একজন মহতী ও উদ্যোগী ব্যক্তিত্ব

দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলন সংগ্রাম করে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায় করেন। যথারীতি সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, অনেক কারণের সঙ্গে সূক্ষ্ম কারচুপির ফাঁদে পড়ে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। সেই সূক্ষ্ম কারচুপির বিষয়টি তিনি যথার্থই উপলব্ধি করেছিলেন এবং স্পষ্ট করে বলেছিলেন। সূক্ষ্ম কারচুপির কথা শুনে তখন সেসব নিন্দুক হৈচৈ শুরু করেছিলেন তারাই এখন কথায় কথায় সূক্ষ্ম কারচুপির কথা বলছেন অবলীলায়। সেই নির্বাচনের পর দেশে যখন সরকারী ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এগিয়ে চলছিল ঠিক তখনই একের পর এক সব উপনির্বাচনে সূক্ষ্ম থেকে স্থূল কারচুপি শুরু হয়ে গেল, যার নগ্ন বহির্প্রকাশ ঘটে মাগুরার উপনির্বাচনে। সেখান থেকেই শেখ হাসিনা বুঝেছিলেন যে, দীর্ঘ সংগ্রাম করে স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন তা কখনই স্থায়ী রূপ লাভ করবে না যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা না যায়। তাই তিনি দাবি জানালেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং তা আদায় করেন। ফলশ্রুতিতে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নিরপেক্ষ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। সরকার গঠন করে শেখ হাসিনা যে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে হেরেছিলেন সেই সাহাবুদ্দীনকেই অনুরোধ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। দলে অনেক ত্যাগী ও বর্ষীয়ান নেতা থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছিলেন শুধু দেশের সর্বোচ্চ পদটিতে কোন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে আসীন করার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে। এই ধরনের উদ্যোগ একমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পক্ষেই নেয়া সম্ভব। কিন্তু এর বিনিময়ে তিনি কী পেলেন? তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের অনেক বিতর্কিত ভূমিকার জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। এই অবস্থার চরম বহির্প্রকাশ ঘটে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রদানের সময় যখন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন তার ভাষণ শুরুর পূর্বে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে এই ভাষণ তার নিজের নয়, তিনি অন্যের লেখা ভাষণ পাঠ করছেন মাত্র। এ কথা সবাই জানে যে সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি সংসদে যে ভাষণ দেন তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেই তৈরি করে দেয়া হয়। যে কথা সবাই জানে তা ভাষণ প্রদানের প্রাক্কালে বিশেষভাবে উল্লেখ করে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ তার প্রকৃত মনোভাবই প্রকাশ করেছিলেন। আর সেইসঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ ব্যক্তির নিয়োগের যে মহৎ উদ্যোগ শেখ হাসিনা নিয়েছিলেন তাও ব্যর্থ হয়ে গেল। কেননা রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের এই ঘটনার পর আর কেউই দলীয় আনুগত্যের বাইরে অন্য কাউকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে না। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এভাবেই অনেক মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। এখনো নিচ্ছেন, মহতী উদ্যোগ শুধু তিনিই নিতে পারেন, কেননা তিনি যে বঙ্গবন্ধুকন্যা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “একজন মহতী ও উদ্যোগী ব্যক্তিত্ব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

73 + = 81