ম্যানচেস্টার ট্র্যাজিডি: আইসিস্ সমর্থকদের উল্লাস

আর যাই হোক, শিশু হত্যাযজ্ঞের মধ্যে কোন ধরণের ’ঐশ্বরিক পরীক্ষা’ থাকতে পারে না। যা থাকতে পারে তার নাম, মানসিক দৈন্যতা অথবা মূর্খতা।

শোক জানানোর আগে একটু পেছনে ফিরে তাকাতে চাই। ২০০৫ এর ০৭ জুলাই, লন্ডন।
সকাল ৮.৫০ : আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের যাত্রীবাহী তিনটি ট্রেনের ওপর বোমা হামলা
সকাল ৯.৪৭ : ডাবল ডেকার একটি বাসের যাত্রীদের ওপর বোমা হামলা
মারা গেল ১৮ টি দেশের মোট ৫২ জন মানুষ। এই অমানবিক কিন্তু ’ধর্মসমর্থিত’ হত্যাযজ্ঞের খুনী ছিল কারা?
১. মোহাম্মদ সিদ্দিক খান : বাবা-মা পাকিস্তান থেকে ইংল্যান্ডে এসেছিল জীবিকার খোঁজে
২. শেহজাদ তানভীর : বাবা-মা দুজনেই পাকিস্তানী, এরাও আশির দশকে এসেছিল ইংল্যান্ডে
৩. জার্মেইন লিন্ডসে : এর অরিজিন অবশ্য জ্যামাইকা
৪. হাসিব হোসাইন : বাবা-মা পাকিস্তানী, হাসিব হোসাইন হত্যাযজ্ঞের বছর তিনেক আগে হজ্জ্ব পালন করেন পবিত্র মক্কাতে

এই ছিল খুব সংক্ষিপ্ত একটা ’হিস্ট্রি’। কিন্তু এর নির্মমতা, জঘণ্যতা, কুৎসিত কদাকার হিংস্রতাই যে শেষ কথা নয়, তা এখনো যথেষ্ঠ উপলব্ধি করতে পারে নি বৃটিশরা। মানবিকতার খাতিরে অভিবাসীদেরকে মাথায় তুলে রাখতে রাখতে নিজেদের অস্তিত্বের সংকটেই পড়ে যাচ্ছে বৃটিশরা। শুধু তাই নয়, এভাবে চলতে থাকলে আরেকটি লেবানন দেখার প্রতিক্ষায় আমরা থাকতেই পারি।

এবার আসি, গেল সোমবারের ‘ম্যানচেস্টার ট্র্যাজিডিতে’। পরিশ্রমের পয়সা বাঁচিয়ে যান্ত্রিক জীবনের একঘেঁয়েমি থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষ ছুটে গিয়েছিল কনসার্টে। কিন্তু অসভ্য-বর্বর কোন এক জাতি হয়তো সাঙ্গ করে দিয়েছে বেঁচে থাকার সুখ, বেঁচে থাকার আনন্দ। ঈশ্বরের অফুরন্ত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিশ্চুপ আনন্দ অনুভব করে যাচ্ছেন একের পর এক হত্যাযজ্ঞের নির্মমতায়, যেখানে শিশু বাচ্চারাও রক্তাক্ত হয়ে জীবন দিয়ে যাচ্ছে বিনা কারণে। নিষ্ঠুর ঈশ্বরের ইচ্ছা যদি এটাই হয় যে, তার অনুসারিদের ৭২ নারীর সন্ধান দিতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করতে হবে নিরপরাধ সাধারণের, তাহলে সেই নির্মম ঈশ্বরের আবেদন আমার কাছে শূণ্য। একইভাবে যে ঈশ্বর তার অনুসারীদের শিশু বাচ্চাটিকে শত্রুর বুলেট থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসার তাগিদ অনুভব করে না, সে ঈশ্বরের আবেদনও আমার কাছে শূণ্য।

আর যাই হোক, শিশু হত্যাযজ্ঞের মধ্যে কোন ধরণের ’ঐশ্বরিক পরীক্ষা’ থাকতে পারে না। যা থাকতে পারে তার নাম, মানসিক দৈন্যতা অথবা মূর্খতা।

শিশুসহ মোট ২২ জন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। শোক প্রকাশ করছি।

হত্যাযজ্ঞের দায় কেউ স্বীকার করুক বা না করুক আইসিস এর সমর্থকদের উল্লাস দেখে অনুমান করা মোটেও দু:সাধ্য নয় যে, এই ’শান্তির দূতদের’ পরিচয় কী হতে পারে!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

45 + = 55