হাইকোর্টের সামনের ভাস্কর্য সরানো বা না সরানো- কোনটা সঠিক , ইসলামিক ?

বাংলাদেশের হাইকোর্টের সামনে একটা নারী মূর্তি বা ভাস্কর্য নিয়ে শুরু হয়েছে হেফাজতের আন্দোলন। সেই আন্দোলনে সমর্থন জুগিয়েছেন আমাদের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিছু সংস্কৃতিমনা লোক বুঝে বা না বুঝে এর বিরোধীতা করছে। এখন প্রশ্ন হলো – কাদের দাবী সঠিক? হেফাজত ইসলামের দাবী , নাকি সংস্কৃতিমনা লোকদের দাবী ? যদি এই দেশের ৯০% মানুষের প্রানের ধর্ম ইসলাম হয়ে থাকে , তাহলে তাদের আসলে কাদের পক্ষে সমর্থন দেয়া উচিত ? সেটাই ব্যখ্যঅ করা হবে এখন ।

বাংলাদেশের হাইকোর্টের সামনে একটা নারী মূর্তি বা ভাস্কর্য নিয়ে শুরু হয়েছে হেফাজতের আন্দোলন। সেই আন্দোলনে সমর্থন জুগিয়েছেন আমাদের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিছু সংস্কৃতিমনা লোক বুঝে বা না বুঝে এর বিরোধীতা করছে। এখন প্রশ্ন হলো – কাদের দাবী সঠিক? হেফাজত ইসলামের দাবী , নাকি সংস্কৃতিমনা লোকদের দাবী ? যদি এই দেশের ৯০% মানুষের প্রানের ধর্ম ইসলাম হয়ে থাকে , তাহলে তাদের আসলে কাদের পক্ষে সমর্থন দেয়া উচিত ? সেটাই ব্যখ্যঅ করা হবে এখন ।

বাংলাদেশ একটা মুসলমান প্রধান দেশ যেখানে ৯০% এর বেশী মুসলমান বাস করে , যাদের প্রানের ধর্ম ইসলাম। যারা জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই ইসলামকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। ইসলামের যে কোন ব্যপারে তারা আপোষহীন, মুখে তারা যতই ধর্ম নিরপেক্ষতা বা উদারতার ভাব দেখাক না কেন। এবার দেখা যাক , ভাস্কর্য নিয়ে কোরান ও হাদিসে কি বলা আছে —

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৭ :: অধ্যায় ৬২ :: হাদিস ১১০(ইফাবা হাদিস নং- ৪৮০৩)
ইসমাঈল (র)…… নবী (সাঃ) এর সহধর্মিণী হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি বালিশ বা গদি কিনে এনেছিলাম, যার মধ্যে ছবি ছিল । যখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সেই ছবিটি দেখেলেন, তিনি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে গেলেন; ভিতরে প্রবেশ করলেন না । আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর চোখে এটা অত্যন্ত অপছন্দনীয় ব্যাপার। আমি বললাম, ইয়া বাসূলাল্লাহ! আমি আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং তাঁর রাসূলের কাছে ফিরে আসছি। আমি কী অন্যায় করেছি ? তখন বাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন এই বালিশ কিসের জন্য ? আমি বললাম, এটা আপনার জন্য খরিদ করে এনেছি, যাতে আপনি বসতে পারেন এবং হেলান দিতে পারেন। তখন বাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, এই ছবি নির্মাতাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি প্রদান করা হবে এবং বলা হবে, যা তুমি সৃষ্টি করেছ তার প্রাণ দাও এবং তিনি আরও বলেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে, সেই ঘরে রহমতের ফেরেশ তা প্রবেশ করে না।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৮ :: অধ্যায় ৭৩ :: হাদিস ১৩০
ইয়াসারাহ ইব্ন সাফওয়ান (র)…………….আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী (সা)ামার নিকট আসলেন। তখন ঘরে একখানা পর্দা ঝুলানো ছিল। যাদে ছবি ছিল। তা দেখে নবী (সা)-এর চেহারার রং বদলিয়ে গেল। এরপর তিনি পর্দাখানা হাতে নিয়ে ছিড়ে ফেললেন। আয়েশা (রা) বলেন, নবী (সা) লোকদের মধ্যে বললেনঃ কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে ঐসব লোকদের যারা এ সকল ছবি আঁকে।

