ইস্ গ্রীকদেবী থেমিস যদি একবার জীবন্ত হয়ে উঠতো!

সকালে বিবিসি’র সংবাদ দেখে আমরা একেবারে তাজ্জব! রাত বারোটার পর থেকে নাকি এই ভাস্কর্যটি অপসারণের জন্য অপকর্ম শুরু হয়েছে। এতে সমগ্র বাঙালি-জাতির সঙ্গে আমিও আতঙ্কিত, হতাশ, ক্ষুব্ধ, স্তম্ভিত, দুঃখিত, ব্যথিত ও যারপরনাই লজ্জিত। তস্করের মতো কতকগুলো নিম্নশ্রেণীর জীবের প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে এটি অপসারণ করা হচ্ছে। রাত বারোটার পরে কোনো ভালোমানুষ কাজ করে? এই সময়টাতো থাকে তস্করদের দখলে। আর তখন সুপ্রীমকোর্টও বন্ধ! আর এই সুযোগে রাতের আঁধারে চোরের মতো এটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে কেন?


ইস্ গ্রীকদেবী থেমিস যদি একবার জীবন্ত হয়ে উঠতো!
সাইয়িদ রফিকুল হক

সুপ্রীমকোর্টচত্বরে এতোদিন সংরক্ষিত ছিল ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ভাস্কর্য। এটি ন্যায়বিচারের প্রতীক। যদিও আমাদের দেশের একশ্রেণীর নরপশু, মূর্খ, পাষণ্ড, অসভ্য, বেআদব, ধৃষ্ট, পামর, আর অতি-নরাধমরা এ-কে বারবার ‘মূর্তি’ বলে তা অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলো। আর এই ভাস্কর্য-অপসারণের মুখপাত্র হিসাবে অপকর্মপালন করছিলো দেশের একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠী ‘হেফাজতে শয়তান’। আর দেশের আধমরা-সরকার সবকিছু জেনেশুনেও তাতে সায় জানিয়েছে। এতে সরকারের ভিতরে ঘাপটিমেরে থাকা হেফাজতের দালালশ্রেণীটি ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ছোট্ট একটি ভাস্কর্য-অপসারণ করে নিজেদের ঈমানবৃদ্ধিসহকারে তা পাকাপোক্ত ও মজবুত করেছে!

এখন হেফাজতের ডাকে সাড়াদানকারী দালালশ্রেণীটির নেতৃত্বে ও আধমরা-সরকারের নির্দেশে সুপ্রীমকোর্টচত্বর থেকে ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ভাস্কর্য-অপসারণের কাজ চলছে। এজন্য ভাস্কর্যটির নির্মাতা মৃণাল হককেও ডাকা হয়েছিলো। যাতে তিনি তাঁর নির্মিত ভাস্কর্যটি নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করে সওয়াব-হাসিলের রাস্তায় হাঁটতে পারেন। ভাগ্যিস, এটির নির্মাতা মৃণাল হকের ফাঁসি দাবি করা হয়নি!

সকালে বিবিসি’র সংবাদ দেখে আমরা একেবারে তাজ্জব! রাত বারোটার পর থেকে নাকি এই ভাস্কর্যটি অপসারণের জন্য অপকর্ম শুরু হয়েছে। এতে সমগ্র বাঙালি-জাতির সঙ্গে আমিও আতঙ্কিত, হতাশ, ক্ষুব্ধ, স্তম্ভিত, দুঃখিত, ব্যথিত ও যারপরনাই লজ্জিত। তস্করের মতো কতকগুলো নিম্নশ্রেণীর জীবের প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে এটি অপসারণ করা হচ্ছে। রাত বারোটার পরে কোনো ভালোমানুষ কাজ করে? এই সময়টাতো থাকে তস্করদের দখলে। আর তখন সুপ্রীমকোর্টও বন্ধ! আর এই সুযোগে রাতের আঁধারে চোরের মতো এটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে কেন?

