শিশুরা কি শ্রমিক?

এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি-
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
অকাল প্রায়াত কবি সুকান্ত বেঁচে থাকলে হয়ত এই লাইন কয়েটা ব্যান্ড করে দিত।পাথর চাপা কষ্ট নিয়ে বলতো, এ পৃথিবীকে আমি একদিন শূন্য স্থান দেখব। ভাগ্যিস সুকান্তের অকাল পক্কে লাই দুটো বেঁচে গেছে।

অবশ্যই আপনারা বুঝতে পারছেন আমি কি বলতে চাই।হ্যাঁ আমি বাংলাদেশের শিশু শ্রমকে বলছি।দিনে দিনে শিশুশ্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে।আমাদের দেশে বিভিন্ন কলকারখানা রয়েছে।সেখানে ঢুকে দেখলে বুঝা যাবে শিশুশ্রমটা কি। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা প্রচুর ঝুকির কাজ করছে।আবার এরা বিভিন্ন দূষণে আক্রান্ত।তাছাড়া রাস্তাঘাটে আমরা প্রচুর এরকম শিশুশ্রম দেখতে পাই।তবে আমরা সবাই মুখে নীতির কথা বললেও অন্তরে অন্য নীতি কাজ করে।আমাদের চোখের সামনে শিশুশ্রম দেখি।এমন কি আমরা নিজেরাই সেই কাজটা করি।একবার হলেও সাবধানতার চেষ্টা করি না।অথচ আপনার আমার একটি মাত্র শব্দ বা বাক্যর জন্য মুক্তি পেতে এই শিশুটি।শিশুশ্রমের বেশিভাগ স্বীকার গরীব কিংবা বস্তিতে জন্মানো ছেলে-মেয়ে।

গত দুই তিন আগে আমার নিজ জেলায় বিসিক শিল্প নগরীতে ঘুরতে গেলাম।ওখানে বেশ কিছু শিল্প ইন্ডারজাট্রি আছে।জুতার,কাগজের মড ও অ্যালুমিনিয়ামের ইন্ডারজাট্রিতে ঢুকে বেশ কয়েকটি শিশুকে কাজ করতে দেখলাম।অনেক ঝুঁকি পূর্ণ কাজ।একটু এদিক সেদিক হলেই চিরতরে চলে যেতে পারে হাত দুটো।আবার এখানে দেখলাম পঁচা কাগজের গোলা মন্ডের আবর্জনা শিশু গুলোর হাতে পায়ে লেগে আছে।আবার অ্যালুমিনিয়ামের হাড়ি পাতিল তৈরি করছে। চাকার ভিতর হাতে রুমাল দিয়ে ওরা যেমন খুশি তেমন তৈরি করছে হাড়ি পাতিল।কোন প্রকার আত্মরক্ষার কিছু নাই।অসাস্থ্যকর পরিবেশে এই শিশু গুলো কাজ করছে।এর ফলে এদের অকালে অনেক রোগ হতে পারে।আমি উপস্থিত কাউকে জিগাস করলাম।সে বললো সব কিছু বিবেচনা করে কাজ করানো যায় না।আপনার মত দেখে যায়ন।এতকিছু ভাবার দরকার নাই।
লোকটির কথা শুনে হতভম্ভ হয়ে যাই।এই আমরা মানুষ।যে শিশুটি আগামীর দেশ চালানোর সৈনিক।তাকে এভাবে ধুকে ধুকে মরতে হচ্ছে।এভাবে শিশুশ্রম বাড়তে থাকলে এক সময় এ পৃথিবীতে শিশু শূন্য হয়ে যাবে।সুকান্তে সেই স্বপ্ন তিলে তিলে শেষ হয়ে যাবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

70 − = 60