স্বাধীনতা কি আদৌ সম্ভব ?

একটি মানুষ মুখের সামনে সাপ নিয়া বসা যেকোনো সময় কামড় দিবে ।

স্বাধীনতা বস্তুটা কেমন ? স্বাধীনতা শব্দটারে সরলীকরণ করলে আমরা দেখি যে ব্যক্তি স্ব- অধীন মানে নিজের অধীন সেই হল স্বাধীন । অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজের মত দ্বারা চালিত হয় সেই স্বাধীন । কিন্তু প্রশ্ন হল ব্যপারটা কি এতই সহজ ? তারাকোভস্কি সাহেব বলেতেছেন স্বাধীনতা আসলে অন্যরকম । আমরা যেসকল বিষয়কে স্বাধীনতা হিসেবে গন্য করি যেমন খেতে পাবার নিশ্চয়তা,বাসস্থানের নিশ্চয়তা বা চাকুরীর তা আসলে এক প্রকার অধিকার । মূল স্বাধীনতাটা হোল আত্নিক বা অন্তরের স্বাধীনতা । অধিকারগুলো পাওয়ার পরও আপনি যদি আত্নিকভাবে স্বাধীন না হয়ে থাকেন তবে আপনি স্বাধীন নন । অন্যদিকে আমরা যদি গ্রীক দার্শনিক প্লাতোনের কাছে যাই তিনি দেখাচ্ছেন এক অদৃশ্য ফর্ম বা ধারনা কে যাকে বলা হচ্ছে ইদিওস অর্থাৎ জগতের যাবতীয় বস্তু হচ্ছে ঐ বস্তুর প্রকৃত ধারনার কপি বা নকল যা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় মোটেও । এখন আমরা যদি স্বাধীনতাকে প্লাতোনের ফর্ম হিসেবে নিই তবে আমরা যে সকল স্বাধীনতার দৃষ্টান্ত পাই তা ঐ ফর্ম বা ধারনার অপূর্ণ কপি মাত্র । তাইলে বলা যায় প্রকৃত স্বাধীনতা হচ্ছে একটা ধারনা মাত্র । আমরা তাকে সেই ধারনার বিভিন্ন রূপ অনুযায়ী পেয়ে থাকি । প্লাতোনের এই মত মেনে নিলে সব সমস্যা চুকেবুকে যেত । কিন্তু সমস্যা হল তা যাইনি । না হলে আজ এত বছর পরে এসেও পৃথিবীব্যাপী মানুষ স্বাধীনতা স্বাধীনতা বলে আর্তচিৎকার করত না ।

