সাঈদী এখনও যাদের কাছে পীর তাদের কাছে সাধারণ কিছু তথ্য তুলে ধরি

গণজাগরণের সময় আমারা কর্মসূচী করতাম পিজির নিচের মার্কেটের সামনের রাস্তায়। আমরা অল্প কয়েক সেখানে কর্মসূচী করতাম, নিজেদের মতো এবং মঞ্চের মতো। আমরা অনেক হয়ে গিয়ে ছিলাম। দেখতাম কয়েক জন নিজ দায়িত্বে এসে রাস্তা-টাস্তা ঝাড়ু দিত। দড়ি-টড়ি বাঁধতো। এর ভিতর মোটা সোটা একজন ছিল কম দামী শার্ট প্যান্ট পরা। হাতে তাবিজ। নাম জানতাম না, পেশাও না, পরে দেখেছি তিনি পানি বিক্রি করেন রাস্তায়। আমাদের সাথে রাত আট টা-নয় টা পর্যন্ত থেকে চলে যেতেন আবার পর দিন দুইটায় হাজির। মাঝে মাঝে আমাদের ১০/১২ বোতল পানি দিতেন। একদিনের কথা মনে আছে সে দিন তিনি আমাদের মধ্যে ৮-১০ ডজন মাম পানি দিয়ে ছিলেন। তার পেশা জানার পর সঙ্গত কারণে তার কাছ থেকে পানি নিতাম না েএবং তিনি জানতেন না যে আমি তার পেশা জানি। এক দুপুরে অলস সময়ে তিনি ( প্রায় কথা বলতাম) আমাকে বললেন ভাই একটা কথা ছিল।
– বলেন।
– একজনের ফাঁসি না হইলে খুব ভালো হইতো।
আমি বেশ অবাক হলাম। কারণ রেজাকারের বিচারের বিষয়ে এ ভদ্রলোকের আবেগ ছিল আমাদের মতোই সরল ও গভীর।
– কার?
– সাঈদী সাবের।
– কেন? অনেক কষ্টে মাথা ঠান্ডা রেখে জিজ্ঞাসা করলাম।
– উনি আলেম মানুষ। ধর্মের কথা বলেন। হয়ত কিছু খারাপ-টারাপ করছেন। তারে মাফ দেওয়া যায় না?
শেষ বাক্যে ভদ্র লোকের এক ধরনের আর্তি ছিল। আমি বুঝি এটা ধার্মিকের ব্যাক্তিগত আর্তি, আত্নসমর্পন ধর্মীয় গুরুর প্রতি। আমি তাকে খুব সহজেই সাঈদীর বিষয়টি খোলসা করে বুঝাতে পারছিলাম।

সাঈদী অনেকের কাছেই “পীর”। সাঈদী এখনও যাদের কাছে পীর তাদের কাছে সাধারণ কিছু তথ্য তুলে ধরি। দেখেন আপনার একটু হলেও সন্দেহ জাগে কিনা। যদি না জাগে ধরে নিতে পারেন কোরানের এই আয়াতটি আপনার জন্যই, আপনি দোযখগামী – আমি তাদের অন্তরের কপাট লাগিয়ে দিয়েছি। সেখানে কখনও আলো প্রবেশ করবে না।

* সাঈদীর বয়স ৭১ সালে ১০ বছর হলে তার ছেলে ২০১২ তে কি করে ৪২/৪৩ বছর বয়সে মারা গেল। ১১ বছরে বাচ্চা হওয়া কি সম্ভব?!! ইসলামে মিথ্যাকে কঠিন ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাঈদী মিথ্যাচার করলো কেন?

