CP গ্যাং: কালপুরুষ, আসল পুরুষের অক্লান্ত স্পাইগিরি এবং ক্লান্ত কালবৈশাখি

CP গ্যাং জিনিসটা প্রথম দেখেছিলাম, মহামান্যের প্রোপিকে। জিনিসটা কী, না বুঝলেও খুব বেশি আগ্রহ বোধ করি নি।

শুক্রবার কলেজ থেকে ফিরে ইস্টিশনে লগ ইন করতেই দেখি, পুরো প্লাটফর্ম ভরে CP গ্যাং, হ্যান ত্যান। দু’টো পোস্ট পড়ে বুঝলাম, কোন এক কালপুরুষ ইস্টিশনের সদস্য হওয়ার সাথে সাথে তার অসামান্য স্পাইগিরির নমুনা রেখে একটা পোস্ট করেছে, “সিপি গ্যাং। আওয়ামী গ্যাং। চটি গ্যাং” শিরোনামে। জংশনে তাকিয়ে দেখি, সেটা সবার আগে উপস্থিত। ঢুকলাম। দেখলাম CP গ্যাং এর বিস্তারিত লিক নিয়ে সুবিশাল ব্লগ পোস্ট যা আইজুকে নিয়ে স্পাইয়িংকেও হার মানায়। উনি সেখানে অন্তপ্রাণ প্রচেষ্টা করেছেন, CP গ্যাংকে নিয়ে বিষেদাগার করার। বেশ! ভাল কথা। আমি CP গ্যাং এর সদস্য না। তাই সেটা নিয়ে যে যা খুশি করুক, আমার কিছু আসে যায় না।

গতকাল শনিবার আবার কলেজ শেষ করে ফেসবুকের নোটিফিকেইশনগুলো চেক করে ইস্টিশনে ঢুকেই দেখি আর একটা ব্লগপোস্ট, “CP গ্যাং কালপুরুষ এর আসল কাহিনি পেশ করছেন আসল পুরুষ” শিরোনামে। বেশ! ইস্টিশন আরও একজন দুর্দান্ত বাচ্চা স্পাই পেল। কেন বাচ্চা স্পাই বলেছি, সবাই ই আশা করি বুঝেছেন। যারা বোঝেন নি, তাদের পরে বোঝাচ্ছি।

যাই হোক, দ্বিতীয় পোস্টের মূলভাব এমন, CP গ্যাং এর লিকার হচ্ছে, প্রখ্যাত ব্লগার মহামান্য। যেহেতু পুরো ঘটনাটাই আন্তর্জালের, তাই প্রমানের মূখ্য উপাদানই হচ্ছে স্কিনশট। ঠিক এই জায়গটাতেই আমার খটকা লাগল।

লিকার যে মহামান্য তার স্বপক্ষে আসল পুরুষের মূল প্রমানই হচ্ছে সদস্যদের লিস্টের স্কিনশট যেখানে মহামান্যের নাম প্রথমে দেখা যাচ্ছে। স্কিনশটটা নিম্নরূপ:

মূল খটকাটা লাগল এখানেই। কালপুরুষের পোস্টটা দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবে, সে এই বিষয়ে বেশ দক্ষ। তাহলে এত বড় ভুল কি সে করতে পারে? যে স্কিন শট নেয় তার ছবি যে সবার উপরে থাকে সেটা কী সে জানে না??? নিচের ছবিটি দেখি:

এখন শুনুন। মন দিয়ে শুনুন। সবার আগে যে নিকটা দেখা যাচ্ছে, অর্থাৎ “পারভেজ এম রবিন” সেটা হচ্ছি আমি। এবং অত্যান্ত দুঃখের কিংবা আনন্দের বিষয় আমি CP গ্যাং এর কোন সদস্যই নই। কী ভাবছেন? হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন। না, পুরোটা ঠিক ধরেন নি। ফটোশপ ভাবছেন? নাহ! এটা করতে ফটোশপও লাগে না। Microsoft Paint হলেই চলে। অর্থাৎ, কম্পিউটার চালায় এমন যে কেউই এমন একটা ছবি তৈরি করতে পারে। সুতরাং, এটা খুব সহজেই করা যায় যে, মহামান্যের নিকটা কালপুরুষ নিচ থেকে কেটে এনে ওপরে লাগিয়ে দিয়েছে, যেন তাকে কেউ ধরতে না পারে। হ্যাঁ, এটা ঠিক অন্য অংশগুলোর থেকে আমার নাম স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এর কারণ, আমি সবসময় হাই রেজ্যুলিউশন ইমেইজ নিয়ে কাজ করে অভ্যস্ত। আর যিনি স্কিন শট নিয়েছেন তিনি জেনারেল রেজ্যুলিউশন। পুরো কাজটা যদি আমি করতাম, তাহলে পুরো ইমেইজটা একই রকম লাগত।

