সরকার ও বিচার বিভাগ মুখোমুখি হওয়ার নেপথ্যে যারা


শুধু বিচারক নয়, অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ সমানুপাতিক (আনুপাতিক নয়) হারে সচীবের মর্যাদা পাওয়ার দাবীদার; কারণ বিসিএস/সরকারী কর্মকর্তা হওয়ার পিছনে সুপ্ত বাসনা থাকে চাকরির শেষ জীবনে সর্বোচ্চ পদ মর্যাদায় আসীন হওয়া। কিন্তু শুধু এক ক্যাডার থেকে সর্বোচ্চ ‘পদ মর্যাদা’র আধিক্য কেন?


ব্যাক্তিগত রেষারেষি থেকে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ভেতর (আইন) মন্ত্রণালয় গ্রুপ এবং হাইকোর্ট গ্রুপের উদ্ভব। মন্ত্রণালয় গ্রুপের নেতৃত্বে সচিব ও যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) এবং হাইকোর্ট গ্রুপের নেতৃত্বে হাইকোর্টের এডিশনাল রেজিষ্ট্রার (প্রশাসন) ও ঢাকার সিএমএম। যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে পূর্বে ঢাকা থেকে পোস্টিং নিয়ে বগুড়া যাওয়ার সময় নিজ পরিবারকে আজিমপুর সরকারী কোয়ার্টারে রাখতে ব্যর্থ হয়ে বর্তমান হাইকোর্টের এডিশনাল রেজিষ্ট্রার (প্রশাসন) সাহেব বর্তমান সচিব ও যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) সাহেবের ওপর নাখোশ হন। মাননীয় চীফ জাস্টিস মহোদয় আইনজীবী থাকা অবস্থায় তার চেম্বারে ‘জুনিয়র’ হিসেবে কাজ করার সুবাদে চীফ জাস্টিস মহোদয় দায়িত্ব নেয়ার এক সপ্তাহের ভেতরেই এডিশনাল রেজিষ্ট্রার (প্রশাসন) সাহেব ডেপুটেশনে হাইকোর্ট অফিসে যোগদান করেন। তারপরই শুরু হয় মূল ঘটনা।

কাটা-ছেড়া ও ফাইল চালাচালি। বলা হয়ে থাকে, সচিব ও যুগ্মসচিব (প্রশাসন) সাহেবদের ওপর পূর্বের রাগ পুষিয়ে নিতে এডিশনাল রেজিষ্ট্রার (প্রশাসন) সাহেব মাননীয় চীফ জাস্টিস মহোদয়কে ভুল বুঝিয়ে পোস্টিং ফাইলে কাটাছেড়া করান। মন্ত্রণালয় গ্রুপ আওয়ামী লীগ পন্থীদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিচার বিভাগীয় সম্পূর্ণ বিএনপি-জামায়াতি চক্র ওই হাইকোর্ট গ্রুপকে পিছন থেকে ইন্ধন দিচ্ছে। হাইকোর্টের এডিশনাল রেজিষ্ট্রার (প্রশাসন) সাহেব হয়তোবা আওয়ামীপন্থী হলেও তার পূর্বের ক্ষোভ ও জামায়াত-বিএনপি’র গোপন ইন্ধনের কারণে মন্ত্রণালয় ও হাইকোর্ট আজকে মুখোমুখি। শর্ত পূরণ না হওয়ার কারণে জেলা জজ পদে তার ব্যক্তিগত প্রমোশন আটকে যাওয়ায় অন্যান্যরাও প্রমোশন বঞ্চিত হয়ে ফাইল চালাচালি অব্যহত আছে। তার গ্রুপের ঢাকার সিএমএম সাহেব এক রহস্যপুরুষ। তার শ্বশুর না-কি সাতক্ষীরার আওয়ামী লীগ নেতা। আবার চাচা শ্বশুর জামায়তি। সুযোগ-সুবিধা নিতে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী জামায়াতিরা আওয়ামী লীগার আত্মীয়দের ব্যবহার করে এবং রেফরেন্সে বলে, “আমার অমুক, তমুক আওয়ামী লীগের নেতা কিন্তু নিজে কোনদিন ছাত্রলীগের কোন কমিটিতে ছিল কি-না সেই বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ থাকে। অতীতেও শুনা গিয়েছিল, সিএমএম পদে নিজের মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য নিজেকে আওয়ামী লীগ সাজিয়ে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের দৃষ্টিআকর্ষণ করতে জামায়াতি সিন্ডিকেটের সাহায্যে “কে এই হাফিজ” শিরোনামে খবরের কাগজে রিপোর্ট করানো হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াতিদের সাথে তার গোপন ওঠা-বসা। সিএমএম কোর্টের দায়িত্ব নিয়ে তিনি গ্রুপ ভারী করার নামে ওই কোর্টে বিএনপি-জামায়াতিকরণ অব্যহত রেখেছেন। ঢাকার সিএমএম কোর্টে হাফিজ সাহেবের পদায়নের পর তার পছন্দের দূর্নীতিবাজ কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে গুরুত্মপূর্ণ কাজ করানোয় বিএনপি-জামায়াতপন্থী কয়েকজন আইনজীবী ও সেই ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবেরা ফুলে ফেপে উঠছেন। কিন্তু হাইকোর্ট এর সুনজর থাকায় তাদেরকে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়কে সরকার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার পিছনে কতিপয় বিচার বিভাগীয় রহস্যপূর্ণ অফিসার; যাদের কারণে প্রধান বিচারপতির ভাষা এবং জামায়াত-বিএনপির ভাষা একই মনে হয়। শুধু ব্যাতিক্রম দেখাতে গয়েশ্বরের ন্যায় দুইজন হিন্দু এমএমকে রাখা হয়। অসমর্থিত সূত্রে আরও জানা যায় যে, প্রমোশন সংক্রান্ত শর্তের শুন্যতা পূরন করতে এডিশনাল রেজিষ্ট্রার সাহেব সিএমএম সাহেবের জায়গায় এবং সিএমএম সাহেব এডিশনাল রেজিষ্ট্রার সাহেবের জায়গায় পোস্টিং নিতে চীফ জাস্টিস মহোদয়কে বুঝানোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।

