বিশ্বাসী কে? আর অবিশ্বাসীই বা কে?

যদি স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করা হয় তাহলে মূলত তাকে বিশ্বাসী বলা হয়। আর যে করে না, সে অবিশ্বাসী। কিন্তু যে বলে যে সে স্রষ্টার অস্তিত্বে সন্দেহ পোষণ করে বা যে নিঃসন্দেহে বলে স্রষ্টার কোন অস্তিত্ব নেই, সেটাই তো তার বিশ্বাস। তাহলে তাকে কেন
অবিশ্বাসী বলা হবে? তাই সবাই বিশ্বাসী আবার সবাই কম বেশি অবিশ্বাসী ।

আবার আছে, ধামির্ক, বিধর্মী আর নীধর্মী।
এত বিভক্তি , এত দল, এত এত মত। আমরা প্রত্যেকেই ধামির্ক, প্রত্যেকেরই ধর্ম আছে। ধমর্হীন কোন বিবেচক মানুষের অস্তিত্ব থাকতে পারে না। এখন বিবেচনার বিষয় কার ধর্ম কি? ধর্ম হল যা ধারণ করা হয়। মানবতায় যে বিশ্বাস করে, মানব ধমর্কে যে সবার উপরে স্থান দেয়, সে কেমন করে অবিশ্বাসী আর নীধর্মী হয়?

রক্তাক্ত মৃতপ্রায় পথের উপর পড়ে থাকা মানুষকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য যখন আমরা যারা পা বাড়াই না, বরং পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চুপচাপ দেখে যাই, আর চায়ের কাপে ঝড় তুলি – তাদের কে মুসলমানের ঘরে জন্মেছে বলে মুসলমান, কে হিন্দুর ঘরে জন্মেছে তাই আজীবন হিন্দু – তাতে খুব বেশি কিছু কারো যায় আসে না। আমার চোখে তারা মানুষই নয়, তাদের আবার কি ধর্ম, কি বিশ্বাস?

প্রচলিত ধর্ম-অধমের্র বিভেদে, যাকে ধমর্হীনতার অপরাধে জনসমক্ষে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হলো, সাহায্যের জন্য একটি মানুষ এগিয়ে আসলো না, সেই নীধর্মী, ধমর্হীন, নাস্তিক মানুষটি আমাদের জন্যই মরনোত্তর দেহ দান করে গেল ; আস্তিক-নাস্তিকের মাঝে ভেদাভেদ না করে।

ধর্ম বলে দেয় জীবনে শুধু নয়; মৃত্যুর পরও আমার দেহ আমার নয়। যে কোন ধমের্র মৃতদেহ সৎকারের ব্যাবস্থা তো রীতিমত উৎসবমুখর আর ব্যয়বহুল। কারণ শেষকৃত্যের সাথে জড়িত সব ধর্ম-পাণ্ডবদের রুটি-রুজি।

কি লাভ তিলকে সাজিয়ে ফুলে মুড়িয়ে, চন্দন কাঠে দেহকে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলে?
কি লাভ এত আয়োজনে তিন হাত মাটির নীচে পুতে ফেলে মাটির উবর্রতা বৃদ্ধি করে? প্রচলিত হিংসুক ধর্ম মৃতমানুষের দেহদানকে অস্বীকার করে। কেন? জন্ম মৃত্যুকে নিয়ে স্রষ্টার অসীম ক্ষমতায় অসহায় মানুষ ভাগ বসিয়ে ফেলে তাই কি? তুচ্ছ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মানুষ তার ধারন ক্ষমতার বাইরে আরেকটি মানুষের জন্য অনন্ত ভালবাসা বহন করে তাই?

কিছু মানুষ ঈশ্বরের মত মহান হৃদয় নিয়ে জন্মায়! কিংবা নিজের জীবদ্দশায় সেই মহত্ব অজর্ন করে!!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

65 − = 62