ধর্ষণ; শিক্ষা ও সংস্কৃতির আধুনিকায়ন-ই ধর্ষণ রোধের হাতিয়ার।

ধর্ষণ কেন হয়?
এর কারণ কি?
এমন প্রশ্নে স্বাভাবিক উত্তর, নারীর উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা, অশ্লীল পোষাক পরা ইত্যাদি।
আচ্ছা, নারী কিভাবে উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা করে?
এই প্রশ্নের জবাবটাও বেশ স্বাভাবিক-ই দেয়া হয়।
নারী কেন রাতে রাস্তায় চলাচল করবে? নারী যদি সূর্য ডোবার আগেই ঘরে চলে যায় তবে তো আর ধর্ষণের শিকার হয় না!
সত্যিই কি তাই?
নারী রাত দশটা অবদি বাইরে থাকে বলেই পুরুষের কামভাব জাগ্রত হয় এবং নারীর ওপর ঝাপিয়ে পরে ধর্ষণ করে?
একজন পুরুষও তো অনেক রাত অবদি রাস্তায় চলাফেরা করে। কই আজ পর্যন্ত কোন নারী কি কোন পুরুষকে ধর্ষণ করেছে? ধর্ষণের কথা না হয় বাদ-ই দিলাম, কোন পুরুষকে দেখে কি কোন নারী নিপীড়নমূলক কোন বাক্য উচ্চারন করে যাতে কোন পুরুষ মনে করে সে ওই নারীর উচ্চারিত বাক্যে নিপীড়িত!(?)
কোন পুরুষ-ই বলতে পারবে না গভীর রাতে বাইরে একা পেয়ে কোন নারী বা নারী গ্যাং নিপীড়ন করেছে। কেননা নারী মানসিকতা যৌনতায় সীমাবদ্ধ নয়।
একজন পুরুষ তার যৌনতা নিয়ন্ত্রন করতে পারে না, কেননা তারা পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা দ্বারা এমনভাবে গড়ে ওঠে যেখানে নারীকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যে নারী মানেই যৌন পণ্য। যাদের কেবল ভোগ করাই পুরুষের জন্মগত অধিকার। তা হোক ঘরে কিংবা বাইরে। পেলো ধরলো, খুললো, খেলো!

এবার আসি পোষাকের বিষয়ে। নারী অশ্লীল পোষাক পরে। অশ্লীল পোষাক! সংস্কৃতি দ্বারা বিবেচনা করলে বলতে হয়, বাঙালী সংস্কৃতিতে বাঙালী নাররীর পোষাক শাড়ী, ব্লাউজ। সচরাচর বাঙালী নারীরা শাড়ী-ব্লাউজ পরিধান করে। এখন শাড়ী-ব্লাউজ পরিহিত নাররী ধর্ষিত হলো,পোষাক তার জন্য দায়ী। অতএব বাঙালী সংস্কৃতি অশ্লীল!
আমরা পশ্চিমা সংস্কৃতিতে দেখতে পাই নারীরা বিকিনি পরে রাস্তায় চলাচল করে। বিকিনি আমমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে অশ্লীল পোষাক। এই অশ্লীল পোষাক পরিধান করে পশ্চিমা নারীরা চলাচল করলেও তাদের পুরুষদের যৌনতা খাঁড়া হয় না। কেননা নারীর শরীর তাদের (পুরুষের) মতই। সুতরাং বিকিনি পরা পশ্চিমা নারীরা নগ্ন কিংবা অর্ধ-নগ্ন হয়ে চলাচল করলেও পুরুষদের লালসার শিকার হয়ে কোন নারী ধর্ষিত হয় না। কেননা শরীরের প্রতি লালসা নয় বরং নারী-পুরুষ উভয়ের শরীরই মানুষীয় শরীর।
এখন প্রশ্ন করবেন, আমি কি পশ্চিমা সংস্কৃতি বাঙলায় আনার কথা বলছি? মোটেও নয়।তবে একজন নারী তার ইচ্ছানুযায়ী বিকিনি পরলো না শাড়ী-ব্লাউজ পরলো না নগ্ন হয়ে চললো তা একান্তই তার ব্যক্তিগত। তবে নারীর শরীর দেখে তোমার কাম উদয় হবে আর তা নিবারণ করতে পশুর ন্যায় ঝাপিয়ে পরে ধর্ষণ করবে, আর তারপর নারীর পোষাককে দায়ী করবে!
আচ্ছা, একজন পুরুষ যখন শার্টের বোতাম খুলে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় তখন কোন নারী কি তার বুক দেখে কামোত্তেজনায় ছটফট করে এবং কাম নিবারণে ঝাপিয়ে পরে ধর্ষণ করে!(?) না করে না, কারণ পোষাক নয় পুরুষতান্ত্রিকতা পশুবৃত্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বিধায় নারীরা নিপীড়িত, ধর্ষিত।
পরিশেষে, নারীর উচ্ছৃঙ্খল চলাচল কিংবা পোষাক ধর্ষণের জন্য দায়ী নয়। দায়ী পশুবৃত্তিসম্পন্ন মানসিকতা। যা নারীকে করে রেখেছে ভোগ্যপণ্য। অতএব ধর্ষণ প্রতিরোধে প্রয়োজন পশুবৃত্তি সম্পন্ন মানসিকতার আমূল পরিবর্তন ও নারী-পুরুষ বৈষম্য দূরীকরণে পারিবারীক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়ওশিক্ষায় আধুনিকায়ন ঘটানো।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “ধর্ষণ; শিক্ষা ও সংস্কৃতির আধুনিকায়ন-ই ধর্ষণ রোধের হাতিয়ার।

  1. ভালো লেগেছে আলোচনাটি।ধর্ষন
    ভালো লেগেছে আলোচনাটি।ধর্ষন শারিরিক বলপ্রয়োগ।……….একটি ঐতিহাসিক ডিসকোর্সে নারী…কুলিনের পো তোমায় কি বলিব আর,হাটু ঢাকি বস্ত্র দিও, পেট পুরে ভাত। আসলে নারী মানসিকভাবে এখনো দাসী, সেবিকা, চরনাশ্রিতা। সে বিশ্বাস করে স্বামীর পায়ের তলায়ই নারীর বেহেস্তত।।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

58 − = 52