জেলা জজদের সচীবদের ওপর বা সচীবদের সমমর্যাদা দেয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে উচ্চ আদালতের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সরকারকে র্নিবাহী বিভাগীয় জামায়াত-বিএনপি চক্র এবং বিচার বিভাগকে বিচার বিভাগীয় জামায়াত-বিএনপি চক্রের গোপন ইন্ধন হচ্ছে এই দ্বন্দ্বের নেপথ্যে মুল কারণ। উল্লেখ্য, বিচার বিভাগীয় জামায়ত-বিএনপি গ্রুপই এখন বিচার বিভাগীয় ‘হাইকোট’ গ্রুপ। র্নিবাহী বিভাগীয় জামায়াত-বিএনপি চক্র পলিসি মেকার র্নিবাহী বিভাগকে গোপন ইন্ধন দিচ্ছে, “জেলা জজেরা সচীব হলে অন্যের ওপর মাতব্বরী করা আমাদের ক্ষমতা শেষ। তাই কোনভাবেই জেলাজজদের সচীব হতে দেয়া যাবে না”। আবার বিচার বিভাগীয় জামায়াত-বিএনপি চক্র গোপন ইন্ধন দিচ্ছে, “আমাদেরকে সচীবদের সমমর্যাদা দিবে না। তাই সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতীয় রায় ও বক্তব্য চলমান রাখতে হবে”। একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নিতে নির্বাহী বিভাগে প্রকাশ্যে কোন গ্রুপিং নেই; অথচ বিচার বিভাগ প্রকাশ্যে গ্রুপিংয়ে জড়িত।

শুধু বিচারক নয়, অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ সমানুপাতিক (আনুপাতিক নয়) হারে সচীবের মর্যাদা পাওয়ার দাবীদার; কারণ বিসিএস/সরকারী কর্মকর্তা হওয়ার পিছনে সুপ্ত বাসনা থাকে চাকরির শেষ জীবনে সর্বোচ্চ পদ মর্যাদায় আসীন হওয়া। কিন্তু শুধু এক ক্যাডার থেকে সর্বোচ্চ ‘পদ মর্যাদা’র আধিক্য কেন?

২০১৩ সালে জামায়াত-বিএনপি’র জ্বালাও-পোড়াও থেকে সরকারকে সুরক্ষা এবং ২০১৫ সালে জা্মায়াত-বিএনপি জোটের আগুন সন্ত্রাস থেকে সরকারকে স্থিতি দিয়েছে পুলিশ ও বিচার বিভাগ। পুলিশ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করলেও সেই সন্ত্রাসীদের জেলহাজতে প্রেরণ করেছে বিচার বিভাগ। পুরষ্কারস্বরুপ পুলিশ বিভাগ সরকার থেকে অনেক দাবী-দাওয়া আদায়ে সক্ষম হয়েছে কিন্তু বিচার বিভাগ কেন নয়?

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদও হয়তোবা তৎকালীন বঙ্গভবনস্থ ছদ্মবেশী জামায়াতিদের গোপন ইন্ধনে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করেছিলেন। বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনা যেকোন সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলেই অতীতের সমস্যা সংকুল বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে আজকে বিশ্বের বিষ্ময়। সমস্যা সমাধানে আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্ক্ষী সংশ্লিষ্ঠ সকল মহল আন্তরিকভাবে সামনে এগিয়ে আসলে-ও ইন্ধন দাতা জামায়াত-বিএনপি চক্র আবারও বরাবরের মতোই আড়ালে থেকে যাবে।

@ খোরশেদ আলম

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “সরকার ও বিচার বিভাগ মুখোমুখি হওয়ার নেপথ্যে যারা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 1 =