ম্যানচেস্টার-হামলায় আবার পরাজিত হলো ধর্ম

ধর্মের শত্রু কখনও নাস্তিক নয়। আর নাস্তিকরা ধর্মের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। ধর্মের একমাত্র আদি-আসল শত্রু হলো—এই লোকদেখানো ধার্মিকসম্প্রদায় তথা আস্তিক-ব্যবসায়ীগণ। এরাই পৃথিবীতে ধর্মের সবচেয়ে বড় শত্রু। আজকাল দেশে-দেশে তথা বিশ্বে ইসলামের নামে আত্মস্বীকৃত ধর্মবিরোধী-মানবতাবিরোধী জঙ্গিগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে—এর মূলে ভণ্ডামি। এরা আত্মস্বীকৃত জঙ্গি ও মুসলমান। এরা পৃথিবীতে আজ শুধু একাই বসবাস করতে চায়। আর অন্য ধর্মের সকল মানুষকে হত্যা করতে চায়। এর নাম অধর্ম ও পশুত্ব। আর এরই নাম পাপ ও শয়তানী।


?jadewits_media_id=843651″ width=”500″ />

ম্যানচেস্টার-হামলায় আবার পরাজিত হলো ধর্ম
সাইয়িদ রফিকুল হক

ধর্মের শত্রু কখনও নাস্তিক নয়। আর নাস্তিকরা ধর্মের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। ধর্মের একমাত্র আদি-আসল শত্রু হলো—এই লোকদেখানো ধার্মিকসম্প্রদায় তথা আস্তিক-ব্যবসায়ীগণ। এরাই পৃথিবীতে ধর্মের সবচেয়ে বড় শত্রু। আজকাল দেশে-দেশে তথা বিশ্বে ইসলামের নামে আত্মস্বীকৃত ধর্মবিরোধী-মানবতাবিরোধী জঙ্গিগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে—এর মূলে ভণ্ডামি। এরা আত্মস্বীকৃত জঙ্গি ও মুসলমান। এরা পৃথিবীতে আজ শুধু একাই বসবাস করতে চায়। আর অন্য ধর্মের সকল মানুষকে হত্যা করতে চায়। এর নাম অধর্ম ও পশুত্ব। আর এরই নাম পাপ ও শয়তানী।

একদল মানুষরূপীশয়তান অতিসম্প্রতি ম্যানচেষ্টারে রক্তক্ষয়ী-হামলা করেছে। এতে মানুষ মরেছে। আর মানুষের রক্ত দেখে কেঁদেছে সারাবিশ্বের মানুষ। জয় হয়েছে মানবাত্মার। আর পরাজিত হয়েছে মুসলমান-নামধারী একশ্রেণীর নরপশু।

ম্যানচেষ্টারে হামলা চালিয়েছে ২২ বছর বয়সী লিবীয় বংশোদ্ভূত এক যুবক। এর নাম সালমান আবেদী। সে একটা মুসলমান। এতে কোনো সন্দেহ নাই। আর সে জঙ্গিদের মতো আত্মঘাতীহামলা চালিয়ে মানুষহত্যা করেছে। আর এই পশুটির পক্ষে দায়স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে আইএস। সবখানে আজ কলংকিত হচ্ছে ইসলাম আর মুসলমান। মানুষ এখন ইসলাম আর মুসলমানকে আরও বেশি ঘৃণা করবে। এতে লাভ কার? জঙ্গিপশুগুলো কবে এসব বুঝবে? আসলে, বুঝবে কেমনে? এদের মধ্যে ন্যূনতম মনুষ্যত্বও নাই। জঙ্গিরা এই পৃথিবীর এমনই নিকৃষ্টপশু!

ম্যানচেস্টারে হামলার পর আইএস-মুসলমানদের উল্লাস:

হামলায় মারা গিয়েছে এইরকম অনেক কিশোর-কিশোরী।

এইরকম আরও অনেকে এখনও নিখোঁজ।

মানুষহত্যা করে পশুরা মানুষের মনোবল ভাঙ্গতে পারেনি। তার কয়েকটি দৃষ্টান্ত:

