বিলাসিতা নষ্টামী না

ধর্ষক সাফাতের ভাষায় এই বয়সটা হলো উপভোগ করার বয়স তাই আমি উপভোগ করছি। এটা কোনো অন্যায় না। আমি প্রতিদিন কোনো না কোনো হোটেলে এরকম কাজ করেই থাকি। ’ রিমান্ডে সাফাত আহমেদ এসব তথ্য জানিয়েছে বলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটি।


কেচো খুঁড়তে গিয়ে যদি থলের বেড়াল বের না হয় তাহলে ঘটনাতো আর ঘটনা থাকে না। যা ঘটে তা রটেও বটে।আমরা ঘটনার সৃষ্টি করি। মিডিয়া ও আইনের চোখে ঘুমন্ত বিড়াল জেগে ওঠে।তার রটে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মিডিয়া খুব এক্সপার্ট। যাকেই টার্গেট করে তার তল্পিতল্পা সহ বের করে। কিন্তু সমস্যা একটাই।আমাদের দেশে প্রতিদিনই ইস্যু তৈরি হচ্ছে। আর এক একটা নতুন ইস্যুর ভিড়ে চাপা পড়ছে পুরণো ইস্যু গুলো। এভাবেই চলে দৈন্দিন জীবন। অপরাধী অপরাধ স্বীকার করে কিন্তু টাকার আঁড়ালে অপরাধ ঢেকে যায় কিছুদিন পরে। যেমন বর্তমান ইস্যু আপন জুয়েলারস। কত দিন থাকবে? অদৌ সঠিক বিচার কি পাবে? বাপ ছেলের কথা শুনে মনে হচ্ছে তো দেশটাই ওদের দুই বাপ-ছেলের। অন্যরা ভাসমান টেপাপোনা

রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সাফাত আহমেদ রিমান্ডের প্রথম দিনেই গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রায় এক ডজন বান্ধবীর নাম ফাঁস করেন। সাফাত এই বান্ধবীদের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্কের কথাও খোলামেলা স্বীকার করেন। বান্ধবীদের মধ্যে নাকি উঠতি কয়েকজন মডেলেরও নাম লিস্টে আছে। সাফাত আরও বলেন প্রতিদিন তার হাতখরচ ছিল দুই লাখ টাকা। এই টাকা দিতেন বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ।
প্রতি রাতেই সাফাতরা পার্টি করতো। পাঁচ তারকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এসব পার্টিতে বন্ধু-বান্ধবীরা হাজির থাকতেন। তেমনি গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুই ততরুণী ধর্ষণের শিকার হয়।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত বলেন, বাবা আমার বিষয়ে সবই জানে। বাবা আর আমি মাঝে মাঝে এক সঙ্গেই মদ খেয়ে থাকি। এটা কোনো ঘটনাই না। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, দুই বছর আগে টেলিভিশন উপস্থাপিকা ও মডেল পিয়াসাকে বিয়ে করেন সাফাত। তার আগে আমেরিকায় গ্রিনকার্ড পাওয়া এক বাঙালি মেয়েকেও বিয়ে করেন। পরে তাকেও ছেড়ে দেন বলে জানান তিনি।

ধর্ষক সাফাতের ভাষায় এই বয়সটা হলো উপভোগ করার বয়স তাই আমি উপভোগ করছি। এটা কোনো অন্যায় না। আমি প্রতিদিন কোনো না কোনো হোটেলে এরকম কাজ করেই থাকি। ’ রিমান্ডে সাফাত আহমেদ এসব তথ্য জানিয়েছে বলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটি।

আগেই ছেলের অপকর্মকে সমর্থন দিয়ে সাফাতের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ বলেন, “আরে মিয়া, আমার পোলা আকাম করছে তো কি হইছে। জোয়ান পোলা একটু-আধটু তো এসব করবই। আমিও তো করি। আমার যৌবন কি শেষ হয়ে গেছে? আমি এখনও বুড়া হইনি।” মামলা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতেই দিলদার আহমেদ ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আরে ভাই এমন ফালতু বিষয় নিয়ে হৈচৈ করার কি আছে? মানছি আমার ছেলে আকাম করছে। কিন্তু ওই দুইটা মেয়েও তো ভালো না। খারাপ মেয়ে। তা না হলে কেউ গভীর রাতে হোটেলে যায়? ভদ্রঘরের কোনো মেয়ে কি রাত-বিরাতে হোটেলে যাবে?’

মেয়ে দুটো পুরোপুরি প্ল্যানিং করে এটা করেছে। আমার সাবেক পুত্রবধূ ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাও ওদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। আমিও তো অনেক জায়গায় আকাম করি। করুম না কেন। আমি কি বুড়া হইয়া গেছি নাকি? আমার যৌবন নাই? আমিও তো হোটেলে যাই। আমার ছেলে যদি হোটেলে ওগো লগে কিছু কইরা থাকে তো মিলমিশ কইরা করছে। সম্ভ্রমহানী করতে যাইব ক্যান?’

যেমন বাপ তেমন ছেলে। বড় লোকের নষ্টামীর নাম বিলাসিতা। আরে ভাই আপনার যৌবন শেষ নাকি আপনার ছেলের যৌবন শেষ সেটা দেখার বিষয় না। আপনার যৌবনের বিঁষে পুড়তে হবে কি এ সমাজের তরুণীদের। এতই যৌবন যদি ডাক দেয় তবে একটা প্রস্টিটিউটের কাছে গিয়ে যৌবন কসলাইয়া কসলাইয়া আরাম আয়েস করুন। তাই বলে প্রতিদিন নতুন নতুন তরুণীদের ধর্ষণ করে আপনার যৌবন তৃপ্তি করার কোন অধিকার নাই। টাকা আছে বলেই আপনি নষ্টামী করতে পারবেন না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 3 =