আসল পুরুষের মূল প্রমান ছিল এটাই। কিন্তু, গ্রুপ মেম্বারদের স্কিন শট নিতে গেলে নিজের নাম দুই বা তিনেও থাকে কখনও সখনও। তাই আসল পুরুষের প্রথম স্কিনশটে নিশ্চিত ভাবে বলা যেত না যে মহামান্যই কালপ্রিট। তাই সে দ্বিতীয় আর একটা স্কিনশটের সাহায্য নেয়।

এই স্কিনশটের স্বপক্ষে আসল পুরুষের বক্তব্য হচ্ছে, তার প্রথম স্কিনশটে দেখা যাচ্ছে, মহামান্যের নিক সবার আগে আবার এই স্কিন শটে Unfollow অপশন আছে বলে ধরে নেয়া যায়, এই পোস্টে স্কিনশট যে নিয়েছে তার অ্যাকটিভিটি আছে। আর মহামান্যের অ্যাকটিভিটি এখানে বিদ্যমান। কিন্তু, প্রথম স্কিনশটই যেখানে অর্থহীন প্রমানিত হয়েছে, সেখানে এটা দিয়ে কিছুই প্রমান করা যায় না। কেননা, এই পোস্টে অ্যাকটিভিটি আছে, তাপস সরকার, রাসেল রহমান, মহামান্য কহেন, সুমন চট্টগ্রাম, বেলের কাঁটা, প্রীতম দাস এদের সবারই।

সুতরাং, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, কালপুরুষ তথা লিকার যে মহামান্য এর স্বপক্ষে আসল পুরুষের কোন যুক্তিই ধোপে টেকে না। অর্থাৎ, নিশ্চয়তা দিয়ে কখনই বলা যায় না, “সিপি গ্যাং। আওয়ামী গ্যাং। চটি গ্যাং” পোস্টটি মহামান্যই করেছেন।

এখন আসি আসল কাহিনী কী? বেশকিছু সম্ভাব্যতা আমার মাথায় এসেছে। যে কোনোটি সত্যি হতে পারে। তবে কোনটি সত্য তা নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায় না।

১. লিকার সত্যিই “মহামান্য”।

২. নতুন ব্লগ ইস্টিশনকে খুব দ্রুত হিট খাওয়ানোর জন্য, বিতর্কিত পোস্টের চেয়ে ভাল কিছু নেই।

৩. এটা CP গ্যাংকে হিট খাওয়ানোর কৌশল।

৪. ব্যাক্তিগত আক্রোশ থেকে কেউ মহামান্যকে ফাঁসাতে চাইছে। এটি সত্যি হলে ধরে নিতে হয়, দুই পুরুষ(কালপুরুষ ও আসল পুরুষ) আসলে একই পুরুষ।

আর আমি কখনই বলছি না যে, কাজটা মহামান্য করে নি। হ্যাঁ, হয়তো কাজটা সে করে থাকতে পারে। কিন্তু, তার বিরুদ্ধে যে প্রমানগুলো দেখানো হয়েছে, তা তাকে দোষী সাব্যাস্ত করতে যথেষ্ট না। আর CP গ্যাং এর রুলসে খুব ভালভাবে বলা হয়েছে, লিকারকে ভার্চুয়ালি গণধর্ষণ করে মেরে ফেলা হবে। অনিশ্চিত প্রমান নিয়ে এত বড় অ্যাকশন নেয়া কী ঠিক হবে? তবে, CP গ্যাং এর মেম্বারদের কাছে আরও প্রমান থাকতে পারে। হয়তো, তারা প্রাইভেসির স্বার্থে তা প্রকাশ করবে না। যদি থাকে, তাহলে সেগুলো দিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিক।

যাই হোক না কেন, এটা অনলাইন কমিউনিটির জন্য মোটেও সুখকর কিছু নয়। যা অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তাতে FBI ক’দিন পর থেকে ফেসবুক আর ব্লগ থেকেই রিক্রুট করবে। ২/৩ দিন আগে জন্মানো নিক আসল পুরুষ আর কালপুরুষ। এই বাচ্চাকাচ্চারা যে ভেলকি দেখায় তাতে একেবারে তাজ্জব হয়ে যেতে হয়। আফসুস! ১০ দিন বয়সের নিক ক্লান্ত কালবৈশাখি তা পারে না… :থাম্বসডাউন: :থাম্বসডাউন: :থাম্বসডাউন: :থাম্বসডাউন: :থাম্বসডাউন:

পরিশেষে বলব, আমি CP গ্যাং এর সদস্য নই। আমি তাদের লক্ষ্যকে সমর্থন করলেও তাদের কর্মপন্থাকে সমর্থন করি না। সুতরাং, তাদের বিষয়ে আমি নিরপেক্ষ। পোস্টটাকে সেভাবে দেখলেই ভাল হয়।

