ধর্ষণের উপর মূর্তি চেপেছে

আমরা বাঙালীরা একটু আবেগ প্রবন বেশিই।যখন কোন ইস্যু পাই সবাই তার পিছনে ছুটি।এমন ভাবে ছুটি যাতে ওই ইস্যুর একটা হেস্ত নাস্ত না করে ছাড়বেই না।কিছু দিন পর হারিয়ে যায় ইস্যু।ঘুণে ধরে আমাদের মতিষ্ক।ভুলে যাই সবকিছু।আবার নতুন ইস্যুতে মজে থাকি।ফেলানী, তনু,রাজন সবাইকে আমরা ভুলে গেছি।ভুলাটা স্বাভাবিক। ভুলে যাচ্ছি আপন জুয়েলারস।ভুলে যাচ্ছি সাফাত-নাইমদের।

গত এক দেড় সপ্তাহে পুরো সামাজিক মিডিয়া জুড়ে ধর্ষণ,আপন জুয়েলারস, সাফাত-নাইম ছাড়া কোন গান ছিলো না।এমনকি আমরা আপন জুয়েলারসের চৌদ্দগুষ্ঠির খুঁজে বের করেছি।কিন্তু এত লাফালাফি কতখন স্থায়ী সেটার বিষয়।অনেক কিছুই আমরা দিলদার-সাফাতের থলের বিড়াল বের করেছি।সাফাতের বাবার অবৈধ সোনা বের করেছি।অবৈধ সোনার অবৈশ সাফাত, অবৈধ সম্পর্ক ।কয়জন মডেলের সাথে ডেট করতো।কার কার সাথে সেলফি তুলছে।কেন সেলফি তুলছে?কোন সেলফির সাথে সম্পর্ক আছে কিনা?এত্তসব কিছু খুঁজে বের করেছি।কিন্তু লাভ হয়েছে কি?এই ধর্ষকরা কি বিচার পাবে? সোস্যাল মিডিয়াও এদের ভুলে যাচ্ছে।গত দুই দিনতো কাউর মুখে ধর্ষণের কোন কথা শুনলাম না। তাহলে কি তনু,রাজন,ফেলানী মত এই দুই ধর্ষিতা যুবতীও হারিয়ে গেছে।

আমি বলব,হ্যাঁ ওরাও হারিয়ে গেছে সুপ্রিম কোর্টের গ্রিক দেবীর ভিড়ে।সামাজিক মিডিয়ায় ঝড়। কেন মূর্তি রাতের আঁধারে তুললো।কেউ কেউ তুলোধুলো করে ছাড়ছে কাউকে।এটা নিকষ আবেগ।কয়েক দিন পর অন্য ইস্যুতে হারিয়ে যাবে।গ্রিক দেবী তখন কালের অতলে অতীত হয়ে রবে।

তাই সময়ের পক্রিমায় গ্রিক দেবীর মূর্তির নিচে চাপা পড়েছে ধর্ষণ।

এটাই আসলে আমাদের দৈন্দিন জীবন।কাউকে সুষ্ঠ বিচারের স্বপ্ন দেখিয়ে ঠিক আচাড় মাড়িয়ে ফেলে দেই।আমরা সত্যিকারে আমাদের বিবেকের কাছে দায়ীবদ্ধ না।তাই আমাদের কোন ইস্যুও চিরস্থায়ী না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 4 =