সমপ্রেমী পুরুষ ও পুরুষের অথবা নারী ও নারীতে ভালোবাসাতে দন্দ কোথায়?

সমকামী বা সমপ্রেমী, পুরুষ ও পুরুষের অথবা নারী ও নারীতে ভালোবাসাতে দন্দ কোথায়? মানুষকে যদি ভালোবাসা ও অধিকার দিতেই হয় তবে তা মানুষের সর্ব রূপেই দেয়া তা উচিৎ।

সংবাদে প্রকাশ ঢাকা র্যাব -১০ এর জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন,কেরানীগঞ্জ কমিউনিটি সেন্টার থেকে ২৮ জন সমকামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে , এ ক্ষেত্রে যে বিষয়টি আমি আলোকপাত করতে চাইছি সেটা হচ্ছে মানুষের ভালোবাসার অধিকার বা তার জীবন সঙ্গিনী বাছাই করার যে অধিকার তা যদি তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয় তবে সে ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় কিনা। বিজ্ঞ পাঠক সমাজ হয়তো আমার চাইতে ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন, তবে বিষয়টি নিয়ে যে আলোচনা করা যাবে না সেটা আমরা অনেকেই মানতে রাজী নই, এভাবেই যদি বিতর্কিত কোনো বিষয়ে আলোকপাত করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হয় তবে একটি কুসংস্কার মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা আমাদের পক্ষে তৈরি করা কোনোদিনই সম্ভব হবে না।

২৮ জন মানুষকে তাদের ভালোবাসার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করার কি ধরণের যৌক্তিকতা থাকতে পারে তা একটু বিশদ ভাবেই আলোচনা সাপেক্ষ। সমকামী বা সমপ্রেমীদের ভালোবাসা প্রদর্শনে যদি সামাজিক ভাবে কোন ধরণের ক্ষতি সাধন হয় বা বিষয়টি কোন ভাবেই বিজ্ঞানসম্মত অথবা অযৌক্তিক তবে আমার মতো অনেকেরই জানার প্রয়োজন আছে বৈকি।

আস্তিকতা ও নাস্তিকতা নিয়ে আজ দেশ ব্যাপী শোরগোল | মানুষকে যদি সত্যিকার ভাবে ভালবাসতেই হয় তবে তা মানবতাকে ঊর্ধ্বে রেখেই করতে হবে, ধর্ম, জাতী, বর্ণ, গোত্র ও এসবের ঊর্ধ্বে মানুষ সত্য |

একজন মানুষ যখন জন্ম নেয় তখন তার এইসব জাত, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র এসব কিছুই থাকে না আমাদের মাঝে একটি শিশু শুধু মাত্র মানবতার ভালোবাসা নিয়েই এই পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়, কাজেই মানুষকে ভালবাসতে গেলে তার ধর্ম, জাতী, গোত্র, সমাজ সব কিছুকেই মানবতার দৃষ্টি দিয়ে ভালবাসতে হবে | এ ক্ষেত্রে কাউকে নাস্তিক কিংবা আস্তিক হবার প্রয়োজন হয় না | সমকামী মানুষরাও ধর্মীয় বিশ্বাসী হতেও পারে আবার নাও হতে পারে, ধর্মের সাথে ভালোবাসার সংমিশ্রণ যে সর্ব ক্ষেত্রে ঘটতেই হবে এ ধরণের যুক্তিও গ্রহণ যোগ্যতা পায়না , মানুষ যেমন ধর্ম মানবে কি মানবেনা সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয় তদ্রুপ মানুষ কাকে ভালোবাসবে কি বসবে না সেটাও তার ব্যক্তিগত বিষয় হলে দোষটা কোথায়।

জীবনের দীর্ঘ চলার পথে মানুষ পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতার দাসত্ব গ্রহণ করে, তার উপর ধর্ম, পারিবারিক, সামাজিক ও গোত্রীয় রীতি নীতিগুলো প্রভাব বিস্তার করে তাই ভালোবাসার চাহিদাগুলো দেখতে ভিন্নরকম হতেই পারে যেমন একটি ছেলে অন্য একটি ছেলের প্রতি কিংবা একটি মেয়ে অন্য একটি মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট হতেই পারে, মানবতার দৃষ্টি কোনে তারাও মানুষ আর ভালোবাসাটা মানুষের অধিকার আর তাদের এই ভালোবাসতে কোনই অপরাধ থাকে না | পুরুষ ও পুরুষের অথবা নারী ও নারীতে ভালবাসতে যদি ধর্ম কোনরূপ বাধার সৃষ্টি করে তবে আমার দৃষ্টিতে ধর্মীয় রীতিনীতি মানবতাকে অসম্মান করছে |

কেউ কি প্রমাণ করতে পারবে একজন সমকামী মানুষ অন্য কোন দশজন মানুষের চাইতে অধম ? যদি তাই না হয়ে থাকে তবে ধর্মীয় কুসংস্কার সেখানে বাধা হয়ে দাড়াবে কেন ?? পৃথিবীতে কোন বিজ্ঞানী বা চিকিৎসক ব্যাখ্যা করাতে পারেনি যে কেন আমাদের মাঝে কেউ কেউ সমকামী প্রকার ক্রিয়াকলাপে জড়িত কিংবা জড়িত হতে চাই, সম্পূর্ণ বিষয়টি একটি আবেগ জনিত কারণ, এর মাঝে জৈব বা genitic পার্থক্য বা সমস্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি |

কেউ যদি আমার ধর্মকে কটূক্তি করে, তাতে কি আমার ধর্ম নষ্ট হয়ে যাবে, নাস্তিকদের ধর্ম থাকে না তাই বলে নাস্তিকতা নিশ্চয়ই একটি অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে না | কোন ধর্মে কি লেখা আছে যে নাস্তিকদের হত্যা করে ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে ? ধর্মান্ধরা এ ধরনের উন্মাদনা দেখাবার আস্পর্ধা একটা স্বাধীন দেশে কি করে পায় সেটাই ভাববার বিষয় | আজ যদি ধর্মীয় কুসংস্কার আমাদের ঘাড়ের উপর চড়ে বসে তবে হয়তো একদিন আমরা আমাদের দেশে মানবতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো না, রাস্তার উপর মুক্তমনা, নাস্তিক, হিজরা অথবা সমকামীদের কুপিয়ে হত্যা করা হবে, বিচার চাইবার সাহসটুকু হারিয়ে ফেলবো | সভ্য পৃথিবীতে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদের সমাজে আইনি পরিবর্তন আনতে হবে , হিজরাদের মত সমকামী মানুষদেরও সমান অধিকার দিতে হবে | মনে রাখতে হবে মানুষকে তার সর্ব রূপেই ভালবাসতে হলে, মানুষকে জাত, ধর্ম , বর্ণ, গোত্র এসবের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে |
— মাহবুব আরিফ কিন্তু

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “সমপ্রেমী পুরুষ ও পুরুষের অথবা নারী ও নারীতে ভালোবাসাতে দন্দ কোথায়?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

39 − 35 =