সাধু সাবধান!

শেখ মজিবুর রহমান, একটা নাম একটা বিশ্বাস, একটা অহংকার। একটা দেশের পৃথিবীর মাথা তুলে দাঁড়ানোর নাম। শেখ মুজিব কোটি মানুষের বুকের মাঝে সযত্নে রাখা ভালবাসার নাম। শেখ মুজিব একটা মহানায়কের নাম যে, কোটি প্রাণে দোলা দিয়েছিল স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার। সব ধর্মের মানুষের মিলে মিশে এক সাথে বাচার নাম ছিল শেখ মুজিব। কিন্তু দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছর পরে আমাদের দেশকে টেনে নিয়ে চলেছে পাকিস্থানপন্থী ধর্মান্ধ, বর্তমানের মৌলবাদী আফগানিস্থানের দিকে। শেখ মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশের প্রধান মন্ত্রী। যিনি ৯৬ এ ভোটে জিতেছিলেন সেক্যুলার বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কালে কালে পদ্মায় পানি অনেক গড়িয়েছে। পুরানো পাড় ভেঙ্গে নতুন পাড় তৈরি হয়েছে। নদী নতুন গতি পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার নিজের দেশ পরিচালনার গতি পথ নতুন দিশা দিতে পারেনি। কিন্তু ফিরে চলেছে পাকিস্তানী পন্থার দিকে। যে দেশে শুধু বাস করবে একদল ধর্মান্ধ মুসলিম। মডারেট মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান বলে অন্য কোন ধর্মের মানুষ যেন আর বাস করতে পারবে না। দিন দিন ক্রমশ দেশে ধর্মীয় বিভক্তিকরন আরও পষ্ট হয়ে উঠছে। শেখ হাসিনা নিজে মদিনা সনদের পক্ষে কথা বলেন। তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার অভিলাষে হেফাজতের মত একটা দলকে প্রশয় দিয়ে চলেছেন। আমাদের পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে, আমাদের জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে চলেছে হেফাজত। আর তাতে সায় দিয়ে চলেছেন শেখ হাসিনা সরকার।

আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, এই কি ছিল আপনাদের নির্বাচনী ম্যান্ডেট? দেশকে কট্টর মৌলবাদী দেশে বানানোর? এই কি ছিল আপনার ওয়াদা অন্য ধর্মের মানুষ থাকতে পারবে না দেশে নিরাপদে? এই কি ছিল আপনার প্রতিশ্রুতি যে চোখের পানি ফেলে রাতের আঁধারে দেশ ছাড়বে অন্য ধর্মের বাংলাদেশী নাগরিক? এতো ক্ষমতা দিয়ে কি করবেন? পিতার সুনাম শুধু ব্যবহার করলেন, সেই মত কোন কাজ করতে পারলেন না। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর এতো বছর পরে যে ভালবাসা আর শ্রদ্ধায় মানুষ তাকে স্বরণ করে, তার ছিটে ফোটাও আপনাদের কেউ করবে না। আপনাদের আজীবন ক্ষমতায় থাকার আকাংক্ষায় যে সব পদক্ষেপ নিচ্ছেন তা ভুল শুধু ভুল। আপনি কি জানেন না বা টের পান না, দুর্নীতি সমাজের সব ক্ষেত্রে। পরতে পরতে অন্যায়। চারদিকে চলছে লুটের মহা উৎসব, আমাদের পাঠানো রেমিটেন্স, আমাদের দেয়া ট্যাক্সের টাকা লুটে চলেছে পাচার। উন্নয়নের গল্প শুধু কাগজের পাতায়। এই কাগুজে বাঘের মত কাগুজে উন্নয়ন দিয়ে কি হবে? যেখানে জনজীবনের মান দিন দিন কমে যাচ্ছে। দেশ ধর্ষক, লুটেরা আর দুর্নীতিবাজদের অভায়রন্যে পরিণত হয়েছে। ন্যায় বিচার জেলের কাল কুঠরিতে বন্দি। আর অপরাধী খোলা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সরকার নতজানু, সেনাবাহীর কাছে, সরকার নতজানু, হেফাজতিদের কাছে, সরকার নতজানু ক্ষমতাবান ধর্ষকদের কাছে। সরকার নতজানু সৌদি আরবের কাছে। সরকার নতজানুলোভের কাছে। এই আওয়ামী লীগ সরকারকে আমাদের বোঝার ভুল। আমাদের ভালবাসার ভুল। আমাদের অন্ধ বিশ্বাস আর ভালবাসাকে পূঁজি করে আমাদের সাথে চলছে অন্যায়, বারে বারে মিষ্টি কোথায় চলছে আমাদের ঠকানো। আমাদের আজ এই পরিণতি অতি বিশ্বাস আর ভালবাসা। যুদ্ধবিরধীদের বিচারের রাঙ্গা মূলা ঝুলিয়ে ঠাকানো হচ্ছে পদে পদে।

ভাবতে অবাক লাগে একটা দল হেফাজত! সারাদেশে তাদের সদস্য সংখ্যা কত? আর আমরা কতজন? আমাদের অগ্রজরা আমাদের জন্য একটা নিরাপদ, প্রগতিশীল, স্থিতিশীল, সেক্যুলার দেশের আশায়, পোলাও মাংস না হোক দুমুঠো ভাত-ডালের আশায়, নিজের ছোট ঘরে শান্তিতে আপনজনদের নিয়ে ঘুমানোর আশায় স্বাধীনতা এনেছিল। হানাদার পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

কিন্তু কি নিষ্ঠুর রসিকতা! যে মত-পথের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন আমাদের পূর্বজনেরা, দেশ আজ সেই মত-পথের দিকে চলেছে। আর সেদিকে নিয়ে চলেছেন সেকুল্যার ধ্বজাধারী আমাদের আওয়ামী সরকার। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের মূর্তি সরানোই প্রথম কথা নয়, প্রথম কথা ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মের হাতে ধর্মনিরপেক্ষতার হত্যার। আজ এই মূর্তি সরছে। অচিরে দেশের সব মূর্তি সরবে। সেই সাথে আমাদের সরিয়ে ফেলা হবে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণে আমাদের সরিয়ে ফেলা হবে। নিজের ভাষায় কথা বলার অপরাধে একদিন আমাদের সরিয়ে দেয়া হবে। সরকারের মধ্যে থাকা একদল ভয়ানক হেফাজত আমাদের সরিয়ে ফেলতে তৎপর হবে। সেদিন আর বেশি বাকি নেই, আফগানিস্থানের আকাশে ওড়া তালেবান আলকায়দা নিধনের বোমারু বিমান, আমাদের আকাশেও পাখা মেলবে হেফাজত-জিএমবি আর আইএস নিধনে। সৌদি প্রীতি বাঁচাবে না, মদিনা সনদ বাঁচাবে না, যেমন বাঁচচ্ছে না পাকিস্তান, বাঁচেনি আফগানিস্তান।

তোমারে বধিবে যে, গোকূলে বাড়িছে সে… তাই সাধু সাবধান!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

54 − = 52