দেশে বর্তমান-সরকারের একটি বিরাট অংশ ধর্মীয় আকিদাহগত দিক থেকে ওহাবীপন্থী। আর এরা যে ভিতরে-ভিতরে ‘হেফাজতে শয়তানে’র কাছে সরাসরি আত্মসমর্পণ করেছে—তাতে কোনো সন্দেহ নাই। আর হেফাজতে শয়তান এদেরই ঘাড়ে চড়ে একের-পর-এক নিজেদের স্বার্থহাসিল করছে। এই হেফাজতিরা এমন একটি পাপিষ্ঠগোষ্ঠী—যারা আজও বাংলাদেশ মানে না, বাংলাদেশের সংবিধান মানে না, বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা মানে না, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা মানে না, আর বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতও মানে না। তবুও এই শয়তানদের কেন তোষামোদী করছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার?
আজকে দেখি একদল সংস্কৃতিকর্মী-নামধারী অমানুষও এই ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছে! এরা আসলে কারা? আর যারা আজকাল হেফাজতের ডাকে সাড়া দিচ্ছে তারাও ভণ্ড। এরা কখনও ভালো হতে পারে না। আর ভবিষ্যৎ এদের ঘৃণার চোখে দেখবে।

একটি প্রমাণসাপেক্ষ কথা:
বাংলাদেশের সুপ্রীমকোর্টচত্বরে সংরক্ষিত ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ভাস্কর্য কখনও-কোনোদিন কোনো গ্রীকদেবীর মূর্তি নয়। আর এর সঙ্গে গ্রীকদেবীর কোনো সম্পর্ক নাই। আপনি বাঙালি হলে একটি কথা সবসময় মনে রাখুন: একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠী ও আজকের সর্বস্তরের বাংলাদেশবিরোধীচক্র একসঙ্গে সুরমিলিয়ে আর জোটবেঁধে ‘লেডি অব জাস্টিস’কে গ্রীকদেবী থেমিসের মূর্তি বলছে। এরা বাংলাদেশের শত্রু—আর লোকদেখানো-মুসলমান। আসলে, এরা মুকাজ্জেব।

আজ সকাল থেকেই মনে হচ্ছিলো গ্রীকদেবী থেমিস যদি ভাস্কর্য না হয়ে (আসলে, এটি গ্রীকদেবীর মূর্তি নয়। এসব পাতিহুজুরদের অপপ্রচার মাত্র) রক্তমাংসের একটা নারী হতো! তাহলে, কেউ এটি অপসারণের কথা বলতো না। আর তখন এই কথিত-গ্রীকদেবীর জন্য পাতিহুজুরদের মধ্যে কাড়াকাড়ি, মারামারি আর রেষারেষি শুরু হয়ে যেতো। আর কার আগে কে গ্রীকদেবীর কাছে গিয়ে দাঁড়াবে, আর কে আগে তাঁর পাশে বসবে—তার জন্য রীতিমতো জিহাদ শুরু করে দিতো। তারা সুপ্রীমকোর্টচত্বরে সারাক্ষণ ঘোরাফেরা করতো—যদি গ্রীকদেবীর একটুখানি পদধূলিলাভ করা যায়! এই দেশের এই নিম্নশ্রেণীর পাতিহুজুরদের চরিত্র আমাদের জানা আছে। এরা সবসময় যে পাতে খায় সে পাতেই হাগে (পায়খানা করে)! বাংলাদেশের পাতিহুজুররা হলো পৃথিবীর সর্বকালের সর্বনিকৃষ্ট ভণ্ড। এরা বাংলাদেশে বসবাস করে এখনও গুণগান গায় পাকিস্তানের, সৌদিআরবের, তুরস্কের আর লিবিয়ার। আর এই দেশদ্রোহী-হারামজাদাদের বাপদের দেশেও কিন্তু অনেক ভাস্কর্য রয়েছে। কিন্তু এই হারামজাদারা সেগুলো অপসারণের কথা বলে না! ওদের চোখে পড়ে শুধু বাংলাদেশের ‘লেডি অব জাস্টিস’!
নিচে ছবি দিলাম—দেখে নিন ইসলামের দেশ সৌদিআরবের কতিপয় ভাস্কর্য:

আমাদের দেশের শাড়িপরিহিতা ভদ্র-মার্জিত ‘লেডি অব জাস্টিস’ এদের পছন্দ হয় না। এদের মনে হয় পছন্দ এইরকম ভাস্কর্য!

