মুক্তির খোঁজে

প্রগতিশীল বলে আজ যারা পরিচিত তারা’ও বিপরীত মত মানতে চায়না। নিজের মতের বিপরীত কোন মত এলেই শুরু হয় বিবাদ। যুক্তির বদলে সেও বেছে নেয় চোখ বুঁজে বুলি আওড়ানোর উপায়। সমাজে প্রচলিত এক শব্দ “ধর্মান্ধ”। “ধর্মান্ধ” বলতে বুঝায় যারা নির্দ্বিধায় ধর্মের নামে প্রচলিত যেকোন কথা মেনে নেয়। প্রগতিশীলরা তাদের ক্ষতিকর বলে মনে করে। তবে দেখা যায় কি প্রগতিশীলরাও আজকাল দলান্ধ, ব্যক্তিত্বান্ধ। তারা আজকাল অন্ধের মতো মেনে নেয় তাদের সমর্থিত রাজনৈতিক দলের কথা কিংবা পছন্দের ব্যক্তির কথা। অন্ধের মতো বিরুদ্ধাচরণ করে বিপরীত দলের কিংবা প্রতিপক্ষের সম্মানিত ব্যক্তির যৌক্তিক কোন কথার।


সবার মতো প্রথা মেনে বাঁচবোনা, নিজের মতো করে বাঁচবো। স্রোতে গাঁ ভাসাবোনা, স্রোতের বিপরীতে চলবো। স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে বাঁচবো, কোন চক্রে জীবন আটকে রাখবোনা।

এভাবেই বেঁচে থাকতে চায় মানুষ। তবু দেখা যায় কি সব কিছুর বিপরীতে চলতে চলতে একটা ছকে সে’ও তার জীবন বেঁধে ফেলে। এরপর শুরু হয় হতাশার সর্বোচ্চ রূপ। কিভাবে পার পাওয়া যায় খুঁজতে থাকে, উপায় কভু মিলেনা।

প্রগতিশীল বলে আজ যারা পরিচিত তারা’ও বিপরীত মত মানতে চায়না। নিজের মতের বিপরীত কোন মত এলেই শুরু হয় বিবাদ। যুক্তির বদলে সেও বেছে নেয় চোখ বুঁজে বুলি আওড়ানোর উপায়। সমাজে প্রচলিত এক শব্দ “ধর্মান্ধ”। “ধর্মান্ধ” বলতে বুঝায় যারা নির্দ্বিধায় ধর্মের নামে প্রচলিত যেকোন কথা মেনে নেয়। প্রগতিশীলরা তাদের ক্ষতিকর বলে মনে করে। তবে দেখা যায় কি প্রগতিশীলরাও আজকাল দলান্ধ, ব্যক্তিত্বান্ধ। তারা আজকাল অন্ধের মতো মেনে নেয় তাদের সমর্থিত রাজনৈতিক দলের কথা কিংবা পছন্দের ব্যক্তির কথা। অন্ধের মতো বিরুদ্ধাচরণ করে বিপরীত দলের কিংবা প্রতিপক্ষের সম্মানিত ব্যক্তির যৌক্তিক কোন কথার।

তাহলে কি সেই প্রগতিশীল ব্যক্তি সমাজের জন্য ক্ষতিকর নয়?

আজকাল আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ে হতাশার অভাব নেই। রাষ্ট্র পিছিয়ে যাচ্ছে নির্দ্বিধায়। কেন পিছিয়ে যাচ্ছে তাতে কারো মাথাব্যথা নেই। এই লেখা দেখে একদল বলে উঠে, প্রয়াসই লেখালেখি করে আমরা তো আছি, আপনারা আসেন না কেন? আপনাদের কারণেই তো এই অবস্থা। দেখা যায় দলটা যতটা ধোয়া তুলসি পাতা দেখায় আসলে তা নয়। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য অন্যদের নির্দ্বিধায় ব্যবহার করে। তারা মুখে বুলি আওড়ায় “আমরা কাজ করি, মুখে বলিনা কিছু।” দুইদিন সাথে থাকলেই বুঝতে পারবেন তারা কাজের চেয়ে মুখ চালাতে আর লোক দেখাতে বেশি পটু। কাজ হোক না হোক মুখ দেখাতে পারলেই হলো।

আজকাল রাজনীতিতে অংশ নেয় বিদ্যা অর্জনের চেয়ে মারামারিতে পটু ব্যক্তিরা। ব্যতিক্রমী কিছু দল থাকলেও তারা খুব একটা ভালো তা বলা যাবেনা। নিজেদের দোষ স্বীকার করার মতো সৎ সাহস তাদের নেই। বর্জনীয় ব্যক্তিবর্গ ত্যাগ করার মতো মানসিকতাও তাদের নেই।

এ’তো গেলো রাষ্ট্রব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থায় আসি। সবাই শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিরক্ত। শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন হওয়া উচিত, আমরা সবাই মানি। কিন্তু কি রকম ব্যবস্থা হওয়া উচিত আমরা জানিনা। কাল্পনিক কিছু ব্যবস্থার কথা আমরা বলি, কিন্তু বাস্তবসম্মত সঠিক রূপরেখা আদৌ আমরা কেউ দিতে পারিনা।

দোষটা আপনার, আমার, আমাদের সবার। তবু কেউ মানতে রাজি না। মেনে নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করবে এরকম মানুষের বড্ড অভাব। সবাই স্বার্থলোভী, ক্ষমতালোভী; মানব কল্যানলোভী কাওকে দেখিনা।

তবে মুক্তির উপায় কোথায়? মুক্তি- সে’কি অবাধ্য কোন শিশু নাকি রূপকথার কাল্পনিক কোন নায়ক?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 − 76 =