সালমান আবেদী কেন মানচেষ্টারে কনসার্টে হামলা করল ?

ইসলামে খুব পরিস্কারভাবে অমুসলিম ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ও তাদের ওপর কঠিন আঘাত হানার বিধান দেয়া আছে। ইসলামে নাচ ও গান কঠিনভাবেই হারাম। সুতরাং উক্ত কনসার্টে যারা গেছিল তাদের প্রায় সবাই ছিল অমুসলিম তথা কাফের। আর যদি কিছু মুসলমান ঢুকেও থাকে , তারা ইসলামের বিধান অমান্য করেই সেখানে গেছে। আর তাই তারা হলো আসলে মুনাফিক। সালমান আবেদী কনসার্ট লক্ষ্য করে এ আক্রমন চালায় এই উদ্দেশ্যে যে তার আঘাতে যেন কোন খাটি মুমিন নিহত না হয়। পরে যেন কেউ অভিযোগ করতে না পারে যে , তাদের আক্রমনে মুসলমানরাও নিহত হয় ও একারনে এই জিহাদ ইসলাম সম্মত নয়।


ইসলামে খুব পরিস্কারভাবে অমুসলিম ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ও তাদের ওপর কঠিন আঘাত হানার বিধান দেয়া আছে। ইসলামে নাচ ও গান কঠিনভাবেই হারাম। সুতরাং উক্ত কনসার্টে যারা গেছিল তাদের প্রায় সবাই ছিল অমুসলিম তথা কাফের। আর যদি কিছু মুসলমান ঢুকেও থাকে , তারা ইসলামের বিধান অমান্য করেই সেখানে গেছে। আর তাই তারা হলো আসলে মুনাফিক। সালমান আবেদী কনসার্ট লক্ষ্য করে এ আক্রমন চালায় এই উদ্দেশ্যে যে তার আঘাতে যেন কোন খাটি মুমিন নিহত না হয়। পরে যেন কেউ অভিযোগ করতে না পারে যে , তাদের আক্রমনে মুসলমানরাও নিহত হয় ও একারনে এই জিহাদ ইসলাম সম্মত নয়।

সুরা নিসা – ৪: ৯৫: গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।

সালমান আবেদি কোরানের উক্ত ৪:৯৫ আয়াতের বিধান অনুসরন করে নিজের জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করার জন্যেই আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে। এতদিন সে বৃটিশ সমাজে নিরীহ মানুষের মত লুকিয়ে ছিল। কোন মুসলমান যখন অমুসলিম সমাজে বাস করবে , কোরান বলেছে , সে দরকারে নিরীহ মানুষের মত লুকিয়ে থাকবে , আর সুযোগ খুজতে থাকবে , কখন অমুসলিমদের ওপর আক্রমন করা যায়। যেমন —

সুরা আল ইমরান- ৩: ২৮: মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।

অর্থাৎ অমুসলিম সমাজে বাস করলেও কোন মুসলমান অমুসলিমকে বন্ধু রূপে গ্রহন করতে পারবে না , আর সতর্ক থাকবে যাতে সে বিপদে না পড়ে। অর্থাৎ সে উপরে ভাব করবে বন্ধুত্বের , কিন্তু ভিতরে থাকবে তার অন্য উদ্দেশ্য অর্থাৎ ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠা। এমন কি অমুসলিম সমাজে যদি এমন আশংকা দেখা যায় , যে সে বিপদে পড়তে পারে , তখন দরকারে সে প্রকাশ্যে এমনও বলতে পারে যে , সে ইসলাম ত্যাগ করেছে , সেটা আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে কিন্তু তার অন্তরে থাকবে অটুট বিশ্বাস , সেটা কোরানেই বলেছে —-

সুরা নাহল- ১৬: ১০৬: যার উপর জবরদস্তি করা হয় এবং তার অন্তর বিশ্বাসে অটল থাকে সে ব্যতীত যে কেউ বিশ্বাসী হওয়ার পর আল্লাহতে অবিশ্বাসী হয় এবং কুফরীর জন্য মন উম্মুক্ত করে দেয় তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহর গযব এবং তাদের জন্যে রয়েছে শাস্তি।

