আমার কথা বলি একটু।

এ সমাজ বদলাবে? মুসলমানরা কি পরিবর্তিত হবে কখনো? আমার মনে হয় না। বাংলাদেশের মানুষগুলোর মন মানসিকতা দেখলে আজকাল বড় হতাশ লাগে। আমারা যারা সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখি, তাদের সামনে আজ আর কিছু নেই। রাষ্ট্রীয় ভাবে, আন্তর্জাতিক ভাবে অন্ধকারাচ্ছন্নতা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে এ দেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর উপর। যদি শুধু স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়া হতো এ জনপদকে, তবে আশা ছিল। কিন্তু বিশাল ক্ষমতাবান কোন শক্তি রাজনীতির মোড়বে ধর্মের বিষ ছড়াতে থাকে, তখন কিইবা করতে পারব আমরা গুটি কয় মানুষ! শুধু শুধু নিজের জীবন বিপন্ন করে কি লাভ আসলে!

যাক সেসব কথা। এই যে ছদ্ম নামে লেখা শুরু করলাম, তার কারণটা আজ বলি। আমি কখনই উদ্রবাদী নই। কেউ ধর্ম পালন করলে আমার বিন্দু মাত্র আপত্তি নেই। সেটা সে করতেই পারে। আমারই বন্ধু আছে, বলে দোস্ত মানুষের বিরুদ্ধে বিন্দু পরিমান কিছু যদি যায়, ধর্মের সেই ব্যাপারটা আমি মানি না। যতই তা কোরআনে লেখা থাকুক না কেন। কিন্তু সে নামাজ পড়ে, পাঁচ ওয়াক্তই পড়ে। আমি তাকে বলেছিলাম, যেসব সুরা পড়ছো তাতে তো মানুষের মুন্ডুপাতের কথাই বেশি আছে। বেচারার পড়াশুনা বেশ ভাল। দীর্ঘ দিন ইংল্যান্ডে ছিল। কিছুক্ষণ থম মেরে থেকে বলেছিল, কি করবো দোস্ত! দিন শেষে যখন অনেক কিছুর উত্তর পাইনা, অনিশ্চয়তায় কাটে জীবন, মনে হয় কারো কাছে নিজেকে সমর্পণ করি। বিলীন হয়ে যাই। আমি বলেছিলাম, মেডিটেশন করলেও পার। হেসে যা বলেছিল, মুসলমান ঘরে জন্ম। নামাজটাই ধ্যান আমার। বেচারার নামাজ পড়াটা দেখলে আমারও শান্তি শান্তি লাগে। সে নাকি আজকাল সুরাও বেছে পড়ে! আমার বাবাও আরেকজন। সরাসরি কথা আজকাল খুবই কম হয়। উনিও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। তবে ইসলামের যে ব্যবচ্ছেদ করেন, মাওলানারা শুনলে কোতল করবে! যা হোক, বলছিলাম আমার কথা। কেন ছদ্ম নামে লিখি আজকাল। আমার কাছের বন্ধু বান্ধব, সহকর্মী, অধিকাংশ আত্মীয়রা জানেন যে আমি নাস্তিক। ফলে যেটা হয়, সাধারণ কিছু লিখলেও তারা ধর্মীয় আলোকে সেটার বিচার করেন। যেমন, একবার লিখেছিলাম আমরা যে আগে হিন্দু, বিশেষ করে নিম্ন বর্ণের হিন্দু ছিলাম সেটা বলাতে। কালের হিসাবে মুসলমানদের তো সেদিন জন্ম! আমি তার আগের ইতিহাস জানবো না? তা নিয়ে লিখবো না? এমন ক্ষ্যাপা খেপলো আমার কলিগরা আর কিছু বন্ধু। যেন আমি বানোয়াট কিছু বলেছি! তারপর কিছু উদ্ভট জেরার মধ্যেও পড়তে হয়। কোরবানি নিয়, বিশেষ করে এ সময়ে যে ব্যাপক নোংরামি আর অস্বাস্থ্যকর ব্যাপার স্যাপার হয়, তা নিয়ে লেখাতে একদল ফতোয়া দিল, আমার কোরবানির মাংস খাওয়া অনৈতিক! আরে ভাই আমার কাছে কোরবানির মাংস আর বলির মাংস, কোন তফাত নেই। কেউ যদি ভালবেসে দেয়, খাব না? বন্ধুরা তো কেউ কেউ বলতে শুরু করলো, আমার নাস্তিকতা ফ্যাশন, সস্তা জনপ্রিয়তা পাবার বাহানা! বাংলাদেশে নাস্তিকরা জনপ্রিয়?! কল্লা বাঁচানো যেখানে দায়, সেখানে জনপ্রিয়তা! তাই এখন আর স্বনামে লিখি না। জনপ্রিয়তার ইস্যুও থাকলো না, ফ্যাশনের ইস্যুও থাকলো না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 2 =