রাজনীতির প্রয়োজনে ধর্মের ব্যবহার, আবার ধর্মের রাজনীতির প্রয়োগ – এ যেন একই তলোয়ারের দুটি দিক!!

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার কিংবা রাজনীতিবিদদের ধর্ম চর্চা – কথাটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যেভাবে বলা হোক না কেন, রাজনীতির জন্য ধর্ম ব্যবহার হয়েছে এবং হচ্ছে এটা হলো মোদ্দা কথা। কিন্তু কেউ কি একটু ভেবে দেখেছেন শুধু রাজনীতির প্রয়োজনের ধর্ম ব্যবহার হয়েছে এটা ঠিক, তেমনি ধর্ম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে রাজনীতিকে ব্যবহার হয়েছে যুগের পর যুগ? ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করে খ্রিষ্ট ধর্ম ও ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে রাজনীতির (পলিট্রিক্স) সুক্ষ্ম কূট কৌশল খুবই নগ্ন ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে,
?w=570″ width=”500″ />

রাজনীতির প্রয়োজনে ধর্মের ব্যবহার, আবার ধর্মের রাজনীতির প্রয়োগ – এ যেন একই তলোয়ারের দুটি দিক!!

দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশে একটি কথা শোনা গেছে, আর তা হ’ল ধর্ম নিয়ে “বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী” নামীয় দল রাজনীতি করে। আরো শোনা গেছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম জিয়াউর রহমান ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল হুসাইম মোহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করেছেন। যেখানে কমুনিষ্টরা পুরোমাত্রায় ধর্ম বিরোধী, সে আর্দশে সারা জীবন রাজনীতি করে প্রখ্যাত বাম নেতা রাশেদ খান মেনন সৌদি আরবে গিয়ে হজ ব্রত পালন করনে। হালে ক্ষমতাশীণ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ হেফাজতকে শান্ত রাখার জন্য খোদ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা শফি হুজুরদের দল বল সহ গণভবনে আমন্ত্রন করে হেদায়েত নেন। এভাবে দেখা খুঁজতে গেলে পাওয়া যাবে – এমন কোন রাজনীতি বিধ নেই যিনি প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে ধর্মের সাহায্য নেননি।

?w=570″ width=”500″ />

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার কিংবা রাজনীতিবিদদের ধর্ম চর্চা – কথাটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যেভাবে বলা হোক না কেন, রাজনীতির জন্য ধর্ম ব্যবহার হয়েছে এবং হচ্ছে এটা হলো মোদ্দা কথা। কিন্তু কেউ কি একটু ভেবে দেখেছেন শুধু রাজনীতির প্রয়োজনের ধর্ম ব্যবহার হয়েছে এটা ঠিক, তেমনি ধর্ম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে রাজনীতিকে ব্যবহার হয়েছে যুগের পর যুগ? ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করে খ্রিষ্ট ধর্ম ও ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে রাজনীতির (পলিট্রিক্স) সুক্ষ্ম কূট কৌশল খুবই নগ্ন ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, এ বিষয়ে কিছু অপ্রিয় সত্য কথা তুলে ধরার চেষ্টা করব।

ধর্মের প্রয়োজনে রাজনীতির সূক্ষ্ম কূট কৌশলের আশ্রয়-
প্রতিবছর মুসুলমানদের কোরবানী ঈদ অনুষ্ঠিত হয়। খুব উৎসাহের আমেজে উপমহাদেশে গরু কুরবানী করা হল। কিন্তু কেন কুরবানী?

