আমরা পেরেছি আমরাই পারবো……

কিছুদিন আগে আমি আমার কিছু বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম প্রেস ক্লাব এ গিয়েছেলো নাকি ওরা আমাকে সাফ জানিয়ে দেই ওরা “বাইক্কা কাম(ফাও কাজ)” করেনা !! শুনে আমি মোটেও বিরক্ত কিংবা রাগান্নিতবোধ করলাম না বরং খুব ঠান্ডা মাথাই ওদের বললাম “বাইক্কা কাম” কেনো?? ওরা আমাকে জবাব দিলো “এগুলো করে লাভ কি বিচার তো হয়ে গেছে তাহলে কি দরকার আর এইসব আন্দোলন ফান্দোলন করে ?? কোনো লাভ হবেনা এবং যে কাজে কোনো লাভ নাই উহাকে “বাইক্কা কাম”বলে !! ওরা অতি মাত্রায় শিক্ষিত বলে ওদের “অ”যুক্তির কাছে আমি হার মেনে যায় এবং আমার মতো মুর্খের সাহস হয়নি ওদের সাথে তর্কযুদ্ধে যেতে !! ওদের কথা শুনে আমার চরম হাসি আসলো কারন ওদের কাছে মহৎ কাজ বলতে বুঝায় কোনো অজানা মোবাইল নং থেকে মিসকল আসলে কল ব্যাক করে মেয়ে কিনা দেখা, রাস্তায় কোনো মেয়ে হেটে গেলে কোনাচোখে দেখে বলা “উফ কি মাল”!! ওরা জেনে বুঝে এটাকে “বাইক্কা কাম”বলছে আর এতে ওদের দোষ দিয়ে কি হবে কারন ওরা জেগে জেগে ঘুমাচ্ছে তাই ওদের জাগানোর দরকার কি ?? ওদের মত ২/৪ জন জেগে জেগে ঘুমিয়ে থাকুক ওরা এই বাইক্কা কাম করলে কি আর না করলেই বা কি ??

আমাদের আন্দোলন নিন্দুকের কথাতে ভয় পায়না বরং উৎসাহ পায় আর এই উৎসাহের কারনে ঢাকার শাহবাগ এর আন্দোলন ধীরে ধীরে আজ সারা বাংলাতে ছড়িয়ে পড়েছে সারা বাংলার মানুষের একটাই দাবি যুদ্ধাপরাধীর ফাসিঁ। ১৯৫২ সালে রফিক, সফিক, সালাম, বরকত, জব্বার এর মতো অনেকেই “বাইক্কা কাম” করেছে বলে আজ আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা বাংলাতে কথা বলতে পারছি,১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ মানুষ এই “বাইক্কা কাম” করে শহীদ হয়েছে বলে আজ আমরা সাধীন দেশে মাথা উচু করে বাস করতে পারছি, ১৯৯০ সালে সারা বাংলার মানুষ এক হয়ে সৈরশাসকের বিরুদ্ধে বাইক্কা কাম করে বলে আজ আমাদের রাজাকার এর বিরুদ্ধে একসাথে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে জোড় গলায় বলতে পারি “বীর শহীদের বাংলায়, রাজাকারের ঠাই নায়”।এমন “বাইক্কা কাম” সবাই করতে পারেনা হিম্মত লাগে এই রকম “বাইক্কা কাম” করার জন্য !! আমাদের সাহস আছে হিম্মতও আছে ১৯৫২,১৯৭১,১৯৯০ ইতিহাসের উদাহরন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তার জলন্ত সাক্ষী।।আবার একবার সময় এসেছে “বাইক্কা কাম” করে দেশকে শত্রুমুক্ত করার।

আমি যুদ্ধ দেখিনি, আমি বীরাঙ্গনার চোখের জল দেখিনি, আমি শহীদের রক্ত দেখিনি কিন্তু আমি রাজাকার দেখেছি রাজাকারের চোখে হায়নার দৃষ্টি দেখেছি রাজাকারের মুখের হাসিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি উপহাস দেখেছি ।যতবার দেখেছি ততবার রক্তের শিরায় শিরায় শুধু একটি মাত্র শব্দ আঘাত করেছে “প্রতিবাদ”। একা ছিলাম বলে পারিনাই কিন্তু আজকে আমি আর একা না তাই চুপ করে থাকবো না আমি আমার অবস্থান থেকে সবার সাথে মিশে প্রতিবাদ করেছি, করছি, করে যাবো । আজ সবার সাথে আমি গলা মিলিয়ে বলতে পারি “এক কথা এক দাবি, রাজাকারের ফাসিঁর দাবি”।

আমরা যদি এখন সবাই নিজেকে যোদ্ধা বলে মনে করি তাহলে কি খুব বেশি ভুল হবে ??আমার তো মনে হয়না হবে কেননা আমরা এখন অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করছি না কিন্তু আমরা আমাদের মন থেকে যুদ্ধ করছি আমাদের এই যুদ্ধে আমরা আওয়ামিলীগ এর পক্ষে স্লোগান দিচ্ছি না আমরা জিয়ার সৈনিক বলে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছিনা আমরা বাঙালি বলে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছি আর এইটাই আমাদের আসল পরিচয়।আমরা তরুন সমাজের প্রতিনিধি আমরা সব পারি আমরা আমাদের অধিকার যেমন ছিনিয়ে নিতে পারি ঠিক তেমনি ফিরিয়ে আনতে পারি আমাদের হারানো অধিকার।আমরা যেমন পেরেছি ৩ মিনিট এর জন্য পুরোদেশকে স্তব্ধ করে দিতে তেমনি পেরেছি মুহুরতের মধ্যে “জয় বাংলা” বলে হুঙ্কার দিয়ে প্রতিবাদ করতে।

