প্যাঁচাল-১

পাশ্চাত্যের নৈতিক আদর্শ প্রাচীণ প্রকৃতিবাদ ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। আধুনিক নীতিশাস্ত্রও কোনো বিশেষ ধর্মের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয়। পাশ্চাত্য নৈতিক আদর্শের প্রবর্তক সক্রেটিস প্রকৃতিবাদ ধর্মের ঐশ্বরিক কল্পনায় বিশ্বাস না করার জন্য খুন হয়েছিলেন। মধ্যযুগের শেষভাগে মনুষ্যবাদ এবং যুক্তিপূর্ণ পরমার্থবাদ ধর্মের গোঁড়ামী এবং ঐশ্বরিক মোহের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালায়। প্রাচীণকালের এবং আধুনিক নীতিশাস্ত্রের অপরিবর্তনীয় এবং একনিষ্ট আদর্শ মূলত অন্ধবিশ্বাস। এই বিশ্বাস মানুষের স্বভাবজাত এবং একেই মানুষের শ্রেষ্ঠ নৈতিক আদর্শ হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু দার্শনিক চিন্তাধারা হিসেবে এটা অত্যন্ত ক্ষতিকর। সুতরাং পরোক্ষভাবে না হলেও অন্তরীক্ষভাবে এই চিন্তাধারার অনুমোদন অবাস্তব এবং পরমার্থিক জগতের কল্পণার উপর নির্ভর করে।

সক্রেটিস নিজে নীতিশাস্ত্রের প্রবর্তন করেননি। প্রকৃতপক্ষে সক্রেটিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর প্রধান শিষ্য প্লেটো নীতিশাস্ত্রের প্রবর্তন করেন। এই বিশ্লেষণ সক্রেটিসের যুক্তিশাস্ত্রের উপদেশ অনুযায়ী পরমার্থিক ভিত্তিই ছিল খ্রিষ্টীয় ঈশ্বরবাদের দার্শনিক ভিত্তি।

প্রকৃতপক্ষে ভারতবর্ষে ধর্মের বাহিরে কোনো নৈতিক দর্শন বা আদর্শ গড়ে ওঠেনি। স্মৃতি ও সংহিতাগুলি কতটা কাছাকাছি যায়। কিন্তু এইসব শাস্ত্রে যে সব সামাজিক ও ব্যাক্তিগত ব্যবহারের নিয়মাদির কথা উল্লেখ্য আছে, সেগুলো সবই পুরোহিত ধর্মের অনুশাসনের উপর প্রতিষ্ঠিত। ব্যক্তিগত, মানসিক বা আধ্যাত্মিক উন্নতির নৈতিক অবলম্বন হিসেবে তার কোনো উপকারিতা নেই। কারণ প্রথমত, ধর্মের নিয়ম কানুনের মধ্য দিয়ে তার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং দ্বিতীয়ত এইসব নিয়মাদি মানুষের পার্থিব জীবন যাপনের ধর্মানুশাসন মাত্র।

চলবে….

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

19 − = 17