আমার মা দিবস

চট্টগ্রামে ফিরে আসাটা হয়েছিল বাবার ভালবাসায় আর উৎকণ্ঠাময় কিছু কথাবার্তায় কিন্তু শেষটা ? শেষটা কি সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেল না । বলতে গেলে অনেকটা বিরক্ত হয়েই চট্টগ্রাম ছেড়েছি । কারণ এমন বাবা মা যেন কারো না হয় সেই দোয়া করি ।
ঘটনাগুলো বললেই সবাই আসলে বুঝতে পারবেন ।
চট্টগ্রাম আসার পর সব কিছু ভাল ভাবেই চলছিল। সেই মার বকবকানি যেটাকে আমি দুচোখে দেখতে পারি না। অতিরিক্ত আদর শাসন যা আমার বেশির ভাগ সময় লোক দেখানো মনে হয় । যাই হোক বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে দিনকাল যে খুব খারাপ যাচ্ছিল তা নয় । বরং পিছনে ফিরে থাকালে মনে হয় এই ১৮টা দিন আমার জীবনে অনেক গুরুত্বপুর্ণ। অনেক কিছু শিখেছি এই ১৮ দিনে । যাই হোক কি শিখেছি সেইসব নিয়ে আরেকদিন কথা হবে। ফিরে আসি আগের কথায় । আমার মার ভুতুড়ে আচরণ। আমি আসার আগের দিন ছিল “মা দিবস”।সবাই নানা ভাবে যার যার মাকে ইউস করেছে। এটাই আসলে এই দিবসের অলিখিত নিয়ম।কখনো মাকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে আমার পক্ষ থেকে ইউশ করা হয়নি । গত ৪ বছর অন্য সবার মত আমিও ফেসবুকে মাকে ইউশ করেছি । কিন্তু আমি জানি এর কোনটাই তার পাবা হয়নি।প্রযুক্তি নিয়ে আমার মা কোনকালেই উদারপ্রন্থী ছিল না। আর তার ফলও আমাকে হাতে নাতে ভোগ করতে হয়েছে। অন্যদের মত মত মাকে মোবাইলে ইউশ করা যেত না আবার সরাসরি ইউশ করলেও মার কাছে এই দিনটার তেমন কোন বিশেষত্ব ছিল না আমার মাকে আসলে কখনো আধুনিকতা স্পর্শ করেনি ।তাই একমাত্র ছেলের বার্থডে পালন করতেও তিনি নারাজ।তার কাছে এইসব লোক দেখানো কিংবা টাকা অপচয়ের মাধ্যম।এই জন্য বাবার সাথে আমার মিত্রতা যতখানি মার সাথে শত্রুতা তার থেকে ও বেশি ।“মা দিবসে” সবাই যখন মাকে নিয়ে স্ট্যাটাস দিচ্ছিল,কিংবা মাকে নিয়ে ঘুরতে বের হল অথবা পার্টি দিচ্ছিল তখন আমি আমার বন্ধুদের মত প্রতিদিনের মত আড্ডায়রত। ঠিক সন্ধ্যায় বাবা আমাকে কল করে জানাল যে মা আমাকে বাসায় ফিরতে বলেছে। এইখানে লক্ষনীয় যে মা আমাকে কল করে জানায়নি । বরং তৃতীয়পক্ষ হিসাবে এমন একজনকে বেছে নিয়েছে যার কথার দাম আমার কাছে অনেক। যাই হোক ব্যাপারটিকে তেমন একটা পাত্তা দিলাম না। কারণ এটা মায়ের ধর্ম।তারপরেও সময়মত বাসায় গেলাম। নিশ্চিত করে বলতে পারি আমার সময়মত ফিরাটাই ছিল আমার মার গিফট। কারণ ফিরার পর আমি বুঝতে পারি তার উদ্বিগ্নতার কারণ।তার উদ্বিগ্নতা আমাকে নিয়ে যাবতীয় কোন সমস্যা নিয়ে নয়।তার উদ্বিগ্নতা আসলে সময়সংল্পতা। এই সময়সংলিপ্ততা আমাকে দূরে ঠেলে দিবার জন্য না বরং আমাকে কাছে পাবার সর্বোচ্চ চেষ্টা। শেষ রাতে যখন সবাই তাদের শেষ দিনটি বাবা মার সাথে আড্ডায়রত সেখানে আমি ঘুমিয়েছি। আপেক্ষিক ভাবে দেখলে মনে হবে আসলে আমার বাবা মা কেউ আমার সাথে সময় কাটাতে ইচ্ছুক নয়। আসলে তা নয় বরং সত্যিটা হল তারা চাই না তাদের দুর্বলতা গুলো তাদের ছেলের সামনে ধরা পড়ুক। তাদের সাথে এক খাটে ঘুমিয়ে আমি সারারাত ৪টি চোখ যে আমাকে দেখে আছে তা ভাল ভাবেই বুঝতে পারছিলাম।সারারাত এইভাবে কাটার পর সকালে মার হাতে ভাত খেয়ে বের হব।শেষ মুহুর্তে মার দুচোখে চোখ গেল।আমি সাথে সাথে চোখ সরালাম। অন্য দিকে মুখ করে তাকিয়ে আছি । কেন ফিরে গিয়েছিলাম তা এখনো বুঝিনি। সম্ভবত অমীমাংসিত রহস্যগুলার মধ্যে এটাও একটা । স্টেশনে এসে ট্রেন ছাড়ার পুর্বমুহুর্তে আমি সেই চোখেগুলোর প্রতিচ্ছবি যেন আবার বাপের মাঝে দেখি।চোখে চোখে তখন যে কথা হয়েছিল সম্ভবত আমরা দুই প্রানী ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ সেটা পড়তে পারেনি । সম্ভবত পারবেও না। সম্বিত ফিরে পেতেই আমি অবশ্য পেপার দিয়ে মুখ ডাকলাম।কারণ আমি কাদঁতে জানি না। আর আমি আমার এই দুর্বলতাটা কাউকে দেখাতে চাই না। তারপরেও অনুভব করলাম কোথায় যেন পানি জমেছে। সম্ভবত কাদতে না পারার লজ্জার পানি।
যে বাবা মা নিজের ছেলেকে কাদাঁয় আপনারা বলুন তারা কি কখনো ভাল হয় ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “আমার মা দিবস

  1. আমি অবশ্য পেপার দিয়ে মুখ

    আমি অবশ্য পেপার দিয়ে মুখ ডাকলাম।কারণ আমি কাদঁতে জানি না। আর আমি আমার এই দুর্বলতাটা কাউকে দেখাতে চাই না। তারপরেও অনুভব করলাম কোথায় যেন পানি জমেছে। সম্ভবত কাদতে না পারার লজ্জার পানি।

    1. আমি ধূর্জটি; আমি এলোকেশে ঝড়

      আমি ধূর্জটি; আমি এলোকেশে ঝড় অকাল বৈশাখির
      আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাত্রীঃ

      কবিতার পংক্তিগুলো অনেকটা নজরুলের মত আসছে 😀

    1. প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাই
      প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাই কষ্ট করে পড়ার জন্য। মাথায় অনেক কিছু থাকলেও অলসতার জন্য আসলে কিছু লেখা হয় না । দেখা যাক :নিষ্পাপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

41 − = 35