আমরা পেরেছি আমরা পারি আমরাই পারবো আমরা দেখিয়ে দিয়েছি আমরা প্রতিবাদ করতে জানি আমরা প্রতিরোধ গড়তে জানি আমাদের প্রতিবাদের ভাষার একমাত্র হাতিয়ার আমাদের আমাদের বুকের গভীরের সাহস যার সবটুকু দিয়ে আজ আমরা হুঙ্কার দিয়ে বলতে জানি “আমাদের ধমনীতে শহীদের রক্ত, এই রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারেনা”।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “আমরা পেরেছি আমরাই পারবো……

  1. “বীর শহীদের বাংলায়, রাজাকারের

    “বীর শহীদের বাংলায়, রাজাকারের ঠাই নায়”

    এইডা মুখ দিয়ে বের করা “বাইক্কা কাম” ।
    আর

    রাস্তায় কোনো মেয়ে হেটে গেলে কোনাচোখে দেখে বলা “উফ কি মাল”!!

    এইডা হইল আসল কাম ।

    ======================================================

    1. হ ভাই আসলেই অনেকেই”ওরা জেনে
      হ ভাই আসলেই অনেকেই”ওরা জেনে বুঝে এটাকে “বাইক্কা কাম”বলছে আর এতে ওদের দোষ দিয়ে কি হবে কারন ওরা জেগে জেগে ঘুমাচ্ছে তাই ওদের জাগানোর দরকার কি ?? ওদের মত ২/৪ জন জেগে জেগে ঘুমিয়ে থাকুক ওরা এই বাইক্কা কাম করলে কি আর না করলেই বা কি ?? :খুশি:

  2. ত্রিশ লাখ শহীদের “বাইক্কা
    ত্রিশ লাখ শহীদের “বাইক্কা কামের” জন্যই তারা নিজেদের স্বাধীন বলে দাবি করে।

    চায়ের ধোঁয়ার সাথে মত্ত আড্ডাতে কদাচিৎ যদি দেশের প্রসঙ্গ আসেও বা সব ঋণাত্মক বিষয় নিয়ে নিজের দেশকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যর্থ দেশ বলে উপস্থাপন করবে। কিন্তু যদি দেশের জন্য সামান্য একটু প্রেসক্লাব বা শাহবাগ যেতে বলা হয়, সবার আগে তারাই দৌড় দিয়ে পালাবে। এদের শুধু চাই, স্বার্থের সবটুকু, কিন্তু দেওয়ার বেলায় নিঃস্ব কাঙ্গাল।

    1. লাথিটা সামনের দিকে মারার ভীষণ
      লাথিটা সামনের দিকে মারার ভীষণ ইচ্ছে আছে একটু সাহস নিয়ে কাজটা করতে হবে যাতে উনারা বুঝতে পারে বাইক্কা কাম কি , কাহাকে বলে এবং কত প্রকার ও কি কি………… :হাসি:

  3. আমি যুদ্ধ দেখিনি, আমি

    আমি যুদ্ধ দেখিনি, আমি বীরাঙ্গনার চোখের জল দেখিনি, আমি শহীদের রক্ত দেখিনি কিন্তু আমি রাজাকার দেখেছি রাজাকারের চোখে হায়নার দৃষ্টি দেখেছি রাজাকারের মুখের হাসিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি উপহাস দেখেছি ।যতবার দেখেছি ততবার রক্তের শিরায় শিরায় শুধু একটি মাত্র শব্দ আঘাত করেছে “প্রতিবাদ”, একা ছিলাম বলে পারিনাই কিন্তু আজকে আমি আর একা না তাই চুপ করে থাকবো না আমি আমার অবস্থান থেকে সবার সাথে মিশে প্রতিবাদ করেছি, করছি, করে যাবো । আজ সবার সাথে আমি গলা মিলিয়ে বলতে পারি “এক কথা এক দাবি, রাজাকারের ফাসিঁর দাবি”

    অসাধারণ বলেছেন…

  4. আপনি বাইক্কা কামের মানুষ হয়েই
    আপনি বাইক্কা কামের মানুষ হয়েই থাকেন এই কামনা রইল। আপনার বন্ধু যারা “ফাইক্কা” কাম নিয়ে থাকে তাদের সামনের দিকে পারলে একটা লাত্থি দিয়েন।

  5. এই বাইক্কা কাম কইরা বাংলা
    এই বাইক্কা কাম কইরা বাংলা ভাষা পাইছি, স্বাধীন দেশ পাইছি, এই বাইক্কা কাম কৈরা রাজাকারের ও ফাঁসি চামু

  6. আমি যুদ্ধ দেখিনি, আমি
    আমি যুদ্ধ দেখিনি, আমি বীরাঙ্গনার চোখের জল দেখিনি, আমি শহীদের রক্ত দেখিনি কিন্তু আমি রাজাকার দেখেছি রাজাকারের চোখে হায়নার দৃষ্টি দেখেছি রাজাকারের মুখের হাসিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি উপহাস দেখেছি ।যতবার দেখেছি ততবার রক্তের শিরায় শিরায় শুধু একটি মাত্র শব্দ আঘাত করেছে “প্রতিবাদ”। একা ছিলাম বলে পারিনাই কিন্তু আজকে আমি আর একা না তাই চুপ করে থাকবো না আমি আমার অবস্থান থেকে সবার সাথে মিশে প্রতিবাদ করেছি, করছি, করে যাবো

    লেখাটা সুন্দর হয়েছে :ফুল:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 3