* সাঈদী জাহানারা ঈমামের নাম বিকৃত করে ডাকতো জাহান্নামের ঈমাম। সাঈদীর বিচারের শুরুতে ৭১ এ সাঈদীর প্রচলিত নাম ধরে (সম্ভবত দেলু রাজাকার) ডাকলে সাঈদী সূরা হূজরাতের আয়াত বলে এর প্রতিবাদ করে। সুরা হূজরাতে কারো নাম বিকৃত করাকে অপরাধ হিসাবে বলা হয়েছে। সাঈদী কি ভাবে নিজে আরেক জনের নাম বিকৃত করে? নিশ্চয় জানেন এ ধরনের আচরনকেই ইসলামে মুনাফেক বলা হয়েছে।

* সাঈদীর ওয়াজের বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে নারী বিষয়ক। বোরখা পড়ার জন্য সাঈদীর নসিহতগুলো জানেন। সেই সাঈদী আরেক জনের বৌয়ের সাথে ফোনে রগরগে আলাপ করে। ভাবেন। হিসাবেও এরাও মুনাফেক।

* ইসলামের ভুল ও বিকৃত ব্যাখা দেওয়ার কারণে কাতারে সাঈদীকে নিষিদ্ধ করা হয়। কাতারের আলেমরা কি আওয়ামী লীগ?

* নবী যেখানে সব ধর্মকেই রাষ্ট্রে সমান অধিকার দিয়ে গেছেন সেখানে সাঈদী অন্য ধর্ম বিদ্বেষী কেন? রাধা চূড়া, কৃষ্ণচূড়ার নাম সে পরিবর্তন করতে চেয়ে ছিল হিন্দুয়ানী নাম বলে। কারে মানবেন সাঈদী নাকি নবী মো: (সা:) ?

* সাঈদী ওয়াজের বয়ান অনুযায়ী পেঙ্গুইন পানিতেও ডুবাইতে পারে আবার আকাশে উড়তে পারে। সে নিজে দেখছে। পেঙ্গুইন উড়তে পারে না। তাহলে আপনাদের সাঈদী কেন মিথ্যা কথা বলল?! আরও আছে তার কথা অনূযায়ী পেঙ্গুইন নব্বই দিন ডিমে তা দেয়। নেটে যখন আছেন ঘেটে দেখেন ক’দিন লাগে। আরও আছে সে বলছে মেয়ে পেঙ্গুইন নব্বই দিন ডিমের উপরে দাঁড়াইয়া তা দেয় স্বামী মাছ এনে খাওয়ায়। ডিম এবং বাচ্চার বিষয় স্বামী এবং স্ত্রী সমান ভাবেই যত্ন নেয়।তাহলে আপনাদের সাঈদী কেন মিথ্যা কথা বলল?

* ইসলামে শালীণ ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেখানে সাঈদীর ওয়াজের ভাষা- বেপর্দা নারীর বুকের ওপর দুই নোকতা। কপালের ওপর এক নোকতা। আর নাভীর ওপর এক নোকতা। এসবে অশ্লীলতার কথা বাদই দিলাম। ইসলাম অবমাননা হয় নাই? নারীদের শরীর কি আরবী হরফ যে সেখানে নোকতা থাকবে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “সাঈদী এখনও যাদের কাছে পীর তাদের কাছে সাধারণ কিছু তথ্য তুলে ধরি

  1. দেউল্লা রাজাকার চান্দে গেছিল,
    দেউল্লা রাজাকার চান্দে গেছিল, তারপর চান্দের বুড়ি পোয়াতি ওইছে |জামাতীরা চান্দে ইসলামী হাসপাতাল খোলছে|নাইলে বুড়ির বাচ্চা অইব কেমনে ?

  2. সাঈদী সম্পর্কে যা কিছু বকে
    সাঈদী সম্পর্কে যা কিছু বকে গেলেন – সবই শোনা কথা। একটারও কোন বাস্তব প্রমাণ নেই। সাঈদীকে যারা চেনে বা সাঈদীর ওয়াজ যারা নিয়মিত শুনেছে, তারা কেউ আপনার কথা বিশ্বাস করবেনা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

43 − 42 =