ধর্ষণ প্রতিরোধে সমাজ ও পরিবারকে-ই দায়িত্ব নিতে হবে।

ধর্ষণের পর আমরা যতটা না ধর্ষককে অপরাধী করি তার চেয়ে দশগুন অপরাধী করি ধর্ষিতাকে। মেয়েটা উল্টাপাল্টা পোষাক পরেছিলো হয়তো। না হলে ছেলেটা বা ছেলেগুলো কেন-ই বা…..?

দেশটা রসাতলে গেল। মেয়েরা কি সব পোষাক পরে। তা দেখলে কি কোন ছেলের মাথা ঠিক থাকে?

ধর্ষণের ঘটনায় আপনি মেয়েটিকে অপরাধী করবেন, মেয়েটির পোষাক নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন তখন যখন আপনি পুরুষত্ব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং পোষাকহীন আপনার মস্তিস্ক।

পোষাক কখনও ধর্ষণের কারণ নয়। যদি পোষাকের কারণে ধর্ষণ ঘটতো তবে ছয় বছর থেকে দশ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হতো না।

যেখানে ছয় বছরের কিংবা দশ বছরের শিশুর শারীরিক গড়ন এমন হয় নি যা ঢেকে না রেখে প্রদর্শনের ফলে ধর্ষক (পুরুষ) এর কামভাব জাগে।

ধর্ষণ ঘটার মূল কারণ, সমাজ-পরিবার ছেলে-মেয়েদের সেক্সুয়াল বিষয়ে কম ধারণা দিয়ে থাকে। যার ফলে ছেলেরা হরহামেশাই মেয়েদের শরীর নিয়ে আগ্রহ দেখায়। ছেলেদের কাছে মেয়েদের শরীর রহস্যময়। যার ফলে ছেলেরা মেয়েদের শরীরের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং এক পর্যায়ে ধর্ষণের মত অপকর্ম ঘটায়।

তাছাড়াও আমাদের সমাজে নারী-পুরুষের যে বৈষম্য তা থেকেও ধর্ষণ ঘটে থাকে।

নারী-পুরুষেট বৈষম্য তৈরির ফলে নারী পুরুষের অধীনস্ত এবং নারী কেবল পুরুষের সেক্সুয়াল চাহিদা পূরণের দায়িত্ব নিয়োজিত এরূপ ধারণা পোষন করার ফলেও একহন পুরুষ দ্বারা নারী নিপীড়ন ঘটে থাকে।

?zoom=2.5600000000000005&fit=800%2C481″ width=”500″ />

অনেক আগে! তখন বোধয় ছোট-ই ছিলাম।
সপ্তম শ্রেণিতে পড়তাম। অবশ্য ছোট-ই বলা চলে। যাই হোক
বন্ধুরা বলতো,

– বিদেশে, ছেলে-মেয়েরা ল্যাংটা চলে। বাসায় এসে কাপড় খুলে ল্যাংটা বসে থাকে। বাবা-মা দেখে, তবে তারা কিছুই বলে না।
আশ্চর্য হয়ে শুনতাম। আর ভাবতাম কি পরিবার? কি দেশ?

ল্যাংটা ঘুরে বেড়ায়! বাবা-মা’র সামনে ল্যাংটা বসে থাকে!

তখন এগুলো খুব অশ্লীল মনে হতো। আমরা আমাদের দেশের প্রায় সকল ছেলে-মেয়েই লজ্জায় মরে যায় বাবা-মা’র সামনে কাপড় পাল্টাতে। কিংবা মেয়েরা, তাদের ঋতুস্রাবে কথাও চেপে যায় মায়ের কাছ থেকে।

ছেলেরা তলপেটের নিচে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা চুলগুলো দেখে অস্বস্তিতে ভোগে; কি এগুলো? কেন ই বা গজিয়েছে? এহেন প্রশ্ন নিয়ে বিব্রত। কিন্তু লজ্জায় বাবার কাছে কিংবা বড় ভাইয়ের কাছে প্রশ্ন করে না।

