সেক্সি টপিকের অভাবে কলাম লিখতে পারছি না… হেল্প প্লিজ

মাঝে মাঝে এমন হয়, লেখবার মত টপিক পাওয়া যায় না। অনেক ঘটনাই আছে, আবার কোন ঘটনাই নেই। আমি মিন, সবগুলো ঘটনার মাঝে এমন কোন ঘটনাকে পিক করা যাচ্ছে না, যা সম্পর্কে সবাই আগ্রহী। পত্রিকার ভাষায় যাকে বলে, সেক্সি টপিক। বলুন, তেমন ঘটনা একটাও আছে? যেসব ঘটনা এখন প্রথম পাতায় আছে, সেসব ‘চলে’ টাইপ। নেহাত কাজ না থাকলে চোখ বোলানো যায়।

বনানীর কথাই ধরুন, এখন আর বাজার আছে? হ্যা, কিছুদিনে আগেও হিট ছিল, কিন্তু এখন? যা আগ্রহ তা ঐ নাঈমকে নিয়ে। কোথায় কোথায় মডেল সাপ্লাই দিত, তা নিয়ে অনেকে উৎসাহী। উৎসাহটার কারণ কিছুটা ইরোটিক, কিছুটা ‘কে কে ফাঁসে’ তা জানবার কৌতূহল। ‘পুলিশের কাছে নাকি অনেক কিছু বলেছে’ এধরনের হেডলাইন দেয়া নিউজ আইটেম আসছে, তবে ভেতরে কিছু নেই। এধরনের এক্সপেক্টেশান জাগানো শিরোনামে যে আসলে কিছু থাকে না, ভুক্তভুগী পাঠক মাত্রই তা জানে। তথ্যের এই ঘাটতির কারণ সম্ভবতঃ ম্যানেজ সিস্টেম কাজ করছে, তাই সেসব খবর এখনও লিক হয়নি। ওদিকে আপন জুয়েলার্স আর বাকী দুই রেপিস্ট নিয়ে আলোচনা কমে এসেছে। পেছনের পাতায় যাব যাব করছে। আমরা কলামিস্টরাও ওনিয়ে আর মাথা ঘামাচ্ছি না।

সেই নির্যাতিতাদের কি হল? তা জানবার খুব একটা শখ আমাদের কখনই ছিল না,এখনও নেই। আগ্রহ ছিল কাহিনীর ডিটেলসে, তা পেয়ে গেছি। আরও ডিটেলস বলতে আগ্রহী হলে, আবার যাব, নয়তো, টা টা। যেহেতু বাড়ীর মালিক এমন মিডিয়া কাভারেজ চাইছেন না, তাই তাঁদের একজন বাড়ী ছাড়বার নোটিশ পেয়েছে। এনিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা নেই। আসলে, উপায় নেই। এগুলো পাবলিক খাবে না। আর এদিকে নারীদ্বয়ের জন্য সহানুভূতির জোয়ারেও বেশ বড়সড় ভাটা দেখা দিয়েছে। নতুন আরও কিছু রেপ চলে আসায়, রেপের যে বাজার ভ্যালু ছিল, সেখানে দর পড়ে গেছে। সো, রেপ লস্ট ইটস সেক্সিনেস। সো, এটাও টপিক করা যাচ্ছে না।

দ্বিতীয় যে টপিকে কিছুটা সেক্সি ভাব আছে তা হচ্ছে ‘চিকিৎসক’ বা ‘ভুল চিকিৎসা’। ঐ সেন্ট্রাল হাসপাতালের ঘটনাটা, আর কি। তবে জেল্লা কমে এসেছে। কয়েকদিন আগেও বেশ রমরমা অবস্থা ছিল। তবে এখন আর নেই। ইউজুয়ালি ডাক্তার পেটানো টাইপ খবর, দুদিনের মেহমান। সেই সঙ্গে চলা আলোচনাগুলোও অনেকটা একঘেয়ে। এখন বাজার পায় না। নেহাত ব্যাপারটায় একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক জড়িত, তাই একটু আলোচনা হচ্ছে।

সে ব্যাপারে আপডেট হচ্ছে, অধ্যাপক সাহেব জামিন পেয়ে গেছেন। তিনি যে ভুল চিকিৎসা দেননি, টক শো তে এমন বক্তব্য দিতে দিতে তিনি প্রায় সবাইকেই কনভিন্সড করে ফেলেছেন। সহানুভূতি এখন বেশ খানিকটা উনার দিকে। টক শোগুলো দেখবার পরে জুনিওর ডাক্তারদের অনুভুতি হয়েছিল বেশ মিশ্র। তিনি বা চিকিৎসক নেতারা কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিয়ে তেমন কোন বক্তব্য রাখেননি। বরং চিকিৎসক নেতারা প্রথমদিকে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকের মান নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেন। এবং যথারীতি বিপাকে পড়েন। এই মুহূর্তে, চিকিৎসকের মানকে প্রশ্নের মুখে ফেলা ঠিক হল কি না, তা নিয়ে দেখলাম অনেক চিকিৎসকই বেশ নাখোশ। ফলাফল? পরের টক শো গুলোতে গলার স্বরে পরিবর্তন। কিছুটা আক্রমণাত্মক।

ওদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করতে পারছে না, কি করবে। প্রথমে ‘ভুল চিকিৎসা’ লাইনে আগাবে ভেবেছিল, পরে যখন দেখল চিকিৎসা ভুল হয়নি, তখন লাইন পাল্টেছে। এখন লাইন হচ্ছে, ‘চিকিৎসায় অবহেলা’। প্রেস ব্রিফিংটা পড়লাম। অবহেলা বলতে যা বোঝানো হয়েছে, তা হচ্ছে কখন ভর্তি হয়েছে, আর কতক্ষণ পরে ডাক্তার এসেছে। কতক্ষণ পরে দ্বিতীয়বার এসেছে, কখন রক্ত পরীক্ষা করতে দিয়েছে এসব। আইসিইউর কনসালটেন্টের বক্তব্য আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বক্তব্যের ভিন্নতাকে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেটার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ইন শর্ট, আগে যেমন তাঁরা সিওর ছিল, ভুল চিকিৎসা হয়েছে, এবার তাঁদের গলার স্বরে সেই ব্যাপারটা নেই। এবার যা আছে, তা হচ্ছে আকুতি, ‘আপনারাই বিচার করুন সেদিন কি হয়েছিল।‘

প্রতিটা কাহিনীতে পর্দার সামনে কিছু নাটক হয়, কিছুটা হয় পর্দার পেছনে। এই ইস্যুতেও সম্ভবতঃ তেমন কিছু খেলা চলছে। শোনা কথা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পিছু হটতে চাইছে। ওরা কেস উইথড্র করবে এবং চিকিৎসকরাও আর কোন পালটা কেস করবেন না, এমন একটা মীমাংসার চেষ্টা চলছে। চিকিৎসকরা এমন প্রচেষ্টায় সাড়া দিতে রাজী না। এ হচ্ছে পর্দার সামনের খবর। পেছনের খেলা কিছুটা ভিন্ন। অধ্যাপক সাহেব বেশ স্বনামধন্য। প্রধয়ানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক। সো, উনাকে হ্যারাস করা ব্যাপারটা মনে হয় না প্রধানমন্ত্রী খুব ভাল চোখে দেখেছেন, স্পেশালি যখন তাঁর ভুল আবিস্কার হয়নি। ওদিকে অন্যপক্ষকেও রাগানো যাচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলে কথা। তার ওপর তাঁদের একজন শিক্ষার্থী মারা গেছে। ইমোশান এখন গগণচুম্বী। আবেগের বশে যা ই করে থাকুক না কেন, একারণে তাঁদের যদি এরেস্ট করা হয়, তবে আবার আগুন জ্বলবে। সো, কাহিনী বেশ জটিল আকার নিয়েছে।

যেহেতু এখানে রাজনীতি চলে এসেছে, সো আশা করা যায় সমঝোতা একটা হবে। কাকে খেপানো কম ক্ষতিকর, সেই হিসেব নিকেশ এখন চলছে। চিকিৎসকরা একটা ‘প্রাইভেট প্র্যাকটিসিও হরতাল’ ডেকে নিজেদের শক্তি দেখাবার চেষ্টা করেছে। অন্যপক্ষের সেটা দরকার নাই, ওদের শক্তি কমবেশি সবাই জানে। খেলা এখন রাজনৈতিক নেতাদের হাতে। কোন পক্ষকে নমনীয় হওয়ার জন্য ফোন করা হবে, সেটাই দেখার বিষয়। ‘উইন উইন’ ফর্মুলা পাওয়া গেলে তো ভালোই, না পাওয়া গেলে? যদি একজনকে পেছাতে হয়, তবে সেটা কোন পক্ষকে পেছাতে হবে? মিলিওন ডলার কোয়েসচেন। সেটা আগ্রহের একটা ব্যাপার, বাট রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করবার মত কিছু না।

