মাননীয় অর্থ মন্ত্রী একটু বুঝবেন কি…..

আমার বাবা মারা গেছেন ১৯৯৮ সালে। আব্বুর পেনশানের টাকা আর প্রবিডেন্ট ফান্ড থেকে পাওয়া টাকায় সঞ্চয় পত্র করে আমাদের জীবন চলেছে ভালো আর খারাপের মাঝামাঝি। আমরা তিন ভাই বোনই পড়ালেখা করতাম। মা সাদামাটা গৃহিনী। তার বা আমাদের কারো দ্বারা ব্যাবসা করা সম্ভব ছিল না।

দেশ ভর্তি এখন টাকা আর টাকা। এরপরও বয়স্ক, বিধবা, নির্বিবাদী মানুষের টাকায় হাত কেন? পরিবারের কর্তা অবসরে যাওয়ার পর সংসার চলে সঞ্চয় পত্রের টাকায়। নিরিবিলি, নিরাপদ মাসিক নির্দিষ্ট আয়। অনেকে যেমন ব্যাবসা বুঝেন না, অনেকের ব্যাবসা করার মতো শারিরীক অবস্থাও নেই, অনেকে একটু হিসাব করে নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করে। এরাই মূলত সঞ্চয়পত্র করে। এরা উপায়হীন। সঞ্চয় পত্রে সূদের হার কমানো হচ্ছে আসছে বাজেটে। এমন করলে মধ্যবিত্ত একটা শ্রেণী দরিদ্র বা নিম্ন মধ্যবিত্ত হয়ে যাবে। এদের জীবন হয়ে যাবে অসহনীয়। বাধ্য হয়ে এরা বিনিয়োগ, ব্যাবসায় গেলে মোটামুটি ধরা যায় এরা এক্কেবারে শেষ হয়ে যাবে- কারণ উপরে বলেছি।

সঞ্চয় পত্রে লভ্যাংশ বাড়ানো উচিত। সব খরচই বেড়েছে, সরকারি সবার বেতনও বেড়েছে। কিন্তু বাধ্য হয়ে সঞ্চয়পত্র কিনা একটা শ্রেণীর রোজগার কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেন?

** মাননীয় অর্থ মন্ত্রী- আপনি বলেছেন ৭০,০০০ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এদের টাকা পাচার বন্ধ করতে পারলে সঞ্চয় পত্রের উপর আপনার থাবা না দিলেও হয়তো হতো। কিন্তু সেটা সম্ভব না। সুতরাং নিরীহ মরুক।
** মাননীয় অর্থ মন্ত্রী বিনাশুল্কে এমপিদের দামী গাড়ি আমদানি বন্ধ করুন- সঞ্চয় পত্রের লভ্যাংশ বাড়ান।
** মাননীয় অর্থমন্ত্রী আপনাদের আমলারা এ কাঠপাটা গরমেও স্যুট-কোট-টাই পরে এসি চালিয়ে রাখে। তাদের স্বাভাবিক পোশাকে অভ্যস্ত করুন বিদ্যুত বিল বাঁচবে। সঞ্চয় পত্রে লভ্যাংশ বাড়ান।
মাননীয় অর্থ মন্ত্রি বাড়তিটাকা খরচ বিদেশি বনসাই আমদানী বন্ধ করুন।সঞ্চয় পত্রে লভ্যাংশ বাড়ান।

——- এদেশের জনগোষ্ঠীর বড় একটা অংশ মধ্যবিত্ত। অন্তত ভোটের হিসাব করেও এদের কথা ভাবতে পারেন। রাস্তায় উবার চলবে, উড়াল সড়ক হচ্ছে একেরপর এক। এরা এখন বাসে টেম্পুতে চড়ে। আপনি তাদের সে অধিকারটুকুও কেড়ে নিচ্ছেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

24 − 21 =