হতে হবে, আমাকে দুর্বল হলে চলবে না, আসে পাশের সবাই দেখছি কেউ কোকাকোলা কেউবা ফলের রস নিয়ে বসেছে, বিমান বলাকে দেখেই মনে হচ্ছে এক সাগর ভালোবাসার আবেগ নিয়ে ঠিক আমারই সামনে দাড়িয়ে আছে, মুখে এই অপূর্ব হাসি দেখে মনটা গেয়ে উঠলো “ আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী”, তাইতো আমাকে যে ভাবেই হোক আধুনিক হতে হবে |

-ইয়েস প্লিজ, ডাবল জিন এন্ড টনিক উইথ লেমন,
বিমানবালা আমার দিকে কেমন যেন একটু কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে তাকাল, সচরাচর ঢাকা থেকে হিত্র গামী বাংলাদেশী যাত্রী জিন ও টনিক চেয়ে বসে না যদি না যাত্রীটি ইউরোপীয় হয় | জিন ও টনিক পেয়ে নিজেকে বেশ আধুনিক ভাবতেই মনের মাঝে বসন্তের হিমেল হওয়া ঝাপটা দিল, পাশের যাত্রীর বেশভূষা দেখে মনে হলো তিনি হয়তো এই প্রথম ইংল্যান্ডের পথে পাড়ি দিয়েছেন, ভাবলাম একটু আলাপ করে নিলে যাত্রা পথটা আনন্দদায়ক হবে |

-দাদা কি ইংল্যান্ড যাচ্ছেন ?
যাত্রী- না, ইংল্যান্ড নো, আই তো লন্ডন থাকি, দেশে ঘুরি গেলাম, আই লন্ডন থাকি বিশ বছর, তই আন্নেও কি লন্ডন যাইবেন নি কোনো ?
ভদ্রলোকের উত্তর শুনেই বুঝে নিলাম আমার যাত্রা পথটা কতটুকু দুর্যোগময়, আকাশে ঝড় না উঠুক অন্তত আলোচনায় যে ঝড় উঠে যেতে পারে সে ব্যাপারে আমি শত ভাগ সুনিশ্চিত | কথা না বাড়িয়ে আমি সামনের সিট পকেট থেকে সকালের নাস্তার মেনুটা পড়া শুরু করলাম, শুরুতেই লেখা আছে ইংলিশ ব্রেকফাস্ট উইথ ব্যেকন, পরোটা উইথ ভাজি আর ব্রেড এন্ড অমলেট, একটু পরেই নাস্তা দেয়া হবে তাই ভাবলাম আমিতো আধুনিক, আমার মাঝে জাত, ধর্ম, বর্ণ এসবের বালাই থাকা উচিত নয়, ইংলিশ ব্রেকফাস্ট উইথ ব্যেকন নিয়ে সগর্বে বসে গেলাম, খুব বেশী শিহরণ লাগছে, মনে হচ্ছে আজ আমি অনন্তকালের সকল কুসংস্কার থেকে নিজেকে মুক্ত করলাম | আমার গন্তব্য হিত্র থেকে ট্রানজিট হয়ে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোল্ম তাই ঘণ্টা তিনেক হিত্রতেই থাকতে হচ্ছে | মা অনেক কষ্ট করে তাঁর সঞ্চিত কিছু টাকায় শখানেক ডলার সাথে দিয়ে ছিলেন পেন্টের নীচে আন্ডার ওয়ারের ভেতর গচ্ছিত টাকাগুলো খুব সর্তপনে বের করে পকেটে ঢুকিয়ে নিলাম কারণ এটা তো আর গাবতলী বাস স্ট্যান্ড না যে কেউ পকেট মেরে দেবে | ট্রানজিট লাউঞ্জে ঘুরাঘুরির এক পর্যায়ে একটি পত্রিকার দোকানের সামনে এসে দাড়াতেই আমার চোখ তো চরক গাছ, সেলফে অনেক পত্রিকার ভীরে পিন-আপ সব পত্রিকাগুলো আমার দিকে ফেলফেল করে তাকিয়ে আছে, একজন সাদা ভদ্রলোক আমাকে অবাক করে খুব স্বাভাবিক ভাবেই একটি প্লেবয় ম্যাগাজিন হাতে নিয়ে কাউন্টারে চলে গেলেন, নিজেকে খুব গ্রাম্য মনে হচ্ছে, সেলফে সাজানো সামান্য কিছু পিন-আপ পত্রিকা দেখেই আমাকে বিব্রত হতে হবে তা মোটেই মানায় না, ইউরোপে যে যার মত চলবে, কিনবে, ভাববে, এটাই তো স্বাভাবিক | যেমন ভাবা তেমন কাজ কোন কিছু চিন্তা করার সময় কোথায়, মার কষ্টে সঞ্চিত টাকা থেকে আধুনিক আমিও একটা প্লেবয় ম্যাগাজিন কিনে ব্যাগে ঢুকিয়ে নিতেই মনে হলো তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ জয় করে নিয়েছি |