ট্রাম্পের সৌদি সফর? ওটা পাতানো খেলা। কিংবা বলা যায়, রিহার্সেল করা নাটকের স্বার্থক মঞ্চায়ন। চুক্তি যে হবে, সেটা জানা ছিল। সৌদিদের পক্ষে গান গাইবেন, সেটাও জানা। ইরানের নামে নালিশ করবেন, সেটা নিয়ে সম্ভাবনা ছিল, তবে করেই ফেলবেন, সেটাতে অনেকে বেশ অবাক হয়েছেন। এই সফরের সবচেয়ে বড় খবর সম্ভবতঃ মেলানিয়া বেগম, ট্রাম্প সাহেবকে তাঁর হাত ধরতে দেননি। মাথায় কাপড় না দেয়া, এখন আর খবর না। মার্কেল, টেরেসা মে সবাই এই কাজ করে, ব্যাপারটাকে স্বাভাবিক করে ফেলেছেন। ‘ক্ষমতা থাকলে, তাঁদের জন্য মাথায় কাপড় দেয়ায় ছাড় আছে’। ‘নিয়ম শুধু গরিবের জন্য’র সৌদি ভার্সান আর কি। এরপরে ঘটল ভ্যাটিক্যান সিটি ভ্রমণ। এবারে মাথায় ঘোমটা। ‘ঠেলায় পড়লে বাঘও ঘাস খায়’য়ের পশ্চিমা ভার্সান। এনিওয়ে, এটাও তেমন সেক্সি নিউজ না। হালকা টিপ্পনী কাটা যায়, এই যা। নট হালুম বলে ঝাঁপিয়ে পড়া টাইপ।

ম্যানচেস্টার? ঐ খবরে চোখে পড়বার মত ব্যাপার একটাই, বিশেষণটা… ‘বিগেস্ট’। ব্রিটেনে সাম্প্রতিক যত আঘাত হয়েছে, সেসবের মধ্যে, ‘বিগেস্ট’। বাকী সব কিছুই গতানুগতিক। সেই আইসিসের প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জনৈক চ্যাঙরা টাইপ ছেলে আত্মঘাতী বোমারু হওয়া। এমন খবর তো এখন ডালভাত। আর ইউরোপে কোন নির্বাচনের আগে এমন একটা হামলাও বোধ হয় এখন রুটিন ওয়ার্ক হতে চলেছে। এরপরে চলবে, কিছু একঘেয়ে আলোচনা। ইমিগ্র্যান্ট ইস্যু, দক্ষিণ পন্থী মানসিকতার উত্থান। অ্যানালাইসিসের পরের ধাপে আসবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা, ওয়ার অন টেরর, এখন কি করণীয় ইত্যাদি ইত্যাদি। সাথে থাকবে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কিঞ্চিত আলোচনা। একদল বলবে, ‘শান্তির ধর্ম’ অন্যদল বলবে ‘ইসলামই সব সন্ত্রাসের মূল’। একদিকে কাছে ধর্মীয় মোল্লা আর অন্যদিকে আছে নাস্তিক মতান্তরে সেকুলার মোল্লা। কারো বক্তব্যেই নতুন কিছু নেই, যুগ যুগ ধরে বলে আসা কথাগুলোই একটু এদিক সেদিক করে বলা। থোর বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোর। বোরিং।

এখন বলুন, কলাম যে লিখব, কি নিয়ে লিখবে? তেমন সেক্সি টপিক কোথায়? গরম বা ক্লাইমেট চেঞ্জ? দূর, কেউ শুনবে না। রামপাল বা লোড শেডিং? ও আমি বলার আগেই পাবলিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, ‘এ লোড শেডিং ইচ্ছাকৃত’। কাশেম সাহেবের আর খবর নাই। ভিশান ২০৩০? বিএনপি নির্বাচনে আসতে চাইছে? ‘কোন এমপির দ্বায়িত্ব আমি আর নিব না?’কিংবা ‘কাউয়া লীগ’? দ্যাট ইজ, অচিরেই নির্বাচন হচ্ছে টাইপ স্পেকুলেশান, এই তো? ওটা ডেফিনিট তথ্য হিসেবে না আসলে, নিউজ হিসেবে হিট করবে না। ভারত নির্বাচনে সাহায্য করতে চাইছে? ওহ, কাম অন। গিভ মি অ্যা ব্রেক ম্যান। নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন, এসব এখন সবচেয়ে ফ্লপ টপিক। এসব নিয়ে কলাম লিখলে কে পড়বে? আমিও তো পড়ব না।
সো? ‘বর্তমানে বাজারে কোন সেক্সি নিউজ নেই’ উপপাদ্যটি প্রমাণিত। টা টা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “সেক্সি টপিকের অভাবে কলাম লিখতে পারছি না… হেল্প প্লিজ

  1. কিন্তু সানি ভাই, আপনার প্রতি
    কিন্তু সানি ভাই, আপনার প্রতি লাইনই তো দারুন সেক্সি …… ইস্টিশন ব্লগ জুড়ে এখন খালি সেক্স আর সেক্স …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 8 =