মানুষের উদ্ভব (বিবর্তনবাদ- ২)

Descent of Man (1872) গ্রন্হে Charles Darwin বোঝাতে চেষ্টা করেছেন মানুষের পূর্বপুরুষ মানুষ ছিল না। মানুষের উদ্ভব হয়েছে ধারাবাহিক বিবর্তনের মাধ্যমে এবং তা অন্য Primate জাতীয় প্রাণি থেকে। “গ্রেগরী” (Gregory) মনে করেন মানুষের উদ্ভব হয়েছে বড় মস্তিষ্কবিশিষ্ট নরবানর থেকে। বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী অধিকাংশ বিজ্ঞানীই মনে করেন বিবর্তনের ধারা বেয়ে ক্রমবিকাশের মাধ্যমেই এ জটিল প্রাণিটির উদ্ভব হয়েছে।


বিজ্ঞানে মানুষ সম্পর্কে অধ্যয়ন সবচেয়ে জটিল বিষয়। কেননা মানবদেহ একটা জটিল বিস্ময়কর আধার, তারপরও এতে সংযোজিত রয়েছে চিন্তাশক্তি, মননশীলতা, স্মরণশক্তি, বাকশক্তি বা ভাষা। অর্থাত্‍ সবদিক দিয়েই মানবদেহ বিস্ময়কর। মানুষ তার বিশেষ গুণগুলোর সাহায্যে প্রকৃতি ও পরিবেশকে আয়ত্তে আনতে সক্ষম হয়েছে।
Descent of Man (1872) গ্রন্হে Charles Darwin বোঝাতে চেষ্টা করেছেন মানুষের পূর্বপুরুষ মানুষ ছিল না। মানুষের উদ্ভব হয়েছে ধারাবাহিক বিবর্তনের মাধ্যমে এবং তা অন্য Primate জাতীয় প্রাণি থেকে। “গ্রেগরী” (Gregory) মনে করেন মানুষের উদ্ভব হয়েছে বড় মস্তিষ্কবিশিষ্ট নরবানর থেকে। বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী অধিকাংশ বিজ্ঞানীই মনে করেন বিবর্তনের ধারা বেয়ে ক্রমবিকাশের মাধ্যমেই এ জটিল প্রাণিটির উদ্ভব হয়েছে।

বিবর্তন সংক্রান্ত চিন্তা ভাবনাটা বর্তমান কালেই নয় এটা আদিকালের গ্রিক পন্ডিত এরিস্টটলের চিন্তা ভাবনায়ও বিবর্তন সংক্রান্ত দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়। তাঁর মতে, পৃথিবীতে এক সময় কেবল জড়বস্তু ছিল, তারপর সৃষ্টি হয়েছে গাছপালা, তারপর ধীরে ধীরে ক্রমেই প্রাণির উদ্ভব ঘটেছে। সকল কিছু সৃষ্টি হয়েছে ধারাবাহিক পদ্ধতিতে।
1924 খ্রি. আফ্রিকায় খনন কাজ চালাতে গিয়ে বেশ কিছু সংখ্যক লুপ্ত নরবানরের কংকাল, মাথার খুলি পাওয়া যায়। পরবর্তিতে পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, এই মাথার খুলি ও কংকালের সাথে বর্তমান মানবকূলের বেশ কিছু মিল রয়েছে। এদেরকে বলা হয় Australopithecine। এদের মগজের পরিমাণ ছিল কম। অনেকের মতে এরাই মানুষের পূর্বপুরুষ। কারন হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন যে,

  • ১। এরা অনেকটা সোজা হয়ে দু পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারত।
  • ২। এরা পাথরের হাতিয়ার বানাতে পারত।
  • ৩। কমপক্ষে পাথর ছুঁড়ে শিকার করত।


তাই অধিকাংশ নৃ-বিজ্ঞানী এদের মানুষ ও নরবানরদের মধ্যেকার যোগসূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
একজন নৃ-বিজ্ঞানী কোন জীবাশ্মকে তিনটি বিষয় বিচারের মাধ্যমে তাকে লুপ্ত মানবধারার জীবাশ্ম হিসেবে চিহ্নিত করেন।

  • ১। সে সোজা হয়ে দু পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারতো কিনা?
  • ২। এদের মগজের পরিমাণ কত এবং তা বর্তমান মানুষের কাছাকাছি কিংবা বর্তমান নরবানরদের চেয়ে বেশি কি না?
  • ৩। তারা হাত দিয়ে কমপক্ষে পাথরের তৈরি হাতিয়ার বানাতে ও ব্যবহার করতে পারত কিনা?

শিম্পাঞ্জি, গরিলা বা নরবানর ভবিষ্যত্‍ সম্পর্কে তখনও ভাবতে পারত না, এখনও পারে না। কিন্তু মানুষ তা পারে এবং আদিতেও পারত। এ জন্যে লুপ্ত মানবগোষ্ঠী ও ভবিষ্যতের ভাবনা ভেবে নানা ধরনের নানা আকৃতির পাথর দিয়ে হাতিয়ার বানাত এবং তারা জানতো ও বুঝতো কোনটা দিয়ে কি কাজ করা যাবে। এ জন্যই মাটি খুঁড়ে পাওয়া মানব কঙ্কাল বা তার অংশের সাথে একই স্তরে বিভিন্ন ধরনের পাথরের তৈরি হাতিয়ার পাওয়া গেলেই তবে তাকে লুপ্ত মানব পর্যায়ে ফেলা হয়।
মানুষের সর্বপ্রথম উদ্ভব কোথায় ঘটেছে সুনিশ্চিত করে বলা য়ায় না তবে সম্ভবত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াই মানুষের আদি জন্মভূমি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকাতেও সমসাময়িক আদি মানবের কঙ্কাল জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। Charles Darwin মনে করতেন প্লায়োসিন ইপোকে মধ্য এশিয়ার আবহাওয়ার মানুষের বৃক্ষচারী পূর্ব-পুরুষরা বৃক্ষ থেকে নেমে আসে, আবার এ অঞ্চলটাই অধিকাংশ গৃহপালিত জন্তুর আদিভূমি। কিন্তু মধ্য এশিয়ায় এখন পর্যন্ত কোন নরকঙ্কালের জীবাশ্ম পাওয়া যায়নি। আবার দক্ষিণ এশিয়ায়ও কোন লুপ্ত মানবের জীবাশ্ম পাওয়া যায়নি কিন্তু লুপ্ত মানুয়ের হাতিয়ারের জীবাশ্ম এ অঞ্চলে প্রচুর পাওয়া গেছে। মাত্র সামান্য কটি লুপ্ত মানুষের কঙ্কাল আবিষ্কার দিয়ে সুনিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না যে আদি মানুষের আদি জন্মভূমি কোনটা? তবে সম্ভবত মানুষের আদি পুরুষ বৃক্ষচারি অভ্যাসটা ত্যাগ করেছিল মায়োসিনের আগে নয় আবার আদি প্লায়োসিনের পরেও নয়। সম্ভবত দেরীতে আর্থাত্‍ প্লায়োসিনের শেষের দিকে।

[বিদ্রঃ আরও বিস্তারিত আসছে পরবর্তী পোষ্টে………]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “মানুষের উদ্ভব (বিবর্তনবাদ- ২)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

28 − 18 =