ধর্ম ও মানুষ

মসজিদ পবিত্র ঘর।সাধারণত মসজিদ শব্দটা নামাজের সাথে সম্পর্ক যুক্ত।যেখানে মুসল্লিরা একত্র হয়ে নামাজ পড়ে।মুসলমানদের কাছে মসজিদ পবিত্র ও ভক্তি ঘর।আল্লাহর দরবারে প্রার্থনার সর্বোচ্চ স্থান মসজিদ।কিন্তু ইদানিং কালে দেখা যাচ্ছে এই মসজিদকে ঘিরে রাজনীতি গড়ে উঠেছে।নোংরা রাজনীতির চালে পুড়ছে পবিত্র কেবলা ঘর।মানুষ হিংস্র জানোয়ারের চেয়েও ভয়ানক।হিংস্র জানোয়ারেরও ধর্ম আছে যেটা মানুষের নাই।মানুষের মনুষত্ব্য যে কতটা নীচে নেমেছে তার প্রমান উঠতে বসতে পাওয়া যাচ্ছে।

একটা বাস্তব ঘটনা বলি।যে ঘটনাটা আমার এলাকায় চলমান ঘটছে।ঘটনাটা আমার বাড়ির একটা মসজিদকে কেন্দ্র করে।মসজিদটি আজ থেকে সম্ভবত বিশ-পঁচিশ বছর আগে তৈরি।তখন টিনের ছিল।আমার এক চাচতো চাচা এটা তৈরি করেন।তখন তিনি ঐ জমি মসজিদের নামে ওয়াকফা করে দেয়।তিনি ঢাকায় বসবাস করায় এলাকাবাসীর উপর দায়িত্ব দিয়ে যান।এলাবাসীর সহায়তায় মসজিদটি ভালোই চলছিলো।টিনের ঘর থেকে সেখানে দালানের ঘর তৈরি হয়।এতে অবশ্য সবার অবদানই ছিল।ঐ চাচা 2012 সালের দিকে মারা যাওয়ায় মসজিদটি দায়িত্ব সম্পূর্ণ এলাকাবাসীর উপর পরে।তখনও ঠিক মত চলছিল।হঠাৎ করে 2014 দিকে তার আপজনরা হস্তক্ষেপ করে।তখন স্থানীয় পুরনো মুরুব্বীদের বাদ দেয় মসজিদটি থেকে।তখন নানান ধরনের ইস্যু দেখায়।আর এই ইস্যু দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে মসজিদের মুরুব্বিদের অপমান করে।তারা ওয়াকফা করা আল্লাহর ঘরকে নিজেদের বলে দাবি করে সবাইকে অপমান করে।একটা পর্যায় এখন গিয়ে পৌছিয়েছে যে অনেকেই তাদের অপমানে মসজিদে নামাজ পড়তে আসে না।গত শুক্রবারে আবার বলছে যারা নামাজ পড়তে আসবে না তারা বেয়দব।এখন এই সব কর্মকান্ডে মসজিদটি এখন খুব ঝুকিপূর্ণ।খুব খারাপ লাগে মসজিদটির অবস্থা দেখে।জন্মের পর থেকে মসজিদটির সাথে যতটুকু পেরেছি সাহায্য করেছি।এখন সপ্তাহে শুক্রবার এলাকায় যাই।কিন্তু এইসব কর্মকান্ড দেখে খুব খারাপ লাগে।সবাই এক সাথে নামাজ পড়তে যে কত আনন্দ সেটা এখন ভুলে যাচ্ছি।অথচ যারা মসজিদটিকে হাতের মুঠোয় করে নিয়েছে তারাও ঠিক মত মসজিদটিকে চালাতে অক্ষম।আল্লাহর কেবলা মুখী ঘরের এরকম অবহেলা সত্যিই লজ্জাকর।
মসজিদটিকে দেখে নজরুলের কবিতার আমার প্রিয় কয়েকটি চরণ মনে পড়ে গেল।যে কবিতায় কবি এই ধর্মনামক ব্যাবসায়ীদের কটুত্তি করে লিখেছে।

“আশিটা বছর কেটে গেল,
আমি ডাকিনি তেমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা’বলে বন্ধ করোনি প্রভু !
তব মজসিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবী,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল
দুয়ারে চাবী !”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

47 − 37 =