অপূর্ব সাজানো গোছানো স্টকহোল্ম শহর, সুন্দর সব মানুষ, পরিবেশ, দোকানপাট, রাস্তা ঘাটে সব স্বর্ণকেশী হুর পরীরা হেটে বেড়াচ্ছে, দেখে মনে হচ্ছে এমন সুন্দর স্বর্গ ছেড়ে এতদিন আমি কোথায় ছিলাম ? এরকম একটা স্বর্গের দেশ থাকতে এতো সব হুর পরী হাতের নাগালে তারপরও একদল ধর্মান্ধ মানুষ কিনা ধর্মের উপর ভর করে স্বর্গে গিয়ে বাহাত্তরটা হুরের আশায় স্বর্গে যেতে বুকে বোমা বেধে পৃথিবী ময় তাণ্ডব চালিয়ে বেড়াচ্ছে ? আসলে পরিবেশ পারিপার্শিকতার সাথে ধর্মের, আইনের, গণতন্ত্রের কত অমিল, বিষয়টি বুঝতে আমার অনেক দেরী হয়েছে, এদেশে কেউই স্বর্গ থেকে ভেসে আসেনি এরা সবাই আমাদের মতই সাধারণ মানুষ তবে তাদের চিন্তাধারা জীবনধারা আমাদের চাইতে কিছুটা ভিন্ন, কিছুটা নয় বলতে হবে আকাশ পাতাল দূরত্ব |

আমার মাঝে তো ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের বৈষম্য থাকার কথা না তারপরও কেন মাঝে মাঝে কিছু উদ্ভট পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় ? স্বল্প সময়ের সামার শুরু হয়েছে, অপূর্ব এই সুন্দর শহরটাকে কারা যেন রাতারাতি রং তুলি দিয়ে অসাধারণ সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রেখেছে, রাতের বেলাটায় পুরো শহরে যুবক যুবতীদের মনে আনন্দের ফোয়ারা বয়ে যায়, তরুণ সমাজ আর স্বর্ণকেশী সুন্দর রমণীরা নাম মাত্র কাপড়ে নিজেদের আচ্ছাদিত করে নাচের মেঝেতে গানের তালে তালে উদ্দাম নৃত্তে মত্ত হয়ে পরে, নিজেকে সেই আনন্দ ধারায় গা ভাসিয়ে দিতে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সন্ধ্যে বেলা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকি কখন সেই উদ্দাম নৃত্য শুরু হবে, নাচের জগতে আমি যেন একাই রাজা অসংখ্য বান্ধবী ঘেরা কৃষ্ণকে কে খুঁজে পায় |

বিকেলের দিকে সূর্যের প্রখরতা একটু কমে আসে. পার্কের ধারে একটি রেস্তোরাতে বসে বান্ধবীর সাথে বিয়ার পান করছি, পার্কের ভেতরে দুজন ভদ্রলোককে দেখেই একটু খটকা লাগলো, দেখতে অনেকটা আমাদের দেশী ভাইয়ের মতই মনে হচ্ছে কিন্তু একি কি বিদঘুটে বেশভূষা নিয়েছেন তারা ? একজনের পরনে স্যুট ও টাই তবে মাথায় হলুদ রঙ্গের ঢাকাই খানদানী টুপি, পায়ে রি-বুকের জিমনাস্টিক জুতা, অপর জনের গায়ে জামা কাপড় ঠিকই আছে তবে গায়ে একটা শীতের জ্যাকেট পরে আছেন | বিশ্বাস করুন আমি বর্ণবাদী নই, তবে এই উদ্ভট বেশভূষায় আমার দেশী এই দুই ভাইকে দেখে মনে হচ্ছে ভিন গ্রহের কোন প্রাণী, পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে যে কতটুকু বেমানান তা ভাষায় প্রকাশ করতে আমি অপারগ, আরো বেশী অবাক করার বিষয়ে হচ্ছে তাদের পেছনে পেছনে দুজন কালো বোরখায় আচ্ছাদিত মহিলা দেখে মনে হচ্ছে অনেকটা দুটো টেলিফোন কেবিন হেটে যাচ্ছে | কষ্ট হচ্ছে ভাবতে আমি কি আসলেই বর্ণবাদী হয়ে যাচ্ছি, কেন আমি স্বাভাবিক হতে পারছি না, বিয়ারের গ্লাসটা শেষ হতেই পাশে বসা বান্ধবী আরও দু গ্লাস নিয়ে হাজির, আচ্ছা এই বাঙালী ভাই দুজন কি এ দিকটায় হেটে আসছেন, ঠিক তাই কাছাকাছি এসেই অনেকটা ঘৃণার দৃষ্টি নিয়ে আমার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইলো, আমিও অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে হেরে গলায় একটা ইংরেজি গান গাওয়া শুরু করে দিলাম আর ইংরেজিতেই বান্ধবীর সাথে খোশ গল্পে নিমজ্জিত হলাম ভাবখানা যেন আমি আমেরিকা থেকে সদ্য এসেছি | ধর্মের প্রতি আমার কোনই বিদ্বেষ নেই , কিন্তু ভদ্রলোক যদি ধর্ম রক্ষার স্বার্থে স্যুটের সাথে রি-বুকের জিমনাস্টিক জুতা পরে টুপি পরিহিত অবস্থায় এই ভর সামারে স্ত্রীকে বোরখা পরিয়ে এই পার্কে ঘুরে বেড়ান তবে একটু অবাক হই বৈকি, একজন মানুষের যদি পরিবেশ আর পারিপার্শ্বিকতার উপর জ্ঞান না থাকে তবে তাকে উন্মাদ ভাবতে দোষটা কোথায় ! মনে মনে মা’র কথাটাই মনে পরে গেল “ হালাল মুরগী পাওয়া না গেলে বাজার থেকে মুরগী কিনে নিজেই জবাই করে রান্না করে নিবি”, ভাগ্যিস মা আমাকে গরুর কথা বলেননি | (চলবে)
/// মাহবুব আরিফ কিন্তু

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

45 + = 49