উত্তরে বলা হবে – “মুসলিম জাতির বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এ ঈদুল আজহা যার অপর নাম কোরবানীর ঈদ। কোরবানী অর্থ উৎসর্গ। এ উৎসর্গ কি এবং কেনো? ইব্রাহীম (আ:) এর উপর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আদেশ করেছিলেন আল্লাহ তা’লার প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন স্বরুপ তাঁর (ইব্রাহীম আ:) প্রিয় জিনিস এ পৃথিবীতে তাঁর পুত্র ঈসমাইল (আ:) । প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ-স্বাভাবিক, মুকীম এবং সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা এর সমপরিমাণ মূল্যের সম্পদের মালিক হলে প্রত্যেক নর-নারীর উপর কোরবানী ওয়াজিব”।

মুসুলমানদের কুরবানীর ব্যাপারে উপরে কোটকৃত অংশে কুরবানী বিষয়ে যা বলা হয়েছে এবং সেবিষয়ে প্রশ্ন আসতে পারে হযরত ইব্রাহীম (ইহুদিদের জন্য আব্রাহাম) নিজ পুত্রকে কুরবানী (বলি) দিতে উদ্ধত্ত হলে দৈবক্রমে নিজ পুত্রের পরিবর্তে যে পশুটি কোরবানী (বলি) হয়েছিল সেটি ছিল দুম্বা, যা ছাগ প্রকৃতির মরূপ্রাণী। এটি স্মরনে আরবের মুসুলমানরা এখনো দুম্বা কোরবানী করে। ছাগলের আরেক নাম বকরী, একারণে কুরবানীর ঈদকে বকরী ঈদও বলা হয়। কিন্তু উপমহাদেশে মুসুলমানদের কুরবানীর ক্ষেত্রে প্রধান পছন্দের পশু হলো গরু। সুতরাং সঙ্গতঃ কারণে প্রশ্ন আসতে পারে উপমহাদেশে দুম্বা বা ছাগল জাতীয় প্রাণী কুরবানীর পরিবর্তে কেন এখানে গরু কুরবানী করা হয়?

এখন এর উত্তরে আসা যাক –
ভারতবর্ষের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, – ৭১২ সালের পূর্বে এ উপমহাদেশে কোন মুসুলমান ধর্মাবলম্বী ছিল না। কিছু কিছু ছিল বৌদ্ধ, জৈন, জরথ্থুষ্টীয় ও অন্যান্য নৃগোষ্ঠী ব্যতীত প্রায় অন্য শতভাগ মানুষই ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বী (সনাতন অবলম্বীদের বুঝানোর জন্য হিন্দু ধর্ম নামটি প্রথম মুসলিমরা ব্যবহার করত পরে এটি স্থায়ী হয়ে আজকের রূপ নেয়)। এছাড়াও গুটি কয়েক পারশিক ছিলেন, যারা ইরান থেকে ইসলামী আগ্রসনের কারণে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। গরু সনাতন ধর্মে ভগবান বিষ্ঞুর বাহন বলে বিবেচিত এবং একারণে গরুকে গো ব্রাম্মণ, গোমাতা হিসাবে পূজো দেয়া হয়। এধর্মমত অনুযায়ী গো হত্যা মনুষ্য হত্যার মত মহাপাপ বলে বিবেচিত। ৭১২ সালের পূর্বে আরবরা উপমহাদেশ আক্রমনের পরিকল্পনার সময়ই ভারতবর্ষের প্রচালিত ধর্মের গো হত্যা বিষয়ে স্পর্শকাতর দূর্বলতা ওরা বুঝে নিয়েছিল। একারণে আরবের মুসলিমরা ভারতবর্ষে এসে যে এলাকারয় ওরা রাজা-মহারাজাদের পরাজিত করেছে এবং ঐ এলাকায় ওরা প্রজাদের জোর জরবধস্তি ধর্মান্তরিত করেছে। বিজিত মানুষগুলো পিতৃধর্মানুযায়ী যেহেতু গো হত্যা মহাপাত তাই সদ্য ধর্মান্তরিত মানুষ গুলোকে দিয়ে গো হত্যা করিয়েছে এবং গো-মাসংস ভক্ষন করিয়েছে। মূলতঃ কালক্রমে এভাবে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসুলমানদের পছন্দের তালিকা গোমাংস ও কুরবানীর প্রধান পশু ও খাদ্যে পরিণত হয়। মূলতঃ আরবীয় মুসলমানরা এদেশের নও মুসুলমানদেরকে দিয়ে গরু কুরবাণী করায়নি, যা করিয়েছিল তা ছিল ধর্মান্তরিত হবার পূর্বে সহস্র সহস্র বছরের লালিত উপমহাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষটির ধর্ম বিশ্বাসের ভিত্তি মূলে আঘাত করা এবং তাকে তার পৈত্রিক বিশ্বাসকে চূড়ান্তভাবে শেষ করা। ভারতীয় উপমহাদেশে এখনো নও মুসলিমকে ঘটা করে গরুর মাংস ভক্ষন করা হয় এবং আগামীতেও এধারা থাকবে।

