একটি ধর্ষন অত:পর একমাস:

অামাদের দেশ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় পরিচালিত। এখন কথাটি হচ্ছে সমাজ পুরুষতান্ত্রিক হলে সমস্যা কোথায়? অাসলে কি কোন সমস্যা অাছে?

?1445385600″ width=”512″ />

অাপতত দৃষ্টিতে সাদা চোখে দেখলে কোন সমস্যা মনে হবার কথা নয়। দৃষ্টিভঙ্গী এবং একটি মেয়েকে মানুষ হিসেবে তৈরী না করে নারী হিসেবে তৈরী করা হয়। এটি একটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার দুর্বল দিক। মানুষ হিসেবে গড়ে না তুলার পিছনে অনেক কারন থাকতে পারে স্বার্থবাদী পুরুষ সমাজের। প্রধান কারন হতে পারে সমাজের নিয়ন্ত্রক হওয়া বা অাধিপত্য টিকিয়ে রাখা।

একজন নারীকে প্রতিটি মুহুর্তে নানা বাধা পার করে যতটুকু সম্ভব এগিয়ে যেতে হয়। নারীর প্রতি পুরুষের ভোগবাদী চরিত্রের কারনে শুধু মাত্র নিজের স্বার্থে যাতে নারীকে ব্যবহার করা যায় সেটিই চায় এ সমাজ।

রাত কোন পুরুষ বের হলে তাতে কেউ কোন বাধা প্রদান করে না। ধরুন দুজন বন্ধু রাতে হোটেল থেকে বের হচ্ছে তাতে কারো কোন অাপত্তি নাই তাদের নিয়ে কেউ কোন কথাও বলবে না কিন্তু একবার ভেবে দেখুন কোন মেয়ে যদি হোটেল থেকে বের হতে দেখেন দিনে বা রাতে তাহলে তাকে কি ভাববেন নিশ্চিত খারাপ মেয়ে দেহ বিক্রি করতে অাসছে। হোটেলে যাওয়াটি যেন তার জন্য মহাপাপ। কিন্তু ছেলেটি রাতে হোটেল থেকে বের হল সেটি পুণ্যের কাজ না হলেও কোন অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। অাজব বিবেচনা।

ঢাকায় দুই তরুনীকে ধর্ষন করা হল তারা অভিযোগ করলো এক মাসপর থানায়। মজার বিষয় হল তাদের নিয়েও কটুক্তি করতে ছাড়ছে এ সমাজের কীটরা। অনেক পুরুষ ধর্ষকদের বিচার না চেয়ে তারা দেখতে চায় সে মেয়েদের। কেমন দেখতে তারা? শাররীক গঠন কেমন? বর্ণনাটা একটু বলো কি কি হয়েছিল কেমন করে হয়েছিল? এতে অামরা একটু শিহরিত হই জেগে উঠুক অামাদের দৈত্যটা।

মেয়ে দুটি হোটেলে গেছে সেটিকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মনে হয় ছেলেরা যা করার তাই করেছে তাতে সমস্যা কি? দৃষ্টিভঙ্গী এখানে নারী মুক্তির নয় নারীভোগের।

বারবার বলা হচ্ছে কেন এতোদিন পর তারা থানায় অভিযোগ করছেন? একবার ভেবে দেখুন এ দুটি মেয়ে তার বন্ধু বাবা মা সহ গোটা সমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে অভিযোগ করতে গেছে। সমাজ তাকে বলেছে তোমাদের জীবন অাছে এটা জানাজানি হলে পরে তোমাদের হত্যা করা হতে পারে বা পরে কেউ তোমাদের বিয়ে করবে না। অারো কতোকি।

এতো কিছুর পর তারা অভিযোগ করেছে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছে তারা। নানামুখী প্রশ্নের মুখে দাড়িয়েছে তারা।

তারা কি এমন অপরাধ করেছে? কাউকে বিশ্বাস করে কোন পার্টিতে যাওয়া কি অন্যায়? স্বামী যদি তার স্ত্রী সম্মতি ছাড়া দৈহিক মিলনও করে সেটিও কিন্তু অপরাধ। এ সমাজে সেসব কর্তরা ঘরে তেমন কাজটি সব সময় করে থাকে। তাই তারা মেয়েদের হোটেলের যাওয়াটাই অপরাধ ভাবছে ধর্ষনটাকে না।

রাস্তায় যখন কোন মেয়ে হেটে যায় তখন অধিকাংশ বা প্রায় পুরুষের চোখ থাকে তার বুকে বা নিতম্বে। যা নিয়ে বিব্রত থাকতে নারীকে। যেই শরীরের কোন অংশ দেখা গেল তাতেই পুরুষ জেগে উঠে। কিন্তু একবারও ভাবে না রাস্তার পাশে বসে যখন তুমি তোমার ন্যাচারাল কাজটি করছো তখন কি কোন মেয়ে তোমাকে ঝাপটে ধরেছে? না তা ধরেনি। মেয়েটি কাপড় কেমন পড়লো বা কোথায় গেল তা কোন সমস্যা না, সমস্যা পুরুষ সমাজ তোমার চরিত্রে।

এক মাস পর সাহস করে যে মেয়ে দুটি অভিযোগ করছে তাতে তাদেরকে সবার সমর্থন জানানো উচিত। কিন্তু সমাজের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গীর কারনে অাজও নির্যাতিত হতে হচ্ছে তারা।

এ অভিযোগের কারনে যাতে তারা অার কোন বিব্রতকর অবস্থায় না পড়ে সে দিকে লক্ষ্য রাখা দরকার সবার। তবে এ সমাজ তা করবে না তা অামি নিশ্চিত কারন তারা মেয়েকে মেয়েই ভাবে ভোগের কিছু, মানুষ ভাবে না।
সালাম নারী তোমায়,
জয় তোমাদেরই হউক বোন।
ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হউক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

78 − 73 =