একটি মানুষ মুখের সামনে সাপ নিয়া বসা যেকোনো সময় কামড় দিবে ।

স্বাধীনতা বস্তুটা কেমন ? স্বাধীনতা শব্দটারে সরলীকরণ করলে আমরা দেখি যে ব্যক্তি স্ব- অধীন মানে নিজের অধীন সেই হল স্বাধীন । অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজের মত দ্বারা চালিত হয় সেই স্বাধীন । কিন্তু প্রশ্ন হল ব্যপারটা কি এতই সহজ ? তারাকোভস্কি সাহেব বলেতেছেন স্বাধীনতা আসলে অন্যরকম । আমরা যেসকল বিষয়কে স্বাধীনতা হিসেবে গন্য করি যেমন খেতে পাবার নিশ্চয়তা,বাসস্থানের নিশ্চয়তা বা চাকুরীর তা আসলে এক প্রকার অধিকার । মূল স্বাধীনতাটা হোল আত্নিক বা অন্তরের স্বাধীনতা । অধিকারগুলো পাওয়ার পরও আপনি যদি আত্নিকভাবে স্বাধীন না হয়ে থাকেন তবে আপনি স্বাধীন নন । অন্যদিকে আমরা যদি গ্রীক দার্শনিক প্লাতোনের কাছে যাই তিনি দেখাচ্ছেন এক অদৃশ্য ফর্ম বা ধারনা কে যাকে বলা হচ্ছে ইদিওস অর্থাৎ জগতের যাবতীয় বস্তু হচ্ছে ঐ বস্তুর প্রকৃত ধারনার কপি বা নকল যা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় মোটেও । এখন আমরা যদি স্বাধীনতাকে প্লাতোনের ফর্ম হিসেবে নিই তবে আমরা যে সকল স্বাধীনতার দৃষ্টান্ত পাই তা ঐ ফর্ম বা ধারনার অপূর্ণ কপি মাত্র । তাইলে বলা যায় প্রকৃত স্বাধীনতা হচ্ছে একটা ধারনা মাত্র । আমরা তাকে সেই ধারনার বিভিন্ন রূপ অনুযায়ী পেয়ে থাকি । প্লাতোনের এই মত মেনে নিলে সব সমস্যা চুকেবুকে যেত । কিন্তু সমস্যা হল তা যাইনি । না হলে আজ এত বছর পরে এসেও পৃথিবীব্যাপী মানুষ স্বাধীনতা স্বাধীনতা বলে আর্তচিৎকার করত না ।
আমরা যদি অধিকাররূপী স্বাধীনতা সমূহের দিকে চোখ ফেরাই তবে দেখি রাষ্ট্র পত্তনের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা শব্দের একটা মানদণ্ড পাওয়া যায় । না হলে মানুষ যদি নিজের ইচ্ছায় চলে তবে থাকে কারো কাছ থেকে অধিকার নিতে হবে কেন? সেগুলো তো সে নিজেই নিশ্চিত করতে পারে । কিন্তু যখন মানুষের অধিকার অন্যর কাছ থেকে আদায়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় সমস্যা বাধে তখন । এর সাথে রাষ্ট্র শব্দটির একটা যোগসূত্র পাওয়া যায় । কারণ রাষ্ট্রের সাথে আইনের ব্যাপক সম্পর্ক বিদ্যমান । প্রতিটি রাষ্ট্র নাগরিককে কিছু অধিকার দেওয়ার বদৌলতে তার নির্দেশিত আইন মেনে চলার শর্ত প্রদান করে । এই বেপারটাকে আমরা বলতে পারি লেনদেন । যাকে স্বাধীনতা আমি বলে আমি কখনো মেনে নেবনা । কারণ মানুষের প্রাপ্ত অধিকার যখন শর্ত আরোপিত হয় তবে তা আর যাই হোক স্বাধীনতা কক্ষনো না । তবে প্রশ্ন হোল কোনটাকে মেনে নেওয়া যায় স্বাধীনতা নাকি রাষ্ট্র? রাষ্ট্র ছাড়াই বা মানুষ কতটুকু স্বাধীন । আদিম সাম্যবাদী মানুষ তো অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল । আমরা বলতে পারি রাষ্ট্রের কাজ অধিকার সমূহের ন্যায় বণ্টন অর্থাৎ সমান অধিকার নিশ্চিতিকরন । প্রশ্ন হোল সেটা কি আদৌ কখনো হয়েছে ? এই পর্যন্ত কোন রাষ্ট্রই কি সমতার বাস্তবায়ন করতে পেরেছে কি? এখনো তেমন কোন উদাহরণ হাতের কাছে নেই । রাষ্ট্র বরাবরই এক শ্রেনির বিপরীতে অন্য শ্রেনির হেজিমনিকে বোঝায় । এই রাষ্ট্রকে ইতালিয়ান চিন্তক ও রাজনীতিবিদ গ্রামসি দেখিয়েছে রাষ্ট্র = আধিপত্য + প্রভুত্ব এই সমীকরণে যদিও গ্রামসির রাষ্ট্র ব্যবস্তা আরও ব্যাপক সেটা অন্য কোন সময় বলা যাবে । তবে এখানে আমি যা বলতে চাই তা হোল এই রকম একটি সমীকরণে মানুষ অধিকার নিশিত হয়ত হবে কিন্তু স্বাধীনতা কতটুকু নিশ্চিত হবে তা বলা মুশকিল । স্বাধীনতাকে উপজীব্য করে সামন্তবাদী রাষ্ট্র থেকে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের উদ্ভব তার সম্পর্কে লেনিন বলছেন-“ব্যক্তিগত সম্পত্তি, পুজির ক্ষমতা,সম্পত্তিহীন শ্রমিক ও মেহনতি কৃষক সাধারনের পরিপূর্ণ বশ্যতার গড়ে উঠা এই সমাজ ঘোষণা করল যে