উপমহাদেশের খৃস্টানদের কাছে গো মাংস, শুকর ও মদ এতো প্রিয় কেন?
খ্রিষ্টানরা সম্ভবতঃ ১৫০০ শতকে এদেশে বানিজ্যের নামে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে এবং সাফল্য পায় ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। তখন থেকে খৃষ্ট ধর্ম প্রচার শুরু করে। প্রথমে এরা আর্থিক ভাবে চরম দরিদ্র মুসুলমান ও দরিদ্র হিন্দুদের খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করতে শুরু করে। খ্রিষ্টানরা উপমহাদেশে আসার পূর্বেই জেনে গিয়েছিল শুকর প্রাণীটার ব্যাপারে ইসলাম ধর্মে চরম নেতিবাচক ধারণা দেয়া হয়েছে বলে মুসুলমানদের নিকট অতি ঘৃণিত প্রাণী, যার নাম নেয়া একজন মুসুলমানের জন্য হারাম। মদও ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ করা হয়েছে (যদিও আরবের রাজকীয় পরিবারের জন্য বৈধ)। অন্যদিকে গো বধ কিংবা গো মাংস হিন্দুদের জন্য নিষিদ্ধ। সুতরাং খ্রিষ্টানরা এ উপমহাদেশে ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টানদের জন্য তাদের প্রধান ধর্মীয় ও পারিবারিক উৎসবের খাদ্য তালিকায় প্রধান মেন্যু হিসাবে শুকরের মাংস ও মদ প্রচলন করে। পাশাপাশি গরু মাংসকে দ্বিতীয় পছন্দের খাদ্য তালিকায় রাখা হয়েছে। এরকারণ হলো মুসুলমানদেরকে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষা দেবার পর শুকর মেরে মাংস খাওয়া হয়, যার ফলে মুসুলমান তার নির্জ ধর্ম থেকে খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে তার ইতোপূর্বে ধারণ করা ধর্ম বিশ্বাসকে শুকরের মাংস ভক্ষনের মাধ্যমে নষ্ট করা। একই ভাবে হিন্দুকে গো মাংস খাইয়ে তার পিতৃধর্ম বিশ্বাসে চরমভাবে নষ্ট করা। এভাবে উপমহাদেশে কুরবানী ঈদে গরু কুরবানী হয় না, যা হয় তাহল এ সকল মানুষদের পূর্বসূরীদের ধর্ম বিশ্বাস, আবার একইভাবে খ্রিষ্টানদের শুকর ও মদ খাওয়ানোর নামে যা হয়, তাহল নব দীক্ষিত খ্রিষ্টানটির পূর্ববর্তী ধর্ম বিশ্বাস সমূলে নষ্ট বা অমর্যাদা করা।

পরিশেষ বলা হয় যে উদ্দেশ্যে কুরবানী ঈদে গরু কুরবানী করা হয়, খ্রিষ্টানরা ঠিক একই উদ্দেশ্য রেখে খ্রিষ্টানদের পারিবারিক উৎসবে খাদ্য তালিকায় প্রধান মেন্যু হিসেবে শুকরের মাংস ও মদ রাখা হয়। উপমহাদেশে মুসুলমানদের কুরবাণীর ঈদে গো হত্যার উৎসব আর খ্রিষ্টানদের শুকর খাওয়া উভয়ে ধর্ম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে রাজনীতির কূট কৌশনের অপ-ব্যবহার। দুটি ধর্মের এধরনের বিষয় গুলো একই সূত্রে গাঁথা ধর্ম প্রচারে ব্যবহৃত রাজনীতি কূটকৌশল মাত্র।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + = 6