শয়তানও নেই , সেই সাথে আল্লাহও নেই ? সবই কি আষাড়ে গল্প ?

ইসলামের মূল নীতি হলো – শয়তান মানুষের অন্তরে অবস্থান ক’রে তাদেরকে কুমন্ত্রনা দেয়, তাই মানুষ পাপ কাজ করে। যদি কোনভাবে শয়তানকে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করা বন্দ করা যেত , তাহলে মানুষ আর পাপ কাজ করবে না- এটাই যৌক্তিক। আমাদের মহাভাগ্য যে , বছরের বারটা মাসের মধ্যে অন্তত: একটা মাস রমজানে আল্লাহ শয়তানকে কঠিন শৃংখল দিয়ে বেঁধে রাখে , তার ফলে শয়তান আর আমাদের অন্তরের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু তাহলে কি মানুষের পাপ কাজ বন্দ থাকে ? যদি না থাকে , তাহলে আমরা আসলে কি বুঝব ?

ইসলামের মূল নীতি হলো – শয়তান মানুষের অন্তরে অবস্থান ক’রে তাদেরকে কুমন্ত্রনা দেয়, তাই মানুষ পাপ কাজ করে। যদি কোনভাবে শয়তানকে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করা বন্দ করা যেত , তাহলে মানুষ আর পাপ কাজ করবে না- এটাই যৌক্তিক। আমাদের মহাভাগ্য যে , বছরের বারটা মাসের মধ্যে অন্তত: একটা মাস রমজানে আল্লাহ শয়তানকে কঠিন শৃংখল দিয়ে বেঁধে রাখে , তার ফলে শয়তান আর আমাদের অন্তরের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু তাহলে কি মানুষের পাপ কাজ বন্দ থাকে ? যদি না থাকে , তাহলে আমরা আসলে কি বুঝব ?

শয়তান কিভাবে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে , সেখানে আত্মগোপন করে মানুষকে কুমন্ত্রনা দিয়ে বিপথে চালিত করে , তার সুন্দর বর্ননা দেয়া আছে কোরানে , সেটা একটু দেখা যাক —-

সুরা নাস:::
আয়াত- ১: বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, ২: মানুষের অধিপতির, ৩: মানুষের মা’বুদের , ৪: তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে, ৫: যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে , ৬: জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।

সুতরাং পরিস্কার যে , শয়তান যদি আমাদের অন্তরে প্রবেশ করতে না পারে , তাহলে তার পক্ষে আর আমাদেরকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব না , আর তাই সম্ভব না আমাদেরকে দিয়ে পাপ কাজ করানো। সৌভাগ্য আমাদের যে আল্লাহ রমজানের পুরো মাসটাই শয়তানকে বন্দি করে রাখে। হাদিস বলছে —

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫৪ :: হাদিস-৪৯৭
ইয়াহইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………..আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যখন রমযান মাস আরম্ভ হয়, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

সুতরাং শয়তান যখন বন্দি থাকে , তখন সে আমাদের অন্তরে প্রবেশ করতে পারে না , ফলে আমাদের পক্ষে আর রমজান মাসে পাপ করা অসম্ভব। কিন্তু বাস্তবে কি দেখি ? বাস্তবে আমরা অন্তত: বাংলাদেশে যা দেখি , তা হলো – সকল মুমিন ব্যবসায়ী রমজানে কৃত্রিমভাবে তাদের সকল পন্যের দাম অতি বৃদ্ধি করে থাকে , যা একটা কঠিন অপরাধ । অফিস আদালতে ঈদের খরচ তোলার জন্যে কর্মকর্তা , কর্মচারী সবাই অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশী ঘুষ খায় বা দুর্নীতি করে। ঈদের আগে , রমজানের মধ্যেই সকল রকম যান বাহনের ভাড়া দ্বিগুন , তিনগুন হয়ে যায় , যা কঠিন অপরাধ। অর্থাৎ সাধারন মানুষকে জিম্মী করে সবাই ব্যস্ত থাকে সকল রকম অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনের। অর্থাৎ মানুষ তখন অন্য সময়ের চাইতে অনেকটা বেপরোয়া ভাবে পাপ কাজ ক’রে থাকে। কিন্তু আল্লাহ তো তখন শয়তানকে বেধে রাখে , তার পক্ষে তো মানুষের বিশেষ করে মুমিনদের অন্তরে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না , তাহলে মুমিনরা কিভাবে এরকমভাবে পাপ কাজ করে যায় ? বা করতে পারে ?

তার অর্থ কি – শয়তানও নেই , সেই সাথে আল্লাহও নেই ? সবই কি আষাড়ে গল্প ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “শয়তানও নেই , সেই সাথে আল্লাহও নেই ? সবই কি আষাড়ে গল্প ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 5 =