তার শাসনের ভিত্তি হোল স্বাধীনতা । সামন্তবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে এই সমাজ ঘোষণা করল সম্পত্তির স্বাধীনতার কথা এবং ঘটনাটার বিশেষ করে গর্ববোধ করল যে রাষ্ট্র জেন আর শ্রেণী রাষ্ট্র নেই । তথাপি রাষ্ট্র এমন একটি যন্ত্র হিসেবেই থেকে গেল যা দরিদ্র কৃষক ও শ্রমিক শ্রেনিকে আয়ত্ত রাখার জন্য পুজিপতিদের সাহায্য করত ।” এখন মার্কসের সূত্র ধরে যে রাষ্ট্রে সৃষ্টি করেছিল লেনিন তা কি মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিল ? আমি জানি পক্ষে ও বিপক্ষে অনেক মতামত থাকতে পারে । তবে ব্যবস্তা যতই শুদ্ধ হোক সমস্যা ছিলই নতুবা সাম্যবাদের পর্বত সম সপ্ন নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বৈপ্লবিক রাষ্ট্রটি শত বছর পার হওয়ার আগেই ভেঙ্গে পড়ল কেন? আর মার্কসের সাম্যবাদকে আমরা এখনো প্লাতোনের সেই ইদিউসের বেশি চিন্তা করতে পারব কি ? কারণ চিন্তা হিসেবেই এখনো যার অবস্থান তাকে ধারনার বা ফর্মের বেশি জায়গা দেওয়া যায় কি? এছাড়া গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে একটা টার্ম দিয়ে বুঝতে পারি এটি হচ্ছে নির্ণয়ের স্বাধীনতা অর্থাৎ আমাকে বলা হোল যে আমি আমার দুই চোখের যেকোনো একটা বাঁচাতে সম্পূর্ণ স্বাধীন । আমরা প্রতি পাঁচ বছর পর পর আমাকে শোষণ স্বাধীনতা দিচ্ছি একটি শ্রেণীকে যারা নিৎশের ভাষায় আমাকে শাসনের অযোগ্য । হয়ত এই কারনে নিৎশে সুপারম্যনের সপ্ন দেখেছিলেন । যাকে যা ইচ্ছে তা করার পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছিলেন তিনি । এখানে শান্তির কথা হোল সুপারম্যান আমাকে শাসনের ক্ষেত্রে যোগ্য বলেই বিবেচিত । তাহলে বলতে পারি যে স্বাধীনতা আইন,রাষ্ট্র,নৈতিকতা কোন কিছু দ্বারা যখন সীমায়িত হয় তা আর স্বাধীনতা থাকে না শিকল হয়ে উঠে । সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অধীনে স্বাধীনতা থাকেনা । তবে প্রকৃত রাষ্ট্র মানুষের অধিকার সমূহের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে থাকে । এখানে আরেকটা ব্যাপার পরিস্কার করা প্রয়োজন তাহলে আমরা যে সকল আন্দোলনকে স্বাধীনতা সংগ্রাম বলছি সেগুলো কি ভুল ? আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম কি মিথ্যা ? মোটেই না । আমরা আমাদের অধিকারের সর্বোচ্চ নিশিতিকরনের লক্ষ্যে ও আমার ভাগের অধিকার সমুহ যখন অন্যকে ধ্বংস করতে দেখেছি সেই সাথে একটি জাতিগত ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে এই সংগ্রাম । তবে সেখানে প্লাতোনের ধারনার স্বাধীনতা যে নেই তা বলাই বাহুল্য । মুলত সেই স্বাধীনতা কোথাও নেই । আমরা এখন মার্কসের সাম্যবাদী সমাজ, পোষ্টমডার্ন ম্যক্রো স্ট্র্যাগল, চমস্কির এনরকো সিন্ডিক্যালিজমের দিকে চোখ রাখতে পারি যদি তারা কখনো প্রকৃত স্বাধীনতা নিয়ে আসতে পারে ।
আবার আমরা ফিরে যায় তারাকোভস্কির এর কাছে, যিনি আত্নিক স্বাধীনতা নামে অন্য একটি সম্ভবনাকে জিইয়ে রেখেছেন । তবে শুরুতে প্রশ্ন জাগে এত সব অধিকার ভিত্তিক বৈষম্যকে ভুলে থেকে মানুষ কি কখনো আত্নিকভাবে স্বাধীন হতে পারে ? আমার সহজ বুদ্ধিতে কখনোই তা হতে পারে না । তবে তার এই আত্নিক শব্দের উচ্চারণ একটু অন্যভাবে ভাবতে প্রণোদিত করে । মানুষ সর্ব ক্ষেত্রে পরাধীন হলেও সে নিজেকে শেষ করতে সম্পূর্ণ স্বাধীন । মানুষ নিজে সৃষ্টির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেকে ধ্বংস করতে সক্ষম । এই সক্ষমতা হয়ত মানুষকে অস্তিত্বের পূর্ণ স্বাদ লাভে সাহায্য করবে । সাধারন বিকেল হয়ে উঠবে বিষণ্ণ বিকেল যা কিয়েরকেগাদ ও সাত্র খোঁজে ফিরেছেন । তবে সেজন্য লোকটির মত আপনাকে হয়ত অপেক্ষা করতে হবে সাপটাকে মুখের কাছে নিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “স্বাধীনতা কি আদৌ সম্ভব ?