বড্ড আশ্চর্য হই তখন যখন দেখি ঠিক এই বিষয় অর্থাৎ মেয়েরা তাদের ঋতুস্রাব, ছেলেরা তলপেটের নিচে গজানো চুল নিয়ে বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করছে! কখনও বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। যা এক পর্যায়ে এসে মারাত্মক আকার ধারণ করে। কিংবা আমরা দেখি, ছেলে-মেয়েরা সেক্সুয়াল বিষয়গুলো নিয়ে পরিবারে কোন আলোচনা করে না, হয়তো পরিবার অতটা প্রাধান্য দেয় না বলেই বলে না। কিন্তু বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে সেক্সুয়াল বিষয়ে বেশ খোলামেলা হয়ে কথা হয়। কিভাবে হস্ত মৈথুন করে বীর্যস্খলন ঘটিয়ে সুখ পাওয়া যায় কিংবা কিভাবে ফিঙ্গারিং করে সুখ পাওয়া যায়। এগুলো নিয়ে আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা পরিবারের বড় সদস্য মানে বাবা-মাকে আলোচনায় আনে না বা বাবা-মা ওভাবে মিশে না বলেই আমাদের দেশে এত এত ধর্ষকের জন্ম, এত এত নারী ধর্ষিত।

আমরা ইউরোপ-আমেরিকার দিকে তাকাই, সে দেশে বিকিনি পরিধান করে বেশিভাগ নারীকেই চলাচল করতে দেখা যায়। অথচ একই পথে চলাচলরত পুরুষ চোখ ঘুরিয়েও তাকায় না বিকিনি পরা নারীদের দিকে। কিন্তু আমাদের দেশে যেখানে বিকিনি দূরে থাক, শার্ট-টি শার্ট ও জিন্স পরা মেয়েরা ধর্ষিত হচ্ছে অহরহ। আর ধর্ষণের কারণ সরূপ দায়ী করা হয় নারীদের পোষাক! অথচ এ নিয়ে গবেষনা করলে দেখা যাবে, বেশির ভাগ ধর্ষকই যৌন বিষয়ে অজ্ঞ। যার ফলে নারী শরীর তার কাছে রহস্যময়। একজন ধর্ষক কখনও ভাবে না তার শরীরের মতই একজন নারীর শরীর।

ধর্ষক নির্মূল আইনের দ্বারা সম্ভব নয়। কেননা, আজ দশ জন ধর্ষক শাস্তি পেলো তো কাল বিশ জন জন্মালো। তাতে কি হলো!?

ধর্ষক নির্মূলে, প্রত্যেক পরিবারের অর্থাৎ বাবা-মাকে সন্তানদের প্রতি বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হবে। সেক্সুয়াল বিষয়গুলো নিয়ে একটা বয়সে আলোচনা করে খোলসা করতে হবে। কেন মেয়েদের ঋতুস্রাব হয়, কেন ছেলেদের তলপেটের নিচে চুল গজায়! এসব বিষয় নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচমা করে ছেলে-মেয়েদের সেক্সুয়াল বিষয়ে ধারণা দওতে হবে। এছাড়াও আমি একান্ত ভাবে মনে করি, একটা পরিবার অর্থাৎ মা-ছেলে, বাবা-মেয়ে একসাথে একঘরে বসে পর্ণগ্রাফি দেখে সেক্সুয়াল বিষয়ে অর্থাৎ বিকিনি পরা কিংবা নগ্ন মেয়ে-ছেলে দেখলেও যাতে কারো কোন অনুভূতি না জাগে সে জন্য নিজেদের তৈরি করা উচিত।

সুতরাং, ধর্ষণ নির্মূলে পরিবারই পারে ছেলে-মেয়েদের সেক্সুয়াল বিষয়ে ধারণা দিয়ে নারী-পুরুষ আলাদা নয় বরং মানুষ এ বিষয়ে পরিপক্ক করে তুলতে।

তাছাড়াও সমাজে-পরিবারে নারী-পুরিষের যে বৈষম্য বিদ্যমান তারও নিরসন চাই। নচেৎ ধর্ষণ দিনকে দিন বেড়ে যাবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

50 + = 58