ধর্ষণে প্রধান দায়ী বাবা-মা

ধর্ষক যদি বড়লোকের ঘরের সন্তান হয় তবে তার বাবা-মা ধর্ষকে ধর্ষণ করার প্রধান উৎসাহ যোগায়। কথাটা শুনে হয়ত সবাই চমকে যাবেন। সন্তান ধর্ষন করবে আর বাবা-মা কিভাবে উৎসাহ যোগাবে।

অবশ্যই। আমি এটি বার বার বলব। বড় লোকদের সন্তানের অপকর্মের জন্য দায়ী বাবা-মা। ছোটবেলায় আদর্শলিপি বই সবাই আমরা কম বেশি পড়েছি। বইয়ের প্রথম পাতায় বড় বড় করে লেখা।

অ=অলস=অলস মতিষ্কে শয়তান বাসা বাঁধে।

সত্যি কথা বলতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান এই আদর্শলিপির বই পড়লেও ধনীর দুলাল/দুলালীরা এর ধারে কাছেও যায় না। আদর্শলিপি তাদের কাছে অমাবঁশ্যার চাঁদ। শিশু ওয়ান, বড় ওয়ান অলীক স্বপ্ন। ওদের কাছে নার্সারি, প্লে খুব পরিচিত। স্বরবর্ণ ও ব্যাঞ্জনবর্ণের পরিবর্তে ওরা পড়ে।

A=Apple

এই ওদের অবস্থা হয়। তাহলে তাদের ভিতর আদর্শ আসবে কোথায় থেকে। এখানে আমি এই ধনীর সন্তানদের দায়ী করছি না। একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান জানে দরিদ্রতার সাথে লড়াই করে কিভাবে বাঁচতে হয়।

অপর পক্ষে একটি ধনী ঘরের সন্তানের কোন ধরাবাঁধা নিয়ম থাকে না। যখন যা খুশি করে। জীবন চলার জন্য কোন পরিশ্রম করতে হয় না। বাবা টাকায় বাবুয়ানা। এই বাবুয়ানা করতে গিয়ে তারা অলস হয়ে পড়ে। অলস মতিষ্কে বিভিন্ন ধরণের কু-চিন্তা মাথায় আসাটা স্বাভাবিক। একজন সন্তান যদি সমান ভাবে স্বাধীনতা পেয়ে যাচ্ছে। তাকে শাসন করার মত কেউ না থাকে তাহলে সেই সন্তানের কাছে খারাপ কাজ গুলোও ভালো মনে হবে। সে তার মত অপরাধ করেই যাবে। একদিন ঐ সন্তান সমাজের জন্য হয়ে উঠবে ভয়ংকার জানোয়ার রূপে। তাদের লালসার শিকার হয় অনেক তরুনী।

বর্তমানে সময়ে আলোচনার মুখ্যমণি আপন জুয়েলারসের স্বনাম ধন্য পুত্রধর সাফাত আহমেদ। আপন জুয়েলারস বাংলাদেশের একটি বড় প্রতিষ্টান। আমি এখানে সাফাতকে দোষী করার চেয়ে সাফাতের বাবা দিলদার আহমেদের কাছে কিছু প্রশ্ন ছুড়ে মারতে চাই। আপনার তো অঢেল টাকা। আপনার ছেলেকে সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্ম দিয়েছেন। ছেলেকে ভালো থাকার জন্য প্রতিদিন দুই লাখ টাকা হাত খরচ দিতেন। মাসে অর্ধ কোটি টাকার বেশি হাত খচর দিতেন। এসব আপনার ব্যাপার। আপনার টাকা আছে আপনি দিয়েছেন। কিন্তু একবারও কি খোঁজ খবর নিয়েছেন যে ছেলে মাসে অর্ধ কোটি টাকা দিয়ে কি করে?

যে ছেলে অর্ধকোটি টাকা হাত খরচ করে। সে ছেলে ওই অর্ধকোটি টাকা দিয়ে এখানে সেখানে খাবার খাবে না। সে স্বাদ নিবে বড় বড় ফাইভস্টার হোটেলে তরুনীর দেহের। মদ-আফিম-হিরোইন আর মেয়ে ছাড়া কোন ছেলের প্রতিদিন দুই লাখ টাকা খরচ হবে না। তো দিলদার সাহেব টাকা আছে সন্তানকে দিয়ে দিবেন। একবার নিজেকে প্রশ্ন করেন তো। আপনার এই টাকার জন্য কত তরুণী স্বীকার হয়েছে আপনার ছেলের? আজ আপনার মেয়েকে যদি এরকম স্বীকার হতে হতো আপনি কি করতেন? তো আপনার সন্তান অপরাধ করেছে তাকে শাস্তি পেতে দিন। টাকা দিয়ে আইনটা কিনে নিয়েন না। তাহলে আপনার সহ আপনার ছেলের পাপের বোঝা বইতে পারবেন না।

সাফাতের বিলাসিতা ও যৌনতা, ধর্ষণ সবকিছুর জন্য আপনি দায়ী। ছেলেকে শাসন না করে বিলাসিতা শিখিয়েছেন। এটাই তার ফসল।

দুই তরুনী আজ সাহস করে আপনাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছে। না জানি আর কত তরুনী আপনাদের ভয়ে মুখ বন্ধ রেখে নীরবে সহে যাচ্ছে। আপনাদের মত টাকাওয়ালাদের প্রতি থুথু দেয় জনগন।

পরিশেষে এটাই বলবো। ধনী সন্তানদের অপকর্মের প্রধান কারণ বাবা-মা।বাবা-মার অসর্তকতার কারণে সাফাতের মত সন্তানরা তরুনী সমাজের জন্য বিরাট ঝুঁকি পূর্ণ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 22 = 27