মাত্র তিনজন মানুষ (১)মা-বাবা (২) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (৩) ধর্মীয় শিক্ষক – ই পারেন পৃথিবীটাকে বদলে দিতে।

“ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ অবস্থান করছে Vally of Terrorism হিসাবে। এবং এঅবস্থান থেকে উত্তর করতে পারে মাত্র তিনজন মানুষ (১)মা-বাবা (২) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (৩) ধর্মীয় শিক্ষক। যদি একটি মানব শিশু জম্নের পর পর্যায়ক্রমে তিনটি অবস্থান থেকে প্রকৃত মানুষ তৈরী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন, তাহলে আমাদের ভুখন্ড হিংসা, জঙ্গীমুক্ত স্বর্গ হতে বাধ্য”।



মাত্র তিনজন মানুষ (১)মা-বাবা (২) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (৩) ধর্মীয় শিক্ষক – ই পারেন পৃথিবীটাকে বদলে দিতে।

প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশের নানা জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ফৌজদারী অপরাধের খবর পত্রপত্রিকা ও সোস্যাল মিডিয়াতে দেখা যায়। আর এসকল অপরাধের খবরগুলোর বিশাল অংশ জুড়ে থাকে ইসলামধর্মানুভুতিতে আঘাত কিংবা অবমাননার অজুহাতে ঘটনা সংঘটিত হবার খবর। হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অজুহাতে সংঘঠিত সকল অপরাধের পর বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা, সমালোচনা, টিভি টক শো কিংবা সোস্যাল মিড়িয়ার কিছু কিছু মানুষের মন্তব্য পাওয়া যায় এভাবে – “ইসলাম শান্তির ধর্ম, এটি কাউকে আঘাত করতে বলেনি কিংবা শেখায়নি কিংবা যারা এধরনের অপরাধ করছে এদের সাথে ইসলামের সম্পর্ক নেই” ইত্যাদি ইত্যাদি।। শুধু বাংলাদেশ পৃথিবীর সব জায়গায় ইসলামধর্মাবলম্বী প্রায় সকল স্তরের সাধারণ মানুষগুলোও তাদের ধর্ম বিষয়ে এমন ধারনাই পোষন করে থাকেন। কিন্তু দুভার্গ্য হলো দৃশ্যমান সমাজ ব্যবস্থায় এর প্রতিফলন একদমই নেই। বরং যেখানে যেসব বর্বরতা হচ্ছে তা সম্পূর্ণই ধর্মের নামে করা হচ্ছে এবং এটি শুধু আমাদের দেশের মধ্যে গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধর্মের নামে বর্বরতা চলছে দক্ষিপপূর্ব এশিয়ার পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলছে। এসবই হচেছ একই উদ্দেশ্যে – আর তা হলো সর্বত্র তাদের ধর্ম বা মতাদর্শ, কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা । অন্যদিকে ভিন্নধর্ম কিংবা মতাদর্শধারীদের বা অনুসারীদের নিশ্চিন্ন করা।

ইরাক ও সিরিয়ার কিছু অংশ এবং তুরস্কের কোবানে আইএসআইএস সুন্নী যোদ্ধা (জঙ্গী)রা্ শিয়া, কুর্দি ও ইয়াজাদিদের গলা কেটে গনহত্যা করছে বিশুদ্ধ সুন্নী রাষ্ট্র তথা খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার জন্য। উপমহাদেশের পাকিস্তানে ওহাবীরা মসজিদে বোমা মারে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালিবানরা শরীরাহ আইন ও ইসলামী শাসনের জন্য একই রকম অপরাধ হর হামেশা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আপাততঃ শিয়া-সুন্নী-কাদিয়ানি-ওহাবী-হানাফি ঝামেলা বড় আকারে নেই, যদিও সকল মতবাদের অনুসারীরা বাংলাদেশে আছে। অন্যদিকে হেফাজতের ইসলাম, ওলামালীগ, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন সকলে প্রকাশ্যে ধর্মীয় আবরনে রাজনৈতিক কর্মসূচীর মাধ্যমে সর্বস্তরে একধর্ম মিশনে নেমেছে। আরো আছে তরিকার মাধ্যমে বিপ্লব ঘটানো জন্য দেওয়ানবাগী, কুতুববাগী, সাইদাবাদী্ ও খানকায় শরীফ। এর বাইরে আরো ছিল কিংবা এখনো আছে ইসলামী মিলিট্যান্ট সাবেক জেএমবি, নব্য জেএমবি, আনসারুল্লাহ, এটিবি ইত্যাদি।

আপাততঃ এসকল মতবাদের উগ্র অনুসারীদের লক্ষ্য হলো হিন্দু ও আদিবাসীদের নিমূল করা। মূলতঃ একারনে প্রতিদিনই বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে কোথাও না কোথাও সহিংসতা হয়। তবে ভয়ংকর আশংকার কথা যেদিন এদেশ হতে হিন্দু ও আদিবাসী সম্পূর্ণভাবে নিমূল হবে, সেদিন থেকেই এদেশে শুরু হবে নতুন ধাঁচের সহিংসতা এবং সেটিই হবে মধ্যপ্রাচ্যে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো “ইসলাম-বনাম ইসলাম”। সুতরাং এককথায় বলতে পারি আমরা যে যে ধর্মে কিংবা অবস্থানেই আছি না কেন, আমরা কেহই নিরাপদ নই, যদি না সম্মিলিত ভাবে সকলে এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা না হয়।

ইসলাম রক্ষা ও প্রতিষ্ঠার জন্য একই ধর্মের ভিন্ন ভিন্ন অনুসারী বা গ্রপ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেভাবে তৎপর এবং দেশের যে ত্রাহি ত্রাহি অবস্হা, তাবে কাজটা এতোটা সহজ সাধ্য হবে না। তবে অতি সহজ সাধ্য হতে বাধ্য যদি ভারতে সাবেক রাষ্ট্রপতি সর্বজন শ্রদ্ধেয় এপিজে কালামের চিন্তা কার্যকর করা যায়। তাঁর ভাষায় বলা যায় –

“ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ অবস্থান করছে Vally of Terrorism হিসাবে। এবং এঅবস্থান থেকে উত্তর করতে পারে মাত্র তিনজন মানুষ (১)মা-বাবা (২) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (৩) ধর্মীয় শিক্ষক। যদি একটি মানব শিশু জম্নের পর পর্যায়ক্রমে তিনটি অবস্থান থেকে প্রকৃত মানুষ তৈরী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন, তাহলে আমাদের ভুখন্ড হিংসা, জঙ্গীমুক্ত স্বর্গ হতে বাধ্য”।

এআশাবাদ শ্রদ্ধেয় এপিজে কালাম স্যারের মতো আমরাও করতে পারি। ……চিত্রগুপ্ত, ১৯.১০.২০১৪ইং
======

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

85 + = 93