সাঈদীর ফাঁসি চেয়ে ছাত্র-জনতার সমাবেশ

যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসাই সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড রায় প্রত্যাখান করে, তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করে ১৯ মে গতকাল শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রসমাজ ।

?w=640″ width=”500″ />

১৯ মে, শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় (৫.০০) শুরু হয় এই সমাবেশটি চলে রাত আট (৮.০০) পর্যন্ত । সবাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের বক্তরা ।

তার মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি নাসির উদ্দিন প্রিন্স তার বক্তব্যে বলেন, ‘ রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে দেয়া আমৃত্যু কারাদণ্ড রায় বাঙালি জাতিকে কলঙ্কিত করেছে, আমরা এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও এই রায় প্রত্যাখান করে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি রাখছি ।
প্রিন্স বলেন, ‘সরকার একটি গোষ্ঠীকে ভয় পেয়ে রাজাকার সাঈদীর এই রায় দিয়েছে তা না হলে কেন অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির রায় বহাল রাখা হয় নি ?

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ‘রাজাকারের আজও ফাঁসি হয় নি এটা লজ্জার বিষয়, একটি ইস্যুর ভিত্তিতে এই রায় বাতিল করা হয়েছে আর তা হয়েছে হেফাজত ইসলামের সন্ত্রসী তান্ডবের কারণে । তাদের ভয় পেয়েই মূলত এই রায় দেয়া হয়েছে ।
লিটন আরো বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে আজও কেন স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি জামায়েত ইসলামকে নিষিদ্ধ করা হয় নি ?? এর পেছনে কিসের এত রাজনীতি ?? আজ যখন হেফাজত ইসলাম স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হানছে তখন সরকার কেন চুপ! (?) আজ তারা যখন বলছে অপরাজেয় ভাস্কর্য, বিজয় একাত্তর ভাস্কর্যসহ দেশের সকল ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার কথা তখন কি করছে সরকার । হেফাজত এত সাহস পায় কোথা থেকে দেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে কথা বলার! (?)
এক পর্যায়ে লিটন নন্দী বলেন, ‘২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭০ জনের মত প্রাণ হারিয়েছে তাঁর জন্য হলেও এই রাজাকার সাঈদীর ফাঁসি দেয়া ন্যায্য দাবি’ ।

সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ঢাকা নগরে অন্যতম নেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, ‘একদিন আমরা সমস্ত বাঙালিরা এক হয়েছিলাম এই শাহবাগে এই রাজাকারদের ফাঁসির জন্য, সারা দেশের মানুষ তা জানে’ ।
আমদের অনেক সহযোদ্ধারা প্রাণ দিয়েছে এই যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে ।
তাদের ফাঁসির জন্য লড়াই করায় প্রাণ হারিয়েছে রাজীব, অনন্তসহ আরো অনেকেই । তাদের আত্মত্যাগের শপথ নিয়ে বলছি, যতদিন না পর্যন্ত সম্পূর্ণ রাজাকারদের দেশ থেকে নিধন হচ্ছে ততদিন উত্তাল থাকবে এই শাহবাগ, আন্দোলন চলবে দেশপ্রেমের চেতনা নিয়ে’ ।

তবে বরাবরই যুদ্ধাপরাধীদের রায় নিয়ে আন্দোলন করে আসছে গণজাগরণ মঞ্চ । এবার এই রায়ের পর কেন তারা কোন কর্মসূচি দেন নি তা জানতে চাইলে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা খান আসাদ্দুজামান মাসুম বলেন, ‘এই বিষয়টি গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ভাল করে বলতে পারবেন ‘ ।

এদিকে সমাবেশ আয়োজকরা গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের সাথে এবিষয়ে ফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি ।

উল্লেখ্য যে, গত ১৫ মে, সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্য বেঞ্চ শুনানি শেষে দেলোয়ার হোসাইনএ সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা রিভিউ আবেদন এবং খালাস চেয়ে সাঈদীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয় ও সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ বহাল রাখেন ।
বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার।
তবে, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
পরে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সাঈদী আপিল করেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর ফাঁসির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

48 + = 51