পাকিস্তানী-মডেলকন্যা ভিনা মালিক:

আরও একটি পাকিস্তানী-ভাস্কর্য:

আমরা দেখেছি, এই দেশের ভণ্ডশয়তান ও ইসলামের নামে রাজনীতির ধারক-বাহক জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের দালালেরা একসময় বলতো: বাংলাদেশে নারীনেতৃত্ব চলবে না। আর ইসলামে নারীনেতৃত্ব হারাম! এটি জায়েজ নাই। এটি কুরআনবিরোধী ইত্যাদি-ইত্যাদি। কিন্তু এরাই যখন রাষ্ট্রক্ষমতার আশায় ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ-নির্বাচনে বিএনপি’র সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচন করলো—তখন তারা কুরআনের দোহাই ভুলে গিয়ে বললো:

“নারীনেতৃত্ব হারাম—কিন্তু খালেদা জিয়ার পাশে বসতে আরাম!”

এই হারামজাদাদেরই একটি উপগোষ্ঠী এখন আওয়ামীলীগের কাঁধে সওয়ার হয়েছে। এরা দেশের পুরুষ ভাস্কর্যগুলোর প্রতি আপাততঃ নমনীয়তাপ্রদর্শন করে ক্ষিপ্ত হয়েছে ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর উপর। এরা এখন এই ভাস্কর্যকে বলছে গ্রীকদেবীর মূর্তি! কিন্তু এখন তারা স্বার্থের জন্য নারীনেতৃত্ব মানে, নারীনেতৃত্বকে হালাল জানে—আর নারীনেতৃত্বকে জায়েজ মনে করে নারীদের পদলেহন করতেও দ্বিধা করে না। কিন্তু ‘ন্যায়বিচারের প্রতীক’ হিসাবে সামান্য একটি নারীভাস্কর্য সহ্য করতে পারে না! কী জঘন্য শয়তান এরা!

গ্রীকদেবী থেমিসের যে অপরূপ চেহারা! আর থেমিস যদি বাংলাদেশে একবার আসতো আর জীবন্ত হয়ে উঠতে পারতো—তাহলে, এটি দেখে হেফাজতে শয়তানের আমির-উমরাহ যুদ্ধাপরাধী শাহান শাহ আহাম্মক সাপী’র মাথা ঘুরে যেতো। আর তার দিনে-রাতে কমপক্ষে তিন-চারবার স্বপ্নদোষ হতো। আর কত ঝানুয়েদ জাদুনগরী চাচা তো পাগল হয়ে মনে-মনে গ্রীকদেবী থেমিসকে দিনে-রাতে কমপক্ষে দশ-বারোবার ধর্ষণ করে নিজে সিফিলিস, গনোরিয়া কিংবা আরও মারাত্মক এইডস বাঁধিয়ে বসতো!

আর এরা এখন ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর অপসারণ চায়!
তাই, ভাবছিলাম—ইস্ গ্রীকদেবী থেমিস যদি একবার-শুধু-একবার এই বাংলাদেশে আসতো আর জীবন্ত হয়ে উঠতো! তাহলে, তাঁকে (মিথ্যা অপবাদ মাথায় নিয়ে) এভাবে রাতের আঁধারে বাংলাদেশের সুপ্রীমকোর্টচত্বর থেকে বিদায় নিতে হতো না।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৬/০৫/২০১৭

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

31 + = 33