এলিট বিপ্লবীর কবলে. . . . .

এলিট শিক্ষিত সমাজের হাতে এদেশের ইতিহাস চিরদিনই বিকৃত ভাবে লেখা হবে। শুধূ এলিট শিক্ষিত শ্রেণী যত দিন বিভিন্ন বিপ্লবে, প্রতিবাদে লিড নিবে ততদিন বিপ্লব বেচাকেনা হবে। বর্তমানের কথাই ধরি। বনানী শব্দটাই এলিট। এলইডি টিভিতে, দামী ক্যামেরায় বনানী বিপ্লব কেবল। টকশোয়াররা মনিটর ভেঙ্গে ফেলছে। ধর্ষকের বিচার হচ্ছে আমাদের ঘরে ঘরে উৎসব। কিন্তু গত তিনদিন অজপাড়াগায়ের অন্তত তিনটি শিশু ধর্ষিত হয়েছে। ৮ বছরের আয়েশা আর তার বাপতো আত্নহত্যাই করলো। আসামী কয়জন গ্রেফতার হলো?? তারা মরে গিয়েও আমাদের, এলিটদের চোখ খোলাতে পারলো না। বনানীর ঘটনার পর সম্ভবত কুড়িল বস্তির একজন গার্মেন্টস শ্রমিক গ্যাং রেপ হয়েছিল। টিভি সাক্ষ্যাতকারে দেখছি তাকে প্রথমে উতক্ত করতো সে থানায় জিডি করতে যাওয়ার পরপরই ধর্ষিত হয়। নয় দিন ঢাকা মেডিকেলে থাকার পর রির্পোট নিয়ে থানায় গেলে , তার কথা অনুযায়ী পুলিশ স্রেফ গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে একটা শব্দও না করে। শবে-বরাতের কদিন আগে বাসাবোতে মূখে স্কচটেপ লাগিয়ে মাদ্রাসার হুজুর দ্বারা ৮ বছরের ছেলের ধর্ষন নিয়ে তেমন একটা কথাই বলি নাই। হুজুর গ্রেফতার হয় নাই। অথচ বনানীর ধর্ষকদের জন্য দোয়া করা হুজুরের ১৪ গুষ্ঠির পুরুষ-নারী সকলকেই আমরা গর্ভবতী বানিয়ে দিয়েছি। কোনটা বড় অপরাধ? মসজিদে ধর্ষকের জন্য দোয়া করা নাকি মসজিদে ধর্ষণ/ধর্ষণ??

যতদিন পর্যন্ত এলিট জ্ঞানীরা বিপ্লবী, সাধারণ আমরা শ্লোগানধারী কেবল তত দিন সামাজিক অবক্ষয় চলবেই। আইন দিয়ে মানুসিকতা কি পরিবর্তন করা যায়? সাময়িক চাপা দেওয়া যায় কেবল। যে দেশে মানুষ যত বেশি বদ সেদেশে আইন তত বেশি লাগে স্বাভাবিক নিয়মেই। ধর্ষণ আইন দিয়ে বন্ধ করা যাচ্ছে না।যাবেও না যত দিন এলিটরা আমাদের পথ দেখাবেন। তারাতো সাধারণ মানুষের বাসে সিদ্ধ হওয়ার অনুভূতি জানেন না।নিজে এসি গাড়িতে চড়ে বাস যাত্রীর অবস্থা অনুভব করার মতো এদের হৃদয় বা মেধা কোনটাই নেই। তাই স্বাভাবিক এলিট বা এসি হোটেলের ধর্ষণ ছাড়া এদের কাছে আর সবই পানশে। এরা টিভিতে, এরা পত্রিকায়, এরা সেমিনারে, এরা এ গরমেও সূট টাইয়ে এদের চকচকে ইংলিশে, প্রমিতে বাংলায়, কঠিন শব্দে আমরা মুগ্ধ হয়ে কেবল বিভ্রান্ত হই। বনানীর ঘটনায় বিচার হচ্ছে কিন্তু কোন কোন স্থানে পুলিশ মামলা নিচ্ছেই না। আর হুজ্জুর হলেতো কথাই নেই। হুজুরেরা আছে মৌজে। গরীবে তাদের বেহশতের কান্ডারী ভেবে খুশি করতে চায়, এলিট অসতেরও একই অবস্থা। এলিটরা কাপায় নাই তাই আমরাও কাঁপি নাই। আর প্রান্তি মানুষ, গণমানুষে জানেই নাই।

আমরা আসলে কতটুকু বনানীর বিচার চেয়েছি?
আমরা আসলে কতটুকু আন্তরিক?

আট বছরের আয়েশা আর তার বাবার আত্নহণণেও আমাদের বিপ্লবী মন পিপড়ার ঠ্যাঙের সমানও নাড়া খেল না কেন?? মসজিদে স্কচটেপ পেচিয়ে ধর্ষিত ৮ বছরের শিশুটির বিষয়ে আমাদের মনে একটু দাগ কাটেনি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 50 = 53