===============================================================
বিশেষ দ্রষ্টব্য: CP গ্যাং নিয়ে যে নোংরা কাঁদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে ইস্টিশনে, তা এখনই বন্ধ করা দরকার। অন্যথায় ইস্টিশন কখনই তার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে পারবে না। ইস্টিশনে মাস্টারের প্রতি অনুরোধ থাকল, অবিলম্বে ইস্টিশন হতে CP গ্যাং সম্পর্কিত সকল পোস্ট(এই পোস্ট সহ) যেন ইস্টিশন হতে মুছে ফেলা হয়।
===============================================================

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “CP গ্যাং: কালপুরুষ, আসল পুরুষের অক্লান্ত স্পাইগিরি এবং ক্লান্ত কালবৈশাখি

  1. কাল একবার বলেছিলাম বিষয়টা।
    কাল একবার বলেছিলাম বিষয়টা। একদিন অন্তর একদিনের তফাতে যেভাবে কালপুরুষ আর আসল পুরুষ পয়দা হলো, তাতে মনে হচ্ছে পুরো খেলাটা সাজানো। আপনি আরেকটু খোলাসা করে দিলেন।
    এখন আমিও কিছু সম্ভাব্যতার কথা বলি।
    ১.) মহামান্যকে ফাঁসানো হইছে। তিনি সম্ভবত ওই গ্রুপের কারো কথা শুনেন নাই বা ওদের সঙ্গে ক্যাচালে জড়াইছেন।
    ২.) ইস্টিশন ব্লগের উত্থানটা আকর্ষণীয়। কারো জন্য বিশেষতই ঈর্ষার। ব্লগকে জামাতি বা চাইনিজ বাম ট্যাগ দিতে এই আয়োজন।
    ৩.) এটা একটা আইওয়াশ গেম। এর আড়ালে বড় কোনো পরিকল্পনা কাজ করছে।

    1. হুম। মূল ঘটনা অনেক কিছুই হতে
      হুম। মূল ঘটনা অনেক কিছুই হতে পারে। হুট করে কোন কিছু বিশ্বাস করা ঠিক হবে না। আমাদের প্রতিটি বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা দরকার…

  2. অনলাইনে নোংরামীর সীমা ছাড়িয়ে
    অনলাইনে নোংরামীর সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কোন সভ্য মানুষ ভবিষ্যতে অনলাইনে থাকবে কিনা সন্দেহ আছে। অবশেষে অনলাইন ছেড়েই দিতে হবে বলে মনে হচ্ছে! এসব রিভার্স গেইমের মানে কি? বুঝতে বিশাল কিছু হতে হয়না। কিছু দিন আগে ডাঃ আইজুকে নিয়ে যে নোংরামী দেখেছি, এখন মহামান্য, কাল যে আমাকে নিয়ে এই ধরনের ঘৃন্য নোংরামী হবেনা তার কি গ্যারান্টি আছে??????

    এসব কারণে এখন ফেসবুকেও তেমন একটা একটিভ থাকিনা। ব্লগেও কম আসি। শেষ পর্যন্ত নিজের মান-সম্মান বাঁচানোর জন্য হলেও অনলাইন থেকে চির বিদায় নিতে হবে বলে মনে হচ্ছে।

    1. আইজু অনলাইন ছেড়ে চলে গিয়েছিল।
      আইজু অনলাইন ছেড়ে চলে গিয়েছিল। শুনছি মহামান্য না’কি দেশ ছেড়ে যাবে। তারা আক্রান্ত হয়েছেন।

      কিন্তু, আপনার যদি তার আগেই চলে যান, তাহলে আমাদের কী হবে??? আমাদের মত নতুনদের আশা দেখাতে তো কাউকে দরকার…

  3. ব্লগোস্ফিয়ারে নোংরামী প্রচুর
    ব্লগোস্ফিয়ারে নোংরামী প্রচুর দেখে আসছি । এককথায় অসহ্য । ইস্টিশনকে এতোদিন পর্যন্ত ভদ্রই লাগছিল । এখন বোধহয় আর সেই ভদ্রতাবোধ ধরে রাখা সম্ভব নয় ।

    1. দেখা যাক। তবে উন্নতির গ্রাফটা
      দেখা যাক। তবে উন্নতির গ্রাফটা ধরে রাখতে হলে মডারেশনকে এই ব্যাপারে আরও কঠোর হতে হবে…

  4. এই নোংরামির শেষ কোথায়? কোথায়
    এই নোংরামির শেষ কোথায়? কোথায় নিয়ে দাঁড় করাচ্চগি আমরা আমাদের অনলাইন কালচার? অনেকের আচরণ দেখলে মনে হয়, তাদের কাছে বাস্তব জীবনের চেয়েও ভার্চুয়ার লাইফ বেশী গুরুত্ব রাখে।

    ইস্টিশনকে আমরা সুস্থ্য ব্লগিং এর প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই দেখতে চাই। ভবিষ্যতে গালিগালাজের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।

  5. cp মানে কি চুদির পোলা গ্যাং ?
    cp মানে কি চুদির পোলা গ্যাং ? লাইত্থায়া পায়ু পথের আশপাশের চামড়া উঠায়া দেন ওগুলারে খুইজা বাইর কইরা |

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 50 = 52