  1. স্বাধীনতা একটা অলীক ধারণা,
    স্বাধীনতা একটা অলীক ধারণা, যার পেছনে ছুটে ছুটে কেটে যায় এক একটা জীবন। আসলে ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় এবং বৈশ্বিক সবখানেই মানুষ শৃঙ্খলায় আবদ্ধ। সেই শৃঙ্খলের বেড়ি পায়েই ভোগ করতে হয় স্বাধীনতা নিজের মতো করে। ভালো লাগল আপনার লেখাটা। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. মানুষ জন্মগত ভাবে স্বাধীন

    মানুষ জন্মগত ভাবে স্বাধীন কিন্তু জীবনের প্রতিটি পদে পদে সে শিকল দিয়ে বাঁধা

    =======================================================================

  3. অনার্সে দর্শন নিয়ে পড়েছিলাম।
    অনার্সে দর্শন নিয়ে পড়েছিলাম। বড্ড ভাল লাগতো। এতো এতো প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি… উত্তর খুব কমই পেয়েছি। এক দার্শনিকের কথা পছন্দ হলে আরেক দার্শনিক এসে মাথায় প্রশ্ন ঢুকিয়ে দেয়।
    আমার পছন্দের বিষয় ছিল ঈশ্বর, জগতের সৃষ্টি আর স্বাধীনতা।
    ভালো লাগল আপনার পোস্ট।

  4. স্বাধীনতা= স্ব অধীনতা, অর্থাৎ
    স্বাধীনতা= স্ব অধীনতা, অর্থাৎ আত্ম দাসত্ব করা! (জ্যা জাঁক রুশো)
    এর থেকে চমৎকার সংজ্ঞা আর হয় না…
    একটা ব্যপার লক্ষনিয়ঃ ‘স্বাধীন সমাজ ব্যবস্থায় কোন রাষ্ট্র থাকতে পারে না আবার রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীন হতে পারে না’ — ভ ই লেলিন!
    আমার অন্যতম প্রিয় উক্তি!! বর্তমান বিশ্বে মানুষের প্রকৃত স্বাধীনতা সম্ভব না…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

86 − = 85