স্বাগতম পাকিস্তানঃ অন্ধকারের পথিক বাঙলাদেশ

১৯৭১ সালে সংগঠিত তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সশস্ত্র সংগ্রাম, যার মাধ্যমে বাঙলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। এই মানচিত্র অর্জন করা সহজ ছিল না। এই মানচিত্রের সাথে জড়িয়ে আছে ৩০ লক্ষ জীবনের বিসর্জনের ইতিহাস। ৪ লক্ষ নারীর আত্মত্যাগের সোনালী ফসলের নাম বাঙলাদেশ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাঙলাদেশের সংবিধানটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাঙলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। ১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর বাঙলাদেশের জাতীয় সংসদে এই সংবিধান গৃহীত হয় এবং একই বছরের ১৬ই ডিসেম্বর অর্থাৎ বাঙলাদেশের বিজয় দিবসের (১৬ ডিসেম্বর) প্রথম বার্ষিকী হতে এটি কার্যকর হয়।

বাঙলাদেশ সংবিধানের চারটি মূলনীতি ধার্য করা হয়েছিলোঃ
১)জাতীয়তাবাদ
২)সমাজতন্ত্র
৩)গণতন্ত্র ও
৪)ধর্মনিরপেক্ষতা

১৯৭২ সালের বাঙলাদেশের প্রাথমিক সংবিধানের চারটি প্রধান মূল ভিত্তির মধ্যে একটি ধর্ম নিরপেক্ষতা। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান সংবিধান থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতা ভিত্তিটি সরিয়ে ফেলেন।

এবং যুক্ত করেন “পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র উপর” দ্বারা।
১৯৮৮ সালে হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসাবে ঘোষণা করেন।

বিএনপি এবং সেনাবাহিনীর সমর্থকেরা সংখ্যালঘু কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিশেষ করে দেশের সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী, বৌদ্ধ, এবং আদিবাসীদের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে যুক্ত করে। উল্লেখযোগ্য হিসেবে ১৯৮৮, ১৯৯০, ১৯৯২ এবং ২০১৩, ২০১৬ সালের হিন্দুবিরোধী আন্দোলন ভয়াবহরূপ ধারণ করে।

২০১০ সালে বাঙলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত ৫ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং ধর্ম নিরপেক্ষতাকে সংবিধানের একটি মৌলিক মতবাদ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন।

সর্বোচ্চ আদালত দ্বারা পুন:প্রতিষ্ঠাঃ

২০০৫ সালে বাঙলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত ৫ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এবং সরকার ১৯৭২ সালের সংবিধানের আলোকে একটি সংবিধান পুন:প্রতিষ্ঠা করে। যার মধ্যে ধর্ম নিরপেক্ষতার রাষ্ট্রীয় ভিত্তিটি ছিল। তা সত্ত্বেও, শুরুর বাক্য ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ (পরম করুণাময় এবং অতি দয়ালু আল্লাহ্‌ তালার নামে শুরু করছি) বহাল ছিল যা ১৯৯৭ সালে যুক্ত করা হয়।

স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদের পতনের পর শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম, মুক্তিযোদ্ধারা ধর্ম নিরেপক্ষ সংবিধান ফিরে পাওয়ার আন্দোলন করেন। এবং শেখ হাসিনা ধর্ম নিরপেক্ষ সংবিধানের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন।

২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ঘোষণা করেন যে তারা সংবিধান সংশোধন করবে এবং চারটি মূল ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করবেন।

২০১০ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত ২০০৫ সালের ৫ম সংশোধনী অবৈধ হওয়ার রায় সমর্থন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর অনুমোদনকে সমর্থন করেন।

উচ্চ আদালতের আবেদনঃ

৭ জুন, ১৯৮৮ সালের ৮ম সংশোধনীর পর ১৫ জন ব্যাক্তি রাষ্ট্রের ধর্ম আইনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন।
২০১৫ সালের পহেলা আগস্ট সমেন্দ্রনাথ গোস্বামী নামক একজন সর্বোচ্চ আদালতের উকিল উচ্চ আদালতে সংবিধানিক আইনে রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম রাখার বৈধতা নিয়ে অন্য একটি মামলা করেন। যদিও ২০১১ সালের সংবিধান সংশোধনীতে মূল ভিত্তি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা আছে।
২০১৬ সালের ২৮ মার্চ উচ্চ আদালতে এই মামলা খারিজ কর দেয় এবং ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে বহাল রাখে।

১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলের আমীর ঘোষণা করলে বাংলাদেশে জনবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি ১৯৯২ সালে ২৬ মার্চ ’গণআদালত’ এর মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাত্তরের নরঘাতক গোলাম আযমের ঐতিহাসিক বিচার অনুষ্ঠান করে। গণআদালাতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দশটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ১২ জন বিচারক সমন্বয়ে গঠিত গণআদালতের চেয়ারম্যান জাহানারা ইমাম গোলাম আযমের ১০টি অপরাধ মৃত্যুদন্ডযোগ্য বলে ঘোষণা করেন।


২৫ বছর আগে জাহানারা ইমামের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি বাঙলাদেশকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছিল। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সব সময় যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা জাহানারা ইমামের আন্দোলনটি থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন, তরুণ প্রজন্মের আবেগকে কাজে লাগিয়ে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের আন্দোলনটি অর্থাৎ ‘গণআদালতের’ ফসলটি ঘরে তুলবার। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।

ধর্মান্ধ মুসলমানদের প্রথম ও প্রধান অস্ত্র সবসময়ই প্রোপাগান্ডা। সে সময়ে জামাত, ছাত্র শিবির, বিএনপি একত্র হয়ে নাস্তিক ইস্যুর একটি প্রোপাগান্ডা ছড়াতে সমর্থ হয়। সে সময়ে আন্দোলনের সাথে যারা যুক্ত ছিলেন তারা সবাই শিক্ষিত, মেরুদণ্ডসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। যে-কারণে নাস্তিক ইস্যু খুব একটা গুরুত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায় নি। অন্তত, যারা প্রথম সারির আন্দোলনের কর্মী ছিলেন তাদের মধ্যে হয় নি। কিন্তু জনগণের মধ্যে কিছুটা হলেও প্রতিক্রিয়ার সঞ্চার হয়েছিলো।

যেমন- পরবর্তীতে ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবীতে তরুণ প্রজন্ম শাহবাগে বিশাল বড় এক আন্দোলন তৈরি করতে সমর্থ হয়। আন্দোলনের তৃতীয় দিনের মধ্যেই বিএনপি, জামাত ‘নাস্তিক’ ইস্যু নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। সেই সাথে হেফাজতে ইসলাম যুদ্ধাপরাধীর বিচারের আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে নাস্তিক ইস্যু নিয়ে রাজপথে নেমে রণক্ষেত্রে পরিণত করে। জাহানারা ইমামের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন এবং শাহবাগের আন্দোলন একই ইস্যুতে হলেও প্রেক্ষাপট যথেষ্ট ভিন্ন ছিল। শাহবাগের আন্দোলনে যারা প্রথম সারিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের অধিকাংশই ছিল দলীয় রাজনীতিবিদ, অশিক্ষিত, টেলিভিশনের তারকা, খ্যাতিলোভী লেখক, উপস্থাপক ইত্যাদি পেশার মানুষ জড়িত ছিল। যারা নিস্বার্থ ভাবে আন্দোলনের যুক্ত হয়েছিলো তাদের প্রথমে কিংবা কখনোই সম্মান দেওয়া হয় নি। এবং এই কারণে হেফাজতে ইসলামের উড়ন্ত ‘নাস্তিক’ ইস্যু সাধারণের মধ্যে বেশি প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিলো। সেইসাথে, বলে রাখা জরুরী – ইসলামিক মৌলবাদীরা যতোটা সংঘবদ্ধ, একত্রিত, এবং পরিকল্পনা মাফিক চালিত, ততোটা শাহবাগ আন্দোলনের কর্মীরা ছিল না।


জাহানারা ইমামের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনটির মতোই শেখ হাসিনা শাহবাগের যুদ্ধাপরাধীর বিচারের আন্দোলনটি প্রথমে নিজের ঘরে ফসল হিসেবে তুলতে চেষ্টা করেছিলেন। তরুণ প্রজন্মের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তিনি সুবিধা হাসিলের যে নষ্ট রাজনীতি শুরু করেছিলেন, তার পরিণামও হয়েছে ভয়াবহ। ব্লগারদের জীবনের বিনিময়ে শেখ হাসিনা এখনো জীবিত আছেন। কতো ব্লগারের কতো রক্ত ঝরেছে! কতো সহযোদ্ধা লাশে পরিণত হয়েছে! লাশের সংখ্যা হিসাব করতে গেলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছু আসে না। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসে তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার আওয়ামী লীগ দোদুল্যমান হয়ে ভেসেছে। পরবর্তীতে তারা ইসলামিক মৌলবাদীদের সাথে আপোষ করে।

হেফাজতে ইসলাম শরিয়া ভিত্তিক ইসলামী শাসনতন্ত্র চায়। তারা বাঙলাদেশকে সৌদি আরব, পাকিস্তান, আফগানিস্তান বানানোর স্বপ্নে বিভোর। এবং সেই স্বপ্ন পূরণে বেশি দূর নেই। কারণ তাদের উল্লেখিত দাবির অনেকগুলোই ইতিমধ্যে পূরণ হয়ে গেছে।

২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা দাবী বাস্তবায়নে জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলঃ

১. সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল করা।

২. আল্লাহ্, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস।

৩. কথিত শাহবাগি আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর শানে জঘন্য কুৎসা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের সব অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করা।

৪. ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বালনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।

৫. ইসলামবিরোধী নারীনীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা।

৬. সরকারিভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।

৭. মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা।

৮. জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধাবিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং ওয়াজ-নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধাদান বন্ধ করা।

৯. রেডিও-টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি ও ইসলামি কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসিঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস-পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করা।

১০. পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এনজিও এবং খ্রিস্টান মিশনারিগুলোর ধর্মান্তকরণসহ সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।

১১. রাসুলপ্রেমিক প্রতিবাদী আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার ছাত্র ও তৌহিদি জনতার ওপর হামলা, দমন-পীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং গণহত্যা বন্ধ করা।

১২. সারা দেশের কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, ওলামা-মাশায়েখ ও মসজিদের ইমাম-খতিবকে হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি দানসহ তাদের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করা।

১৩. অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত সব আলেম-ওলামা, মাদ্রাসাছাত্র ও তৌহিদি জনতাকে মুক্তিদান, দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আহত ও নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণসহ দুষ্কৃতকারীদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, সেই ১৩ দফা দাবীর অনেকগুলোই পূরণ হয়ে গেছে- যা তা আমরা খোঁজ রাখি নি। শেখ হাসিনা যে ইসলামিক মৌলবাদীদের সাথে আপোষ করেছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ থাকলেও, নিয়ন্ত্রণে আছে হেফাজতে ইসলাম। ২০১৭ সালে বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির পরিবর্তন, আদালত প্রাঙ্গণে ভাস্কর্যের অপসারণ প্রমাণ করে যে দিন শেষে হেফাজতে ইসলামের ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন পরিণত হতে থাকে হেরে যাওয়া গণতন্ত্রের হাত ধরে।

১৯৭১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাঙলাদেশের রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থার বিশাল বড় পরিবর্তন অর্থাৎ সর্বনাশ হয়েছে শুধু ধর্মের কারণেই।

আমাদের দেশে স্বাধীন হয়েছিলো ধর্ম নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে, স্বপ্ন দেখেছিল বৃহত্তর বাঙালি চেতনার উত্থানের। আসলে আমরা কোনদিনই গোড়ার গলদ ধরতে পারিনি, চেষ্টা করিনি। স্বাধীন বাঙলাদেশের প্রাথমিক পর্বে যেভাবে আমাদের বাঙালি চেতনাকে অতিচিহ্নিত করবার পেছনে রয়ে গিয়েছিল আগামী দিনের সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী বা ভাষাগোষ্ঠীর প্রতি অন্যায়-অবিচারের বীজ, একই ভাবে সেদিনের সংবিধানের মাথায় আল্লাহর নামগান গাওয়ার হাত ধরেই যে আজকের পাকিস্তান-রূপী বাঙলাদেশের আগমন ও উত্থান, এ কথা আর কিছু না হলেও অপ্রিয় সত্য। আমাদের এই অর্ধেক সত্যের প্রতি আসক্তিই খুব শীঘ্র ডেকে আনবে প্রিয় দেশের অকাল মৃত্যু।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + = 19