কোরানের এই বিধানটাই হলো সেই বিখ্যাত তাকিয়া। অর্থাৎ দরকারে মিথ্যা কথা বলতে হবে। ঠিক এই তাকিয়াই অনুশীলন করে যাচ্ছে দুনিয়াতে বর্তমানে মুসলমানরা। ইসলাম যদিও একটা যুদ্ধবাজ ধর্ম, কিন্তু মানুষের ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে , সারাক্ষন প্রচার করে যাচ্ছে – ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম।

পশ্চিমা সমাজ উদার সমাজ, কে কোন ধর্ম পালন করল সেটা গুরুত্বপূর্ন না। সালমান আবেদী তাই নির্দ্বিধায় বৃটিশ সমাজে বাস করে , দিনের পর দিন বসে পরিকল্পনা করেছে কিভাবে কাফের তথা অমুসলিমদেরকে হত্যা করা যায়। একই সাথে তাদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করে , বৃটেনে ইসলামের পতাকা ওড়ান যায়। জিহাদের সেই বানী গুলো সে পেয়েছে নিচের আয়াত ও হাদিস থেকে —

সুরা তাওবা -৯:৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তাওবা-৯:২৯:তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

সুরা তাওবা-৯:৭৩:হে নবী, কাফের ও মুনাফেকদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং তাদের উপর কঠোরভাবে আঘাত করুন। তাদের ঠিকানা হল দোযখ এবং তাহল নিকৃষ্ট ঠিকানা।

কিতাবুল ঈমান অধ্যায় ::সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩৩
আবু গাসসান-আল মিসমাঈ মালিক ইবন আবদুল ওয়াহিদ (র)……আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, লোকদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল এবং নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় । যদি এগুলো করে তাহলে আমা থেকে তারা জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারন ছাড়া । আর তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

জিহাদ অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে ভীতির সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে।

উপরিউক্ত আয়াত ও বিধান হলো নবী মুহা্ম্মদের জীবনের সর্বশেষ বিধান। সুরা তাওবা নাজিল হয় মুহাম্মদের মারা যাওয়ার কিছু আগে আর এই বিধানই সর্বশেষ বিধান। এই বিধান মেনে চলা সকল মুমিনের জন্যে আবশ্যক। কোন রকম ওজর অজুহাত চলবে না। কারন কোরান বলেছে —

সুরা নিসা-৪:৫৯:হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।
সুরা নিসা-৪:৬৫:অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।

জিহাদ অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৭৩
আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (র)…………উমর ইব্ন উবায়দুল্লাহ (র)-এরাযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব আবূন নাযর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইব্ন আবূ আওফা (রা) তাঁকে লিখেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত।

এখন কোরান ও নবী মুহাম্মদ বলেছে- অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে যতক্ষন না তারা ইসলাম গ্রহন করে , দরকারে তাদেরকে হত্যা করতে হবে , তাদের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের জন্যে। আর এসব করলেই দুনিয়াতে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা হবে ও মরার পর জান্নাতে যাওয়া সুনিশ্চিত করা যাবে। আর এ বিষয়ে কোরানের বিধান ও মুহাম্মদের বিধানই চুড়ান্ত। তাহলে সালমান আবেদী কেন কনসার্টে হামলা করল ?

ইসলামে নাচ গান কঠিনভাবেই হারাম। কনসার্টে নাচ ও গান হচ্ছিল। সুতরাং সাধারনভাবে সেখানে অমুসলিম থাকবে প্রায় সবাই। আর যদি তাদের মধ্যে কিছু মুসলমান থাকেও , তারা বস্তুত: মুসলমান না। কারন তারা ইসলামী বিধান অমান্য করে সেখানে গেছে , আর তাই তারা হলো বস্তুত: মুনাফিক। সুরা তাওবার ৯:৭৩ আয়াতে অমুসলিম ও মুনাফিক উভয়ের উপর কঠিন আঘাত হানার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খাটি মুমিন সালমান আবেদি তাই তার আঘাতে যাতে কোন মুমিন মারা না যায় , সেটা নিশ্চিত করতেই উক্ত কনসার্টে হামলা চালিয়েছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “সালমান আবেদী কেন মানচেষ্টারে কনসার্টে হামলা করল ?

  1. খুব সুন্দর এবং সহজ করে
    খুব সুন্দর এবং সহজ করে লিখেছেন. উদাহরণ গুলো অসাধারণ. কোরান এর কলাম গুলো দারুন উপলব্ধি করেছেন লোকজন সচেতন হোক আপনি সাবধানে থাকুন এই কামনা করি.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 5