শ্যামলকান্তির বিরুদ্ধে করা ঘুষের মামলা মিথ্যে, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক


ঘটনা ও বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় শ্যামলকান্তির বিরুদ্ধে আনীত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ মিথ্যে, বানোয়াট, হয়রানীমূলক ও ষড়যন্ত্রের অংশ। প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যে তাঁকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। শ্যামলকান্তির অবিলম্বে জামিন দাবী করছি এবং ঘুষ গ্রহণের মিথ্যে অভিযোগটি ডিসচার্জড করে তাঁকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। সেই সাথে ঘুষ দিতে চাওয়া ও মিথ্যে মামলা করার জন্য অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হোক।

ঘটনাঃ ১

১৩ মে ২০১৬ তারিখে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে শ্যামল কান্তির স্কুল বন্দর পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে তাকে কান ধরিয়ে ওঠবস করান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

ঘটনাঃ ২

শ্যামলকান্তিকে লাঞ্ছিত করার দুই মাস পর ২৭ জুলাই ২০১৬ নারায়ণগঞ্জ আদালতে তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে শুনানি শেষে দুটি অভিযোগ নাকচ করেন বিচারক। আর শ্যামলের স্কুলের শিক্ষিকার অভিযোগটি আমলে নিয়ে তার তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়।

ওই শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বরে তার চাকরি এমপিওভুক্ত করিয়ে দেয়ার কথা বলে শ্যামল কান্তি দুই বারে তার কাছ থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।

ঘটনাঃ ৩

তদন্তকারী কর্মকর্তা বন্দর থানার পরিদর্শক(তদন্ত) হারুন অর রশিদ গত ১৭ এপ্রিল২০১৭ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে নারাণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত ২৪ মে২০১৭ সকালে শ্যামলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এরপর বিকালে এই শিক্ষক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঘটনাঃ ৪

হাইকোর্টের নির্দেশে শ্যামলকান্তির উপর কৃত নির্যাতনের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলাম ধর্ম বা আল্লাহকে নিয়ে শ্যামল কান্তির কটূক্তি করার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সাংসদ সেলিম ওসমানের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।

এ বিষয়ে সাংসদ সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয় আদালতের নির্দেশে। আগামী ৪ জুলাই২০১৭ ওই মামলায় ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন রয়েছে।

ঘটনাঃ ৫

ওই ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে মামলা হওয়ার পর একজন পুলিশ কর্মকর্তা শ্যামলকান্তির পরিবারকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী সবিতা হালদার।

তিনি বলেন, ‘বন্দর থানার এস আই মোখলেছুর রহমান আমাদেরকে সাংসদের সঙ্গে মিলে যাওয়ার জন্য বার বার চাপ দিয়েছেন। ওই এস আই বলেছে, সাংসদ আপনাদেরকে ৫০ লাখ টাকা দিয়ে দেবে আপনারা নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে যান। কিন্তু আমার স্বামী বলেছেন আমি কেন নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে যাব।’

উপরের ঘটনাগুলোর তারিখ এবং বিরবরণ ভাল করে লক্ষ্য করলে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার ধরা পড়ে –

প্রথমতঃ কথিত ঘুষ প্রদানের তারিখ থেকে হিসেবে করলে প্রায় দুই বছর পর উল্লেখিত শিক্ষিকা আদালতে অভিযোগ করছেন। এতো সময় কেনো নিলেন সেটা একটা প্রশ্ন।

দ্বিতীয়তঃ ঘুষের অভিযোগ এনেছেন তখন, যখন শ্যামলকান্তির বিরুদ্ধে সংঘঠিত অপরাধের দায়ে এমপি সেলিম ওসমান ফেঁসে গেছেন।

তৃতীয়তঃ এখন পর্যন্ত জানামতে, অর্থ প্রদানের পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই, কয়েকজন সাক্ষী ছাড়া। বলা বাহুল্য সাক্ষীরা ওসমান গ্যাং-এর পোষ্যই হবেন। তাছাড়া ঘুষ লেনদেনের মতো অবৈধ কর্মের দলিল থাকে না।

চতুর্থতঃ শ্যামলকান্তি যদি ঘুষ গ্রহণ করে অভিযুক্ত হন তাহলে যিনি ঘুষ দিলেন তিনি কেনো অভিযুক্ত হলেন না? আইনে ঘুষ দেওয়া নেওয়া দুটোই অপরাধ।

পঞ্চমতঃ আগামী ৪ জুলাই২০১৭ তারিখে সেলিম ওসমানের মামলায় অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য আছে। শ্যামলকান্তিকে চাপে ফেলে সেলিম নিজেকে মুক্ত করতে চাইছেন কি?

ষষ্ঠতঃ বিচারক শ্যামলকান্তির জামিনের আবেদন নাকচ করলেন কেনো? শ্যামলকান্তি কি দাগী আসামী? তাঁর নামে কি একাধিক মামলা রয়েছে? জামিন দিলে কি তিনি পালিয়ে ইন্ডিয়া চলে যেতেন (ইনফ্যাক্ট ওসমান পরিবার তা-ই চাইছে)?

মাননীয় প্রধানবিচারপতির সাম্প্রতিক অভিযোগ আমলে নিলে বলতে হয়, নিম্ন আদালতে সরকারের একচ্ছত্র অবৈধ ক্ষমতা চর্চার হাত প্রসারিত হয়েছে। নিম্ন আদালতের বিচারিক স্বাধীনতা নির্বাহীর বিভাগের অন্যায় হস্তক্ষেপের শিকার। উচ্চ আদালতের স্বাধীনতাও করায়ত্ব করতে সরকার তৎপর।

সপ্তমতঃ শ্যামলকান্তির স্ত্রীকে মোটা অংকের অর্থ সাধা হয়েছে যাতে তাঁরা নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে যায়। তাঁরা চলে গেলে কে বা কারা স্বস্তি পায়?

উল্লেখিত ঘটনা ও বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় শ্যামলকান্তির বিরুদ্ধে আনীত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ মিথ্যে, বানোয়াট, হয়রানীমূলক ও ষড়যন্ত্রের অংশ। প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যে তাঁকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। শ্যামলকান্তির অবিলম্বে জামিন দাবী করছি এবং ঘুষ গ্রহণের মিথ্যে অভিযোগটি ডিসচার্জড করে তাঁকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। সেই সাথে ঘুষ দিতে চাওয়া ও মিথ্যে মামলা করার জন্য অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হোক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 4 =