ম্যানচেস্টার-হামলায় মানুষ মরেছে সত্য। আর এতে মানুষের বিবেক আরও জাগ্রত হয়েছে। এতে মানুষ বুঝতে পেরেছে—এই পৃথিবীর শান্তিকামীমানুষের শত্রু কে বা কারা। একবার ভাবুন তো সবাই—একটি নির্ভেজাল কনসার্টে কোনো মানুষ হামলা চালাতে পারে? না, পারে না। আর যার শরীরে বিন্দুমাত্র মানুষের রক্ত আছে সে কখনও এমন জঘন্য অপকর্ম করতে পারে না। মানুষ কীভাবে মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে? কোনো মানুষ কখনও মানুষের বিরুদ্ধে আত্মঘাতী আর নৃশংস হয়ে উঠতে পারে না। তাই, এই পৃথিবীতে মানুষের বিরুদ্ধে চিরদিন নৃশংসভাবে আক্রমণ চালিয়েছে বন্য-শূকর, হিংস্র-বাঘ, রক্তলোলুপ-হায়েনা, আর নির্মম-নেকড়ে। কিন্তু এই আধুনিকযুগে মানুষের উপর হামলা চালিয়েছে মানুষ-নামের নরপশু—একটা মুসলমান!

মানুষকে হত্যা করে কিংবা নির্যাতন করে কিংবা আঘাত করে ধর্মপালন কিংবা ধর্মপ্রচার করার কথা কোথায় লেখা আছে? মানুষকে যারা মানুষ হিসাবে আপন ভাবতে পারে না—তারা আসলেই পশু। এই পশুদের মানবতাবিরোধী-হামলায় ধর্ম আবারও পরাজিত হলো। মানুষ এখন আগের চেয়ে হামলাকারীদের ধর্মকে আরও বেশি ঘৃণা করবে। আর জঙ্গিবিরোধী সম্মিলিত মানুষের ঘৃণায় একদিন এই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে জঙ্গিদের ধর্ম নামক অধর্ম যন্ত্রটি। এতে ধর্মের জয় হবে নাকি পরাজয়?

এবার একটু ভেবেচিন্তে জবাব দিয়ো পশুরা।

পৃথিবীর যেকোনো দেশে বা প্রান্তে যেকোনো মুসলমান-জঙ্গি ধরা পড়লে আমাদের দেশের একশ্রেণীর ভণ্ডসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশের মুসলমান-নামধারীরা বলে থাকে—এরা মুসলমান নয়—এরা জঙ্গি। আসলে, যারা এসব বলে তারাই চরম মিথ্যাবাদী ও মোনাফেক। আর সবসময় বাস্তবতার নিরিখে প্রকৃত সত্য হলো—হামলাকারীরা মুসলমান। ম্যানচেস্টারে হামলাকারীর নাম সালমান আবেদী। সেও একটা মুসলমান। মোনাফেকশ্রেণীটি জঙ্গিদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য এসব টালবাহানা করে থাকে। এরা কখনও স্বীকার করে না যে, এই মুসলমানদের একটি অংশ আজ জঙ্গি হয়ে উঠেছে। এটিই ধ্রুবসত্য আর বাস্তবতা। এদের চেহারা বিশ্বমানুষ আজ চিনতে পারছে। সালমানদের এবার আড়াল করা যাবে না। আর ‘শাক দিয়ে কখনও মাছ ঢাকা’ যায় না।

জয় হোক মানুষের। আর চিরতরে ধ্বংস হোক মুসলমান-নামধারী সকল জঙ্গিপশু।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৪/০৫/২০১৭

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ম্যানচেস্টার-হামলায় আবার পরাজিত হলো ধর্ম

  1. এই যে সালমান আবেদি , সে
    এই যে সালমান আবেদি , সে কিন্তু ইসলামের বিধান মেনেই আক্রমন করেছে। কিন্তু আপনি বলছেন ভিন্ন কথা। আপনি কি মুনাফিক ?

    1. সালমান আবেদী মুসলমান। আর সে
      সালমান আবেদী মুসলমান। আর সে জঙ্গি। আর সে অপরাধী ও পাপী। এটি একজন মুসলমান হিসাবে আমি স্বীকার করছি ও তাকে ধিক্কার দিচ্ছি। তাই বলে দুনিয়ার সব মুসলমানই জঙ্গি নয়। যারা জঙ্গি তারা মুসলিম হলেও অপরাধী ও পাপী। তারা মানুষ ও মানবতার শত্রু।

      আমি মুসলিম। ইসলামের নামে যারা মুসলমান হয়েও জঙ্গিপনা করছে আমি তাদের আড়াল করতে চাইছি না। তাই, আমার মোনাফেক হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

      ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

46 + = 48