এ ধরনের কমপক্ষে দুই ডজন হাদিস আছে সহিহ হাদিস কিতাবেই। উক্ত হাদিসে পরিস্কারভাবেই বলা হচ্ছে , যে ছবি আকবে , কেয়ামতের মাঠেে আল্লাহ তাকে সেই ছবির প্রানীর দেহে জীবন দেয়ার হুকুম দেবে , আর সে দিতে পারবে না , তখন তাকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। বলা বাহুল্য , উক্ত হাদিসে কিন্তু মূর্তির কথা বলে নি। সুতরাং কেউ এখন এসে বলতে পারে , হাদিসে তো মূর্তির কথা বলে নি। কিন্তু কথা হচ্ছে , ছবি আঁকা কি কারনে হারাম সেটা বুঝতে হবে। এ কারনেই হারাম যে , যে কেউ কোন প্রানীর ছবি আঁকবে , তাকে কেয়ামতের মাঠে সেই প্রানীর ছবিতে জীবন দেয়ার হুকুম করা হবে, তো মূর্তিও তো একটা প্রানীর প্রতিমূর্তি , আর তাই কেয়ামতের মাঠে তার দেহেও আল্লাহ জীবন দিতে বলবে। বরং মূর্তি হলো ছবির চাইতেও বেশী নিষিদ্ধ বস্তু। কারন, ছবি হলো দ্বিমাত্রিক , আর মূর্তি হলো ত্রিমাত্রিক। ঠিক একারনেই মুহাম্মদ যখন মক্কা দখল করেন , তখন তিনি কাবা ঘরের সেই বিখ্যাত ৩৬০ টা মূর্তি সব ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। তিনি পৌত্তলিকদেরকে বলেন নি যে , তোমরা তোমাদের এসব মূর্তি নিয়ে চলে যাও। তিনি সেই সহনশীলতাটা দেখান নি।

এর পরেও কি আর বুঝতে বাকি থাকে , কেন হেফাজতে ইসলাম হাই কোর্টের সামনে থেকে নারীর মূর্তি সরাতে চাইছে ? কেউ কোনদিন কোন মসজিদ বা ইবাদত খানায় কোন জীবন্ত প্রানীর ছবি বা মূর্তি দেখেছেন ? কিন্তু যারা সংস্কৃতমনা , তারা কেন এর বিরোধীতা করছে ? তারা বিরোধীতা করছে এ কারনে যে , তারা আসলে তাদের ধর্ম ইসলাম ও এর বিধি বিধান জানে না। তারা জন্মসূত্রে মুসলমান , কোরান হাদিসের বিধান না জানা মুসলমান। তাদের বিশ্বাস এই মূর্তি বা ভাস্কর্য , এটা তো একটা শিল্প। শিল্পকে কেন ধ্বংস করতে হবে ? তারা জানে না , তাদের এই শিল্পকে ইসলাম থোড়াই কেয়ার করে। ইসলামে শিল্প, সাহিত্য, কবিতা, নাচ , গান- বাজনা এসবের কোন স্থান নেই। কিন্তু তারা সেটা বিশ্বাস করতে চায় না , যদি শুনেও থাকে , নিজেদের মনগড়া কথাবার্তা বলে এসব যে ইসলামে হারাম না , সেটাই নানা কায়দায় বোঝানোর চেষ্টা করে থাকে। যা আসলে মুনাফেকি।

বর্তমানে মিডিয়া ও অন্যান্য মাধ্যমের কল্যানে ইসলামের এই বিধি বিধান বেশ ভালভাবেই সমাজে ছড়িয়ে গেছে। ঠিক সেই কারনেই হেফাজতে ইসলামের এই মূর্তি সরানোর আন্দোলনে সাধারন মুসলমানদের কোনই সমর্থন নেই। বরং তারাও গোপনে গোপনে এই ভাস্কর্য এখান থেকে সরাতে চায়।

বর্তমানে হাইকোর্টের সামনের ভাস্কর্য দিয়ে শুরু হয়েছে , ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে যত ভাস্কর্য আছে, ছবি আছে ,সব কিছু সরানোর আন্দোলন হবে। আর তখন এই দেশের সাধারন মানুষ আজকের মতই চুপ করে বসে থাকবে। কারন অবশেষে তারাও তো মুসলমান আর তাদের ধর্ম ইসলামই। এভাবেই দেশে আস্তে আস্তে সইয়ে সইয়ে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা হবে ১০০% নিশ্চিত। কেউ থামাতে পারবে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “হাইকোর্টের সামনের ভাস্কর্য সরানো বা না সরানো- কোনটা সঠিক , ইসলামিক ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

62 − 60 =