অন্ধ সমর্থন?

সে যাই হোক, চাইলেই ‘পবিত্র গ্রন্থ’ আর ’সংশ্লিষ্ট বইপত্র’গুলির রেফারেন্স দিয়ে প্রমাণ করে দিতে পারি যে, সুপ্রিমকোর্টের সামনের ভাস্কর্যটি ছিল একেবারেই নির্দোষ। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারি, কী কী ক্ষেত্রে এই ভাস্কর্য ধর্মের চোখে কিছু মাত্র যায় আসে না। যুক্তি দিয়ে অলস বাঙালিদেরকে বুঝিয়ে দিতে পারি, কেন সৌদির মতো শতভাগ রেডিক্যাল একটি দেশে ”The Hungry Horses Sculpture” এর পেটের দিকটা শুধু পরিবর্তন করে ঘোড়ার হুবহু অবয়বের পাঁচ পাঁচটি প্রতিকৃতি সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে উত্তপ্ত মরুর বুকে ( ফটোগ্রাফার অবশ্য তিনটি ঘোড়ার ছবি তুলতে সমর্থ হয়েছেন)।

?w=640″ width=”500″ />

কী বলা যাবে? আমরা বুঝেও বুঝতে চাইছি না? নাকি বইপত্র ঘেঁটে বিশ্লেষণ করার মতো যথেষ্ঠ সময় আমাদের হাতে নেই বলে চোখ বুজে অন্ধ সমর্থন?

সে যাই হোক, চাইলেই ‘পবিত্র গ্রন্থ’ আর ’সংশ্লিষ্ট বইপত্র’গুলির রেফারেন্স দিয়ে প্রমাণ করে দিতে পারি যে, সুপ্রিমকোর্টের সামনের ভাস্কর্যটি ছিল একেবারেই নির্দোষ। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারি, কী কী ক্ষেত্রে এই ভাস্কর্য ধর্মের চোখে কিছু মাত্র যায় আসে না। যুক্তি দিয়ে অলস বাঙালিদেরকে বুঝিয়ে দিতে পারি, কেন সৌদির মতো শতভাগ রেডিক্যাল একটি দেশে ”The Hungry Horses Sculpture” এর পেটের দিকটা শুধু পরিবর্তন করে ঘোড়ার হুবহু অবয়বের পাঁচ পাঁচটি প্রতিকৃতি সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে উত্তপ্ত মরুর বুকে ( ফটোগ্রাফার অবশ্য তিনটি ঘোড়ার ছবি তুলতে সমর্থ হয়েছেন)।

?w=640″ width=”500″ />

চাকচিক্যের নগরী জেদ্দার ঠিক উত্তরে ব্রোঞ্জ নির্মিত “The Big Fish Sculpture” কেন “পুজনীয় মূর্তির” সংগাতে পড়ে নি তার প্রমাণটাও দিতে পারি অথবা শিক্ষিত-দাবিদার মুসলিম বাঙালিদের হায়হুতাশের বিপরীতে ’পবিত্রতম’ সেই দেশটি কিসের ভিত্তিতে ভাস্কর্য দিয়ে সুশোভিত করেছে তাদের নগরী, তার ব্যাখ্যাও দিতে পারি। দিব না।

?w=640″ width=”500″ />

শুধু তাই নয়, আমরা আরো বোঝার চেষ্টা করতে পারি, যে ভাস্কর্যটির পাদদেশে মাথা নিচু করে কোনো বাঙালি ফুল দিতে যাবে না বছরের কোনো একটি দিন, তাকে ঘিরে কেন প্রদর্শিত হল এমন উন্মাদনা!! নিশ্চয়ই ’কিন্তু’ আছে এখানে।

আমি জানি তুমি শিক্ষিত, আমি শ্রদ্ধার সাথে তোমার শিক্ষাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু সুশিক্ষিত হতে হলে পড়াশোনাটা তোমাকে নিজ দায়িত্বেই করতে হবে। কারণ, ’সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত’। কপি-পেস্ট করা জ্ঞানচর্চা তো অনেক হল। এবার পরিশ্রম করে জেনে নাও সবকিছু, তোমার প্রয়োজনে এবং তোমার ছেলে-সন্তানদের জন্যে রেখে যাওয়া দেশটির প্রয়োজনে। মনে রেখ, পরিশ্রম-লব্ধ-জ্ঞান সহজে ভুল হওয়ার নয়।

তারপরও আজকে যদি ভুলচিন্তাকে প্রশ্রয় দিয়ে জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে দাও তুমি, আগামী দিনে তার মাশুল গুণতে হবে তোমাকে, তোমার দেশের মানুষকে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “অন্ধ সমর্থন?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 − = 72