মাননীয় প্রধান মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
অবদমিত মানুষের নেত্রী হিসেবে আপনি ছাড়া আমাদের আর ভরসা নেই। আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছেন আপনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। অনেক দুঃখ এবং বেদনার্ত হয়ে আজ আমরা আপনার স্মরনাপন্ন হয়েছি।

পৃথিবীর ইতিহাসে সভ্যতার উত্থান ঘটাতে ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন একটি অন্যতম সূচক। ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের সাথে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিকাশের সম্পর্ক রয়েছে। ভূমির সাথে মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। এই সম্পর্ককে মানবিক রূপ দেয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা যদি ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটাতে পারি তবে তা অবশ্যই সভ্যতা বিকাশের একটি মাইল ফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, ভূমির সাথে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের সম্পর্ক জড়িত। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন মান উন্নয়ন ঘটলে জাতি হিসেবে আমাদের মাথা উঁচু হবে।

জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট খোলা চিঠি –

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
অবদমিত মানুষের নেত্রী হিসেবে আপনি ছাড়া আমাদের আর ভরসা নেই। আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছেন আপনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। অনেক দুঃখ এবং বেদনার্ত হয়ে আজ আমরা আপনার স্মরনাপন্ন হয়েছি।

পৃথিবীর ইতিহাসে সভ্যতার উত্থান ঘটাতে ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন একটি অন্যতম সূচক। ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের সাথে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিকাশের সম্পর্ক রয়েছে। ভূমির সাথে মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। এই সম্পর্ককে মানবিক রূপ দেয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা যদি ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটাতে পারি তবে তা অবশ্যই সভ্যতা বিকাশের একটি মাইল ফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, ভূমির সাথে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের সম্পর্ক জড়িত। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন মান উন্নয়ন ঘটলে জাতি হিসেবে আমাদের মাথা উঁচু হবে।

ভূমি ব্যবস্থাপনার সাথে সামন্তবাাদী ধারণার একটি সম্পর্ক আছে। পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে। আধুনিক যুগ এসে সামন্তবাদকে বিদায় জানিয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় সামন্তবাদ ক্রিয়াশীল আছে। এর কারণ হচ্ছে, বিগত উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা টিকে থাকার জন্য কেরানিতন্ত্রের মাধ্যমে সামন্তবাদকে লালন করে আসতেছিলো। প্রকাশ্যে উপনিবেশিক ব্যবস্থা পরাস্ত হলেও তাদের সৃষ্ট কেরানিতন্ত্র চালু থাকায় তা এখনো ভূমি ব্যবস্থাপনায় চালু আছে। ফলে ভূমি ব্যবস্থাপনা আর সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারে নি। আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা হবে সেবামূলক। সরকারের কৃষি, স্বাস্থ্য, বিচার বা শিক্ষা বিভাগের মতো ভূমি বিভাগ হয়ে উঠবে সেবামূলক এবং তা স্বাধীন ভাবে বিকশিত হবে।
এরকম ব্যবস্থা কায়েম হলেই আমাদের মর্যাদা বাড়বে এবং জনগণের কল্যাণে ভূমি বিভাগ ভূমিকা রাখতে পারবে।

ইউনিয়ন ভূমি অফিস সরকারের সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের সেবার প্রচার-প্রসার ঘটার ও সুনাম বৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভরকরে এই বিভাগের উপর। যেখানে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের জনগোষ্ঠী সেবা নিতে আসেন।

যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে প্রতিনিয়ত জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এবং দুষ্ট লোকের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে সরকারী সম্পত্তির অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের জীবন এক করুন ট্র্যাজেডিতে পরিপূর্ণ।
ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা/উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের দুর্দশার কথা চিন্তা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর ২২.০৭.২০১৩ তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে বেতন স্কেল আপগ্রেড করে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের ১৬ গ্রেড থেকে বৃদ্ধি করে ১১তম গ্রেডে এবং উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের ১৭ তম গ্রেড থেকে ১২ তম গ্রেডে উন্নীত করে পত্র দেয়া হয়। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই আদেশ বাস্তবায়ন না করে অফিস সহকারীদের আন্দোলেনর অজুহাতে ২৫.০৭.২০১৩ তারিখে তা স্থগিত করে দেয়া হয়।

আমরা মনে করি দুর্বল বেতন কাঠামো অনৈতিক কাজে নতি স্বীকারের সূচক হিসেবে প্রবল ক্রিয়াশীল থাকে। আমরা “মফস্বলের সাধারণ ভূমি কর্মকর্তারা” এ থেকে মুক্ত চাই। আমরা সুস্থ্য সুন্দরভাবে সততার সাথে বাঁচতে চাই। আমরা আমাদের সমিতিসহ সর্বত্রই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জয় জয়কার দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তি দিন। আমরা আপনার অনুমোদিত আপগ্রেডকৃত বেতন স্কেল বাস্তবায়ন চাই।

উপজেলা পর্যায়ে যে সকল অফিসে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা আছেন ইউনিয়ন পর্যায়ে সে সকল অফিসের নিয়ন্ত্রণাধীন ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা বিদ্যমান । শুধুমাত্র ভূমিতে উপজেলা পর্যায়ে ১ম শ্রেণির কর্মকর্তা থাকলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩য় শ্রেণির কর্মকর্তা দিয়ে অফিস পরিচালনা করা হয়।

১৪৫ ধারার তদন্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ সাব ইন্সপেক্টর করে থাকেন। কিন্তু সাব ইন্সপেক্টররা ২য় শ্রেণির এবং ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাগণ তৃতীয় শ্রেণীর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন তহশিলদারদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর সমান পদমর্যাদা দিয়েছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান না থাকলে তহশিলদাররা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের পর সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান এই আইন বাতিল করেন। জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে দু’ একটি ইউনিয়নে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় দু’ একটি ইউনিয়নে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তারা (তহশিলদার) চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে তহশিলদার পদটি প্রথম শ্রেণী হিসেবে বিবেচিত হয়।

সরকার ঘোষিত বেতনস্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ায় ইতিমধ্যে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী এক বছর পর এই সেবা কাঠামো ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। সরকারের ভিশন এবং ইনোভেশন বাস্তবায়নে জনবল সংকট বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন অনেক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। যেমন,
১। ভূমি উন্নয়ন কর আদায়।
২। দেওয়ানী মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ মাসে ৪/৫টি।
৩। ১৪৫ ধারা মোতাবেক ফৌজদারী মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ, মাসে ১০/১২টি।
৪। নাম খারিজ কেইসের তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ, মাসে ৫০/৬০টি। পৌর এলাকায় ১০০ বা তারও অধিক।
৫। খাস জমির আবেদনের তদন্ত প্রতিবেদন, খাস জমি যাতে বেদখল হতে না পারে সেজন্য মাঝে মধ্যে সরেজমিনে যেয়ে দেখভাল করা, মাসে ৬/৭টি।
৬। দেওয়ানী আদালতে সরকার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করা এবং সেই লক্ষ্যে মামলাভূক্ত সম্পত্তি সরেজমিনে তদন্ত করা, মাসে ৪/৫টি।
৭। সরকারী গাছ কাটা, অবৈধভাবে বালি উত্তোলন, সরকারী বিল-খাল অবৈধ দখলমুক্ত রাখা।
৮। নাম খারিজ কেসের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক দাখিলকৃত ওয়ারিশ সনদ যাচাই করা, মাসে ১০/১২টি।
৯। ১৫০ ধারা সহ বিভিন্ন রকম মিস কেসের তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ, মাসে ১০/১২টি।
১০। আবাসন/আশ্রয়ন/গুচ্ছগ্রাম/আদর্শ গ্রাম-এ অবৈধ ঘর দখল প্রতিহত, মারামারি, হানাহানী মিটানো।

সব মিলিয়ে মাসে ১৫০/২০০ কোনো কোনো অফিসে তারও বেশী তদন্ত করতে হয়। এসব তদন্তের জন্য বা এসব কাজের জন্য আমাদের সরকারীভাবে কোনো মটর সাইকেল বরাদ্দ দেয়া হয়নি। কোনো খরচও দেয়া হয় না। একটি তদন্তে বাদী, বিবাদী, সাক্ষী ইত্যাদি বিভিন্ন লোকের নিকট জিজ্ঞাসাবাদ করতে ৩/৪ দিন সময় লেগে যায়। ভ্যান/অটো রিক্সা রিজার্ভ করে তদন্ত করতে প্রতিদিন ২০০/৩০০ টাকা খরচ হয়।

সে প্রেক্ষিতে সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি বিভাগ সহ অন্যান্য সেবামূলক বিভাগের সাথে ভূমি বিভাগকে সম মর্যাদায় নিয়ে যেতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে মহোদয়ের নিকট নিম্নলিখিত প্রস্তাবনা ও দাবী জানাচ্ছি ঃ
১। জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত গত 03/06/2010 খ্রিঃ তারিখে প্রকাশিত গেজেট মোতাবেক 03/06/2010 তারিখ হতে অনুমোদিত গ্রেড কার্যকর করা।
২। ইউনিয়ন পর্যায়ে অন্যান্য অফিসের অফিস প্রধানদের সাথে সমন্বয় করে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার পদকে ২য় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা পদে উন্নীত করতে করণ।
৩। জাতির জনকের দেয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অবর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান।
৪। পুলিশের মত দেওয়ানী মামলা, ফৌজদারী মামলা, নাম খারিজ কেইস, মিস কেইসের তদন্ত বাবদ তদন্ত ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫। সকল ভূমি অফিসে অর্গানোগ্রাম মোতাবেক নিজস্ব অফিস সহকারী নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৬। প্রত্যেক ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ২ জন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, ১ জন অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ৪ জন অফিস সহায়ক এবং ১ জন নৈশ প্রহরী নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া।
৭। সরকারীভাবে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে মোটর সাইকেল সরবরাহ করা।

জনবান্ধব ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে আমাদের দাবীসমূহ বিবেচনায় আনার জন্য জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

জয় বাংলা।

আপনার বিশ্বস্ত,
এনামূল হক পলাশ
মুখপাত্র, প্রগতিশীল ভূমি অফিসার্স ফোরাম

ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

85 − 84 =