কাপূরুষের সর্বক্ষন কর্মক্ষম যন্ত্র!!!!

বাংলাদেশে যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন, যারা সারা দেশের তৃনমূল পর্যায়ের খরব রাখেন, এরা একবাক্যে স্বীকার করবেন ঠিক এমহুর্তে সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাপূরুষের অভাব নেই, যারা তাদের যন্ত্র দিয়ে প্রতিদিনই অসংখ্য মা-বোনদের ক্ষত বিক্ষত করছে – যে ঘটনাগুলির অতি নগন্য অংশই মিড়িয়া প্রকাশিত হয়। আর ঐগুলি অতি অতি ক্ষুদ্র অংশতেই পুলিশ সর্বক্ষন কর্মক্ষম যন্ত্রটার মতো কাজ করে।

কাপূরুষের সর্বক্ষন কর্মক্ষম যন্ত্র!!!!

পূরুষেরা জন্মগতভাবে একটা যন্ত্র বহন করে, যেটি সর্বক্ষণ কর্মক্ষম থাকে। তবে যেকোন সময়, যেকোন পরিস্হিতে কর্মক্ষন হলেও সেটা কিন্তু দাম্পত্য জীবনে সবসময় সফলতা লাভ করতে পারে না। দাম্পত্য জীবনের সব সময় যদি সফলই হবে তাহলে ফার্মাসীগুলোতে ভায়াগ্রা, নায়াগ্রা, ইয়াবা, উরিবাবা জাতীয় ট্যাবলেট পাওয়া যাবে কেন? শুনেছি একই কারণে অতিসম্প্রতি বিএমএমএমইউতে সেক্স ক্লিনিক নামে নতুন বিভাগ খোলার প্রয়োজন হয়েছে। আবার সফলতা পাবার জন্য ইনফার্টিলিট্ ম্যানেমেন্ট ক্লিনিক গুলির ব্যবসা জমজমাট হতো না। পূরুষের এযন্ত্রটা যত্রতত্র, যখণ তখন আঘাত করার ক্ষমতা থাকলেও দাম্পত্য জীবনে অনেক সময় সফলতা পায় না। ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবনে ব্যর্থ হলেও অবশ্য এটা অন্য নারীদেহ নামক উপাদেয় শরীরের বিশেষ জায়গা আঘাত করার জন্য সদাসর্বদা প্রস্তুত থাকে। তবে বিশেষতঃ পহেলা বৈশাখের মতো হিন্দুযানী অনুষ্ঠানে নারীর উপস্হিতি, কিংবা সংখ্যালঘু হিন্দু, আদিবাসী, নৃতাত্বিক মেয়ে দেখলেতো কথাই নেই, যন্ত্রটা আড়মোড় দিয়ে উঠতে একদম দেরী করে না।

রাস্তায় অসহায় নারী দেখলে কাপূরুষের যন্ত্রটার আড়মোড় করার অভ্যাসটা নতুন নয়। এদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহারে মা-বোনদের ইজ্জ্বত একারণে জারজ ফাকিরা লুটে নিয়েছিল। গোষ্টি ভিত্তিক সংকীর্ণ ভাবনার অসহিষ্হু বহির্প্রকাশের কারণে বর্তমানে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়ার কিছু কিছু অঞ্চলে ইয়াজাদি, কূর্দি, শিয়া সম্প্রদায়ের মেয়েদের একই অবস্হার খবর অনলাইন নিউজ পোর্টাল হরহামেশা জানা যায়। কোন কোন নিউজ বলছে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে বিক্রি করে। প্রতিদিন বিশ থেকে ত্রিশ বার আইসিস যোদ্ধাদের ঐযন্ত্রের আঘাত সইতে হচ্ছে তাদের।

লিবিয়ার বেনগাজীর একটা হাসপাতালে নাসিং এর চাকুরী নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশী এক নার্স বোনের ভাষ্য থেকে জেনেছিলাম- ঐবোনটা ২০১২ সাল থেকে লিবিয়ার বেনগাজীর যে হাসপাতালে চাকুরী করতো, একই হাসপাতালে ভারত, শ্রীলংকান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন এরকম আরো অনেকগুলি মেয়ে কাজ করতো, যারা প্রতিদিনই যখন তখন বর্বল আরবদের ঐযন্ত্রের আঘাত সইতে হতো। এভাবে যন্ত্রনা সইতে না পেরে বাঙ্গালী নার্স বোনটা ২০১৫ বছর মাঝামাঝি কোন একসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভুমধ্য সাগরপাড়ি দিয়ে বর্তামনে ইতালীর শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় আশ্রয় নিয়েছে।

ইউটিউবের বদৌলতে একটা ভিড়িও অনেকে দেখে থাকতে পারেন, ইরাকের রাস্তায় দিবালোকে প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে খৃষ্টান এক নারীর উপর হুমড়ী খেয়ে পড়েছে কয়েকটা মানুষ রুপী ভাদ্র মাসের পাগলা কুর্তা। ওরা শুধু মেয়েটা খামছি দেয়নি, রাস্তায় শুইয়ে দিয়ে ওর নিম্নাঙ্গের বস্ত্র তুলে কাপূরুষের সেই আদিম সর্বক্ষন কর্মক্ষম যন্ত্রটা ভিতরের দিকে চলিয়ে দিয়েছিল।

বাংলাদেশে যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন, যারা সারা দেশের তৃনমূল পর্যায়ের খরব রাখেন, এরা একবাক্যে স্বীকার করবেন ঠিক এমহুর্তে সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাপূরুষের অভাব নেই, যারা তাদের যন্ত্র দিয়ে প্রতিদিনই অসংখ্য মা-বোনদের ক্ষত বিক্ষত করছে – যে ঘটনাগুলির অতি নগন্য অংশই মিড়িয়া প্রকাশিত হয়। আর ঐগুলি অতি অতি ক্ষুদ্র অংশতেই পুলিশ সর্বক্ষন কর্মক্ষম যন্ত্রটার মতো কাজ করে। জয়তু কাপুরুষের যন্ত্র।…পুরোনো লেখা/২০১৫ইং

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

76 + = 77