ইসলাম গ্রহন না করাটাই অপরাধ, আর তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড

প্রায়ই মুমিনরা প্রচার করে – যার যার ধর্ম তার তার কাছে। কথাটা ডাহা মিথ্যা কথা। মুহাম্মদের জীবনে সর্বশেষে নাজিল হয় সুরা তাওবা। এই তাওবার বিধানই হলো ইসলামের সর্বশেষ বিধান। সুরা তাওবাতে বলা হয়েছে – ইসলাম গ্রহন না করাটাই হলো অপরাধ এবং অনর্থ সৃষ্টি করা। আর এর শাস্তি হলো তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে হত্যা করা।

প্রায়ই মুমিনরা প্রচার করে – যার যার ধর্ম তার তার কাছে। কথাটা ডাহা মিথ্যা কথা। মুহাম্মদের জীবনে সর্বশেষে নাজিল হয় সুরা তাওবা। এই তাওবার বিধানই হলো ইসলামের সর্বশেষ বিধান। সুরা তাওবাতে বলা হয়েছে – ইসলাম গ্রহন না করাটাই হলো অপরাধ এবং অনর্থ সৃষ্টি করা। আর এর শাস্তি হলো তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে হত্যা করা।

প্রথমেই মুমিনরা ইসলাম শান্তির ধর্ম প্রমানের জন্যে যে আয়াত হাজির করে , সেটা দেখা যাক —

সুরা মায়দা- ৫: ৩২: এ কারণেই আমি বনী-ইসলাঈলের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবাপৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। তাদের কাছে আমার পয়গম্বরগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছেন। বস্তুতঃ এরপরও তাদের অনেক লোক পৃথিবীতে সীমাতিক্রম করে।

খেয়াল করতে হবে , এই আয়াতটা আসলে মুসলমানদের জন্যে না। এটা হলো আসলে ইসরাইলি তথা ইহুদিদের জন্যে। কোরান বলেছে আল্লাহ কোরানের পূর্বেকার সব বিধান যা অন্যান্য নবিকে দেয়া হয়েছিল তা বাতিল করে দিয়ে নতুন বিধান জারি করেছে কোরানে। তাই উক্ত ৫:৩২ এর বিধান কোনভাবেই মুসলমানদের জন্যে প্রযোজ্য নয়। এর পরের আয়াত দেখলেই আসল চরিত্রটা বোঝা যাবে ,যেমন —

সুরা মায়দা – ৫: ৩৩: যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

আল্লাহর সাথে কেউ সংগ্রাম করতে পারে না , এটা একটা অর্থহীন কথা। আসল কথা হলো যারা ইসলাম গ্রহন করে নি , ইসলাম নিয়ে নানা প্রশ্ন করত সেই মুহাম্মদের সাথে , তারাই হলো এই লোকসকল। অর্থাৎ যারা ইসলাম গ্রহন করে নি , তারাই হলো এই লোকজন , আর ইসলাম গ্রহন না করার শাস্তি হলো – তাদেরকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করতে হবে , বা হাত পা কেটে দিয়ে হত্যা করতে হবে , হত্যা করতে না পারলে দেশ থেকে বহিস্কার করতে হবে। আর এটাই হলো ইসলামের আসল বিধান। এই বিধানের চুড়ান্ত রূপ আমরা দেখতে পাব মুহাম্মদের জীবনে সর্বশেষে নাজিল হওয়া সুরা তাওবায় —

সুরা তাওবা-৯:২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

উক্ত আয়াতে খুব পরিস্কারভাবেই বলছে , যারা ইসলাম গ্রহন করে নি , তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। তারপরেও কেউ যদি সেটা না বোঝে , স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই উক্ত আয়াতের যে ব্যখ্যা করে গেছে সেটা দেখা যেতে পারে —–

কিতাবুল ঈমান অধ্যায় ::সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

কিতাবুল ঈমান অধ্যায় ::সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১
আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি । এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারণ ছাড়া ।আর তাদের হিনাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

কিতাবুল ঈমান অধ্যায় ::সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩২
আবু বকর ইবনআবু শায়বা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) ও জাবির (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি ।বাকি অংশআবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে ইবন মুসায়্যাব-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ ।আবু বকর ইবনআবু শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (র)……জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, এ কথার স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে আমি আদিষ্ট হয়েছি ।আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই,– এ কথা স্বীকার করলে তারা আমার থেকে তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে । তবে শরীআতসম্মত কারণ ছাড়া এবং তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

কিতাবুল ঈমান অধ্যায় ::সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩৩
আবু গাসসান-আল মিসমাঈ মালিক ইবন আবদুল ওয়াহিদ (র)……আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, লোকদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল এবং নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় । যদি এগুলো করে তাহলে আমা থেকে তারা জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারন ছাড়া । আর তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

ঠিক সেই কারনেই মুহাম্মদ বলে গেছে , সন্ত্রাসই ছিল তার বিজয়ের আসল রহস্য। তাই খাটি মুসলমানদেরকে হতে হবে সন্ত্রাসী ,যেমন —-

জিহাদ অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে ভীতির সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে।

আর সন্ত্রাসের মাধ্যমেই পাওয়া যাবে বেহেস্তের চাবি, যেমন —-

জিহাদ অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৭৩
আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (র)…………উমর ইব্ন উবায়দুল্লাহ (র)-এরাযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব আবূন নাযর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইব্ন আবূ আওফা (রা) তাঁকে লিখেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ইসলাম গ্রহন না করাটাই একটা অপরাধ ও অনর্থ সৃষ্টি করা। আর তার শাস্তি হাত পা কেটে হত্যা করা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

70 − = 62