রাখাইনদের এদেশে আগমনের ইতিহাস (প্রথম পর্ব)

কুয়াকাটায় রয়েছে আরকানদের এদেশে আগমনের ইতিহাস।ইতিহাস থেকে ধারণা করা হয়। সম্ভবত ১৮ শতকে রাখাইনদের মাতৃভূমি হিসেবে খ্যাত বার্মার আরাকান রাজ্য এক সময় মুঘল শাসকের সাহায্যে এক বর্মী রাজা দখল করে নেয়। রাজার সৈনিকদের অত্যাচারের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে রাখাইনরা দল বেঁধে বড় বড় নৌকায় সাগরে ভাসতে থাকে। ভাসতে ভাসতে এক সময় একটি অজানা দ্বীপে নৌকা আটকে যায়।রাখাইনরা তখন সেই দ্বীপে নেমে পড়ে। ওই দ্বীপটি ছিল পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী দ্বীপ।দ্বীপটি রাখাইনদের কাছে পছন্দ হয়।তারা সেখানে বসবাস শুরু করে।দ্বীপের পাশে বিশাল এক বন ছিল।কিছু রাখাইন পরিবার বনাঞ্চলের মধ্যে ঢুকে বনের গাছপালা কেটে সেখানেই বসবাস শুরু করে। বনাঞ্চলে বসবাস করার উদ্দেশ্যে ছিল সহজে খাবার সংগ্রহ করা।

তখন ওই বনের কোন নাম ছিল কিনা তা কারও জানা ছিল না। থাকলেও রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন তার নাম জানত না। যার ফলে সাগর পাড়ি দিয়ে ওই স্থানে বসবাস শুরু করায় রাখাইন ভাষায় তারা বনের নামকরণ করে কানশাই। কানশাই শব্দের বাংলা অর্থ হচ্ছে ভাগ্যকুল। কিন্তু রাখাইন লোকজন এখানে বসবাস করলেও তাদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় খাবার পানি। সাগরের পানি লবণাক্ত হওয়ায় সেই পানি খাওয়ার উপযোগী ছিল না। এ জন্য রাখাইনরা নিজ উদ্যেগে বিশাল একটি কুয়া খনন করে মিঠা পানি পান করার জন্য। মিঠা পানির কুয়ার নামানুসারে নামকরণ হয় কুয়াকাটা। রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন কুয়ার মিঠা পানি শুধুমাত্র পান করত। বাকি কাজ করতো সাগরের পানি দিয়ে।রাখাইনরা এখানে মগ নামে পরিচিত ছিলো।তবে তারা মগ বলে অস্বীকার করেন।মগ হল একপ্রকার জলদস্যু।একসময় পটুয়াখালী অঞ্চলে জলদস্যু ছিলো।রাখাইনরা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী। রাখাইনরাই কুয়াকাটা আবিষ্কার করেন। বর্তমানে কুয়াকাটায় মুসলমানের অধিপত্য বেশি থাকলেও রাখাইনরা এখনও বসবাস করছে।

চলবে…………………

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “রাখাইনদের এদেশে আগমনের ইতিহাস (